জানি না, কিন্তু তাহারা যে কান দিয়া শুনেন সে বিষয়ে সন্দেহ নেই। এক বৃহৎ মুসলমান পরিবারে লক্ষ করিয়াছি, বুড়া কর্তারা রেডিয়োটা দুই চক্ষে দেখিতে পারেন না, দুই কানে শুনিতে পারেন না। তাহাদের বিশ্বাস ইসলামে সঙ্গীত অসিদ্ধ ও ওই যন্ত্রটি সেইসব শয়তানি জিনিস লইয়া কারবার করে, ছোকরাদের বিগড়াইয়া দেয়। অথচ শুক্রবার সকালবেলা দেখি গুঁড়িগুড়ি রেডিওঘরের দিকে চলিয়াছেন তাবৎ বুড়াবুড়িরা। আধ ঘণ্টা পূর্ব হইতে কলকাতা ছাড়া অন্য কোনও বেতারকেন্দ্রে রেডিয়ো জুড়িবার উপায় নাই। তার পর মুদ্রিত চক্ষে ভক্তিরসে পরিপূর্ণ হৃদয়ে অতি নীরবে কোরান পাঠ শ্রবণ করেন। অনুবাদ ও টিপ্পনী কেহ শোনেন, কেহ শোনেন না।
উচ্চারণ
এই সব বৃদ্ধ-বৃদ্ধার প্রতি কলকাতা কেন্দ্রের কর্তব্য আছে।
যে কারী সাহেব কোরান পাঠ করিলেন, তাহার উচ্চারণ সাধারণ বাঙালি কারী অপেক্ষা ভালো সন্দেহ নাই। তাঁহার দীর্ঘ-হ্রস্ব দুরস্ত, তাঁহার আইন কাফ হে ঠিক, কিন্তু তাঁর সে জাল ও দ্বাদ (4, ৯, ১৫) বারে বারে দুঃখ দেয়, বিশেষ করিয়া সে ও জাল, কারণ ইজা (যখন) ও সুম্মা (তৎপর) দুইটি কথা আরবিতে এবং সর্বভাষাতেই ঘন ঘন আসে।
কারী সাহেবের বাঙলা উচ্চারণে আরবির গন্ধ পাওয়া যায়– পাদ্রি সাহেবের বাঙলাতে যেরকম ইংরেজি গন্ধ আমাদিগকে পীড়িত করে আমরা বাঙলায় বলি যখন (যখোন), কারী সাহেব বলেন, য্যখ্যন যেন য ও খ-র ভিতরে আরবি আকার বা জবর রহিয়াছে।
শাস্ত্র যিনি পাঠ করিলেন তাহার উচ্চারণ সাধারণ বাঙালি অপেক্ষা শতগুণে ভালো সন্দেহ নাই কিন্তু কোনও মারাঠি বা যুক্তপ্রদেশীয় পণ্ডিত সে উচ্চারণের প্রশংসা করিবেন না। তাহার প্রধান কারণ যে শাস্ত্ৰ-পাঠকের হ্রস্ব-দীর্ঘ যথেষ্ট পরিমাণে হ্রস্ব ও যথেষ্ট পরিমাণে দীর্ঘ নহে। হ্রস্ব-দীর্ঘে তিনি এত সামান্য পৃথক করেন যে, বানান জানা সত্ত্বেও কানে ঠিক ঠিক বাজে না। তাঁহার বাঙলা উচ্চারণও পণ্ডিতি অনেকটা কথক-ঠাকুরদের
