উচ্চারণ

« <
/ 8
> »

মতো।

দুইজনেরই অনুবাদ ও টীকা নৈরাশ্যজনক। প্রভু ইসা (খ্রিস্ট) ও হাওয়ারিগণের বর্ণনা বাঙলার মুসলমান কী প্রকারে বুঝিবে, তাহাতে যদি বেশ কিছুদিন ধরিয়া প্যালেস্টাইনের ইতিহাস ও ভূগোল না শোনানো হয়। সকলেই তো শূন্যে ঝুলিতে থাকিবেন ও শাস্ত্র শোনা হইবে বটে, কিন্তু বোঝা বা আলোচনা তো হইবে না।
শাস্ত্ৰ-পাঠক যে ঊর্ধ্বশ্বাসে অনুবাদ ও টীকা করিয়া গেলেন তাহাতে আমার মতো মূর্খ কিছুই বুঝিতে পারিল না। টোলে কৃতবিদ্য ছাত্রকে যে ধরনে দ্রুতগতিতে টীকা শোনানো হয়, ইহার অনেকটা তাই। সাধারণ বাঙালি ধৰ্মতৃষিতকে আরও সরল, আরও সহজ করিয়া না বুঝাইলে টীকাদান পণ্ডশ্রম হইবে।
কারী সাহেব ও শাস্ত্রী মহাশয়ের নিন্দা করা আমাদের উদ্দেশ্য নহে; আমরা জানি তাহারা যে কোনও মসজিদ-মাদ্রাসা, যে কোনও টোল-চতুম্পাঠীতে সম্মান ও আদর পাইবেন– আমরাও দিব। কিন্তু অল ইন্ডিয়া রেডিওর উচিত আরও ভালো আরও উত্তম, এক কথায় সর্বোত্তম কারী সর্বোত্তম শাস্ত্ৰপাঠক আনয়ন করা। ইংরেজিতে বলে, সর্বোত্তম উত্তমের শত্রু।
তাবৎ বাঙলা ও কিছু কিছু বিহার উড়িষ্যা আসামকে সপ্তাহের পর সপ্তাহ যে উচ্চারণ পরিবেশন করা হয় তাহার জন্য রেডিওকর্তার দায়িত্বজ্ঞান ও বিবেকবুদ্ধি অনেক বেশি হওয়া উচিত ও তাহাদিগকে অনেক পরিশ্রম করিয়া সর্বোত্তম কারী-শাস্ত্রী সন্ধান করা উচিত। অথবা অর্থব্যয় করিয়া উপযুক্ত লোক প্রস্তুত করা উচিত।
শুনিয়াছি মিশরের কারী রেফাৎ রমজান মাসে কোরান পাঠের জন্য ১৩০০ টাকা পারিশ্রমিক পান; কাইরো কলকাতা অপেক্ষা ধর্মপ্রাণ একথা কে বলিবে?
সর্বশেষে বক্তব্য, পাঠক যেন না ভাবেন, মন্দ উচ্চারণে আমরাই একা। আর্যসভ্যতার অন্য প্রান্ত অর্থাৎ ইংলন্ডের অবস্থাও তাই। সেখানে বড় বড় পণ্ডিতদের লাতিন উচ্চারণ শুনিলে কানে আঙুল দিতে হয়। তবে ইংলন্ডে উচ্চারণ শুদ্ধ করিবার জন্য জোর আন্দোলন চলিতেছে, এদেশে–থাক সে কথা।
০২.
উচ্চারণ সম্বন্ধে আলোচনায় যোগ দিয়াছেন শ্ৰীযুত মুখোপাধ্যায়, কাব্য ব্যাকরণস্মৃতিতীর্থ, সাহিত্যশাস্ত্রী, ভূতপূর্ব

« <
/ 8
> »