হয় প্রধানত দীর্ঘস্বরের দৈর্ঘ্য, হ্রস্বস্বরের হ্রস্বতা, ঝ, ৯, ও ষ লইয়া। সব কয়টির আলোচনা এক কলমে ধরাইবার মতো কলমের জোর অধমের নাই। উপস্থিত য লইয়া আলোচনা করিব, পরে প্রয়োজন হইলে অন্যান্যগুলির হইবে। ষ যে খ নয় সে বিষয়ে তর্ক করিবার কোনও প্রয়োজন নাই। কিন্তু ষ-এর উচ্চারণ কেন খ হইল তাহার আলোচনা করিলে মূল ষ-এর কিঞ্চিৎ নির্দেশ পাওয়া যায়। প্রথম দ্রষ্টব্য ষ স্থলে বিদেশি পণ্ডিত যখন খ বলেন, তখন তাহারা দুই দলে বিভক্ত; কেহ কেহ উচ্চারণ করেন পরিষ্কার খ অর্থাৎ ক বর্গের মহাপ্রাণ খ এবং কেহ কেহ উচ্চারণ করেন ঘর্ষণজাত আরবির খ— কাবুলিরা যেরকম খবর বলে, স্কচরা যেরকম লখ LOCH বলে, জর্মনরা যেরকম BACH বলে। এই দ্বিতীয় খ উচ্চারিত হয় পণ্ডিত যখন ষ-কে শ হইতে পৃথক করিবার জন্য অত্যধিক উল্কণ্ঠিত হইয়া জিহ্বা মূর্ধা হইতে সরাইয়া আরও পশ্চাৎ দিকে ঠেলেন। এই কারণেই আর্যভাষা পশতুতেও তাহা দেখা যায়– কেহ বলে পশুতু, কেহ বলে পখতু, কেহ বলে পেশাওয়ার, কেহ বলে পেখাওয়ার। এই কারণে জর্মনে Becher-এর ch ষ-এর মতো, অথচ Bach-এর ch আরবি খ-এর ন্যায়। ষ-কে এইজাতীয় খ করা অবশ্য ভুল, আমি মাত্র কারণটি ও নজিরগুলো দেখাইলাম। কিন্তু ষ-এর আসল শুদ্ধ উচ্চারণ সম্বন্ধে মতানৈক্য হওয়া অনুচিত। অত্যধিক উল্কণ্ঠিত (উভয়ার্থে) না হইয়া মুখগহ্বরের যে স্থল অর্থাৎ মূর্ধা হইতে ট, ঠ, ড, ঢ ও পরে ওই স্থলে য বলিলে মূর্ধণ্য য বাহির হইবে।)
উচ্চারণ
বাঙালির সংস্কৃত উচ্চারণের কৈফিয়ৎ দিয়াছেন হিন্দুস্থান পার্ক হইতে শ্রীআচার্য। তাহার বক্তব্য কোনও ভাষা আয়ত্ত করিতে হইলে তার সাহিত্য, ব্যাকরণ এবং ধ্বনিতত্ত্বে পারদর্শী হওয়া বাঞ্ছনীয় সন্দেহ নাই। আমাদের মতের সঙ্গে আচার্য মহাশয়ের মতে মিলিল কিন্তু তিনি বলিতেছেন—
