আদ-দু‘আ

« <
/ 54
> »

ভুমিকা

১. আল্লাহর রহমত ও অনুগ্রহের প্রার্থনা

ইব্রাহিম ও মুজাহিদ (রাহ.) থেকে বর্ণিত: একদা এক মরুচারী বেদুইন রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর দরবারে হাজির হয়ে নিজের ক্ষুধার তীব্র কষ্টের কথা জানালেন। আল্লাহর রাসুল ﷺ খাবারের খোঁজে ঘরের ভেতর গেলেন, কিন্তু কিছুক্ষণ পর ফিরে এসে (সহানুভূতির স্বরে) বললেন, ‘‘মুহাম্মদের পরিবারে এই মুহূর্তে তোমাকে খাওয়ানোর মতো কোনো খাবার আমি খুঁজে পেলাম না।”

এমতাবস্থায়, উপস্থিত সাহাবীদের একজন একটি আস্ত ভুনা করা বকরি এবং অন্যজন এক পাত্র ‘সারীদ’ (ঝোল ও রুটির মিশ্রিত বিশেষ খাবার) নিয়ে আসলেন। খাবারটুকু লোকটির সামনে রাখা হলে আল্লাহর রাসুল ﷺ তাকে বললেন, “আহার করো।”

লোকটি তৃপ্তিভরে খেলেন। খাওয়া শেষ হলে তিনি বললেন, “হে আল্লাহর রাসুল! আমি অত্যন্ত ক্ষুধার্ত ছিলাম, আপনার কাছে আসার পর আল্লাহ আপনার মাধ্যমেই আমার এই রিজিকের ব্যবস্থা করে দিলেন। কিন্তু কখনো যদি আমি আবার এমন সংকটে পড়ি আর আপনার সান্নিধ্যে না থাকি, তবে আমি কী করব?”

রাসুলুল্লাহ ﷺ বললেন, “তখন তুমি এই দোয়াটি পড়বে—

اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ مِنْ فَضْلِكَ وَرَحْمَتِكَ، فَإِنَّهُ لَا يَمْلِكُهَا إِلَّا أَنْتَ

বঙ্গানুবাদ: হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে আপনার অনুগ্রহ ও করুণা প্রার্থনা করছি। কারণ, আপনি ছাড়া আর কেউ এর মালিক নয়।

 

মনে রেখো, আল্লাহ নিশ্চয়ই তোমার রিজিকের ব্যবস্থা করে দেবেন।”

 

২. পৃথিবী দেখার সঠিক দৃষ্টিভঙ্গি

আবু আল-গুসাইন আত-তায়ী (রাহ.) থেকে বর্ণিত: রাসুলুল্লাহ ﷺ একবার সালাত আদায় করছিলেন। সালাতরত অবস্থায় তিনি পেছন থেকে এক ব্যক্তিকে অত্যন্ত আকুতি নিয়ে দোয়া করতে শুনলেন। লোকটি বলছিলেন: “হে আল্লাহ! আপনি দুনিয়াকে যেভাবে দেখেন, আমাকেও তা সেভাবেই দেখান।”

সালাত শেষ করে আল্লাহর রাসুল ﷺ জিজ্ঞেস করলেন, “এই দোয়াটি কে করছিলে?”

লোকটি বিনয়ের সাথে উত্তর দিলেন, “আমি, হে আল্লাহর রাসুল।”

 রাসুলুল্লাহ ﷺ তাকে সংশোধন করে দিয়ে বললেন, “আল্লাহ দুনিয়াকে ঠিক সেভাবে দেখেন না যেভাবে তুমি দেখছো (অর্থাৎ সাধারণ মানুষের কাছে দুনিয়া যেভাবে ধরা দেয়, আল্লাহর দৃষ্টিতে তার কোনো তুচ্ছ মূল্য নেই)। তুমি যদি প্রার্থনা করতেই চাও, তবে এভাবে বলো—

اللَّهُمَّ أَرِنِي الدُّنْيَا كَالَّذِي يَرَاهَا صَالِحُو عِبَادِكَ”

বঙ্গানুবাদ: হে আল্লাহ! আপনার নেককার বান্দারা দুনিয়াকে যে (অস্থায়ী ও তুচ্ছ) দৃষ্টিতে দেখেন, আমাকেও তা সেভাবেই দেখার তৌফিক দিন।”

 

৩. রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর দয়া ও

« <
/ 54
> »