উচ্চারণ

« <
/ 8
> »

উচ্চারণে অসম্পূর্ণতা থাকিয়া যায়, তাহাতে কোনও পণ্ডিত ব্যক্তির লজ্জা পাওয়ার কোনও কারণ আছে বলিয়া মনে করি না।

আচার্য মহাশয় তাহার চিঠিতে নিজের কোনও উপাধির উল্লেখ করেন নাই, অথচ পত্রখানি গভীর, পাণ্ডিত্যে পূর্ণ। তাই প্রতিবাদ করিতে সাহস পাইতেছি না, অথচ উপরের নীতিটি এতই বিপজ্জনক যে, নিতান্ত অনিচ্ছায় করিতেছি। কারণ যদি এই নীতিই অনুসরণ করিতে হয়, তবে বলিতে হইবে যেহেতু আমরা বাঙালি, আমাদের জাতীয় অভ্যাসের প্রতিকূল হয় তাই আমরা F ও ফয়ের তফাৎ করিব না, th-এর শুদ্ধ উচ্চারণ শিখিব না, কুরান বঙ্গীয় ইসলামি কায়দায় পড়িব, মন্দাক্রান্তার দীর্ঘ না মানিয়া উদয়াস্ত কালিদাসকে জবাই করিব। এই নীতি আরও অনুসরণ করিয়া বলিব, আমরা বাঙালি, বাঙলা ভাষার লিঙ্গ নাই, সংস্কৃত লিখিবার সময় লিঙ্গভেদ করিব না। দ্বিবচন মানিব না; হিন্দি বলিবার সময় একঠো, দুইঠো করিব, গাড়ি আতা হৈ বলিব– এক কথায় জাতীয় অভ্যাসের দোহাই দিয়া বিজাতীয় কোনও ভাষাই তাহার স্বরূপে গ্রহণ করিব না; সুকুমার রায়ের হ য ব র ল-য়ের দর্জির ৩২ ইঞ্চি ফিতা দিয়া মাপিলে যেমন সবকিছু ৩২ ইঞ্চি হইয়া যাইত। আমাদের জাতীয় অভ্যাসের বকযন্ত্রে চোলাই করা সর্ব উচ্চারণ শুদ্ধ একহল হইয়া বাহির হইবে তাহার বর্ণগন্ধ থাকিবে না।
লজ্জা বা শ্লাঘার কথা হইতেছে না; অভ্যাসটি বাঞ্ছনীয়। বেদমন্ত্র ঠিক কী প্রকারে উচ্চারিত হইত জানি না, কিন্তু চেষ্টা তো করিতে হইবে জানিবার জন্য। সেই চেষ্টাতেই তো
পণ্ডিতে ও আমাদের মতো সাধারণ লোকের তফাৎ। যুক্তপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র, মদ্র, গুর্জর পার্থক্য সত্ত্বেও একটি (norm) মানিয়া লইয়াছেন, নিরপেক্ষ ইউরোপীয় পণ্ডিতগণও সেটি স্বীকার করিয়া লইয়াছেন– তবে আমাদের কর্তব্য কী?
আচার্য মহাশয় ভুল উচ্চারণ চাহেন না, কিন্তু তাঁহার মতো পণ্ডিত যদি সে উচ্চারণের সপক্ষে এককাড়ি অজুহাত দেন, তবে আমাদের মতো সরল লোক জাতীয় অভ্যাসের

« <
/ 8
> »