অধ্যাপক, সংস্কৃত কলেজ। পাঠক বুঝিতে পারিতেছেন, এহেন পণ্ডিতের সঙ্গে উচ্চারণ সম্বন্ধে আমি আলোচনা করিতে পারি, কিন্তু তর্ক করিবার মতো যুগ্ম মস্তক স্কন্ধে নাই। কিন্তু সৌভাগ্যক্রমে শাস্ত্রী মহাশয়ের শেষ বাক্য আমাদের মতের সঙ্গে মিলিয়া গিয়াছে বলিয়া তর্কাতর্কির বিশেষ প্রয়োজন হইবে না। তাঁহার শেষ বাক্য সকল কথার পর তবুও স্বীকার্য যে, বাঙালির সংস্কৃত উচ্চারণ ত্রুটিপূর্ণ, কিন্তু তাহার পূর্বে সকল কথার মাঝখানে শাস্ত্রী মহাশয় এমন কথাও তুলিয়াছেন যেখানে অধম কিঞ্চিৎ প্রগলভতা প্রকাশ করিবে। শাস্ত্রী মহাশয় এবং অন্যান্য সহৃদয় পত্রপ্রেরকও দর্শাইয়াছেন যে, অবাঙালি সংস্কৃত পণ্ডিত ষ ও খতে পার্থক্য রাখেন না। কিন্তু তাহা হইতে কী সপ্রমাণ হয় ঠিক পরিষ্কারভাবে বুঝাইয়া বলেন নাই। ব্যঞ্জনায় বুঝিতেছি শাস্ত্রী মহাশয়ের বলার উদ্দেশ্য যে, যেহেতুক অবাঙালি পণ্ডিতও ঠিক ঠিক উচ্চারণ করিতে পারেন না, তবে বাঙালিরই-বা দোষ কী?
উচ্চারণ
ইহার উত্তরে বক্তব্য এই যে, মারাঠি, দ্রাবিড় ও কাশীর পণ্ডিত যখন সংস্কৃত উচ্চারণ করেন, তখন প্রাদেশিক বৈশিষ্ট্যবশত কিছু কিছু পার্থক্য তাহাদের উচ্চারণের মধ্যে থাকে। ওইসব পণ্ডিতের একে অন্যের উচ্চারণে যে পার্থক্য তাহা যেন একইরঙের পৃথক পৃথক ফিকা ভাব অথবা গাঢ়। বাঙালির উচ্চারণ যেন সম্পূর্ণ ভিন্ন রঙ। দক্ষিণের আইয়ার হয়তো যতটা দীর্ঘ করিলেন, উত্তরে কাশীবাসী হয়তো ততটা করিলেন না। এবং শেষ পর্যন্ত বাঙালি যে অত্যন্ত পৃথক কিছু উচ্চারণ করে তাহা এই তথ্য হইতে সপ্রমাণ হয় যে, আইয়ার, নষুদ্ৰী, চিতপাবন, দেশ, করাঢ় (এমনকি মহারাষ্ট্রের দেশস্থ ও ঔপনিবেশিক দ্রাবিড়স্থ), উদীচী, ভার্গব, নাগর ব্রাহ্মণ সম্প্রদায়গণ ও তাঁহাদের শিষ্য ব্রাহ্মণগণও একে অন্যের উচ্চারণের পার্থক্য লইয়া ঈষৎ আলোচনা করিয়া একটি সাধারণ রূপ বা নর্ম (norm) স্বীকার করেন, কিন্তু বাঙালির উচ্চারণ যে সম্পূর্ণ পৃথক এবং পরস্পর-বিরোধিতায় কণ্টকাকীর্ণ সে সম্বন্ধে কোনও সন্দেহ প্রকাশ করেন না।
