উম্মতের প্রতি মমতা
হাসান (রাহ.) থেকে বর্ণিত: নবী কারিম ﷺ-এর পরিবারের কোনো এক নারীর জিম্মায় একজন যুদ্ধবন্দী ছিল। ঘটনাক্রমে সেই বন্দী পালিয়ে যায়। খবরটি শুনে রাসুলুল্লাহ ﷺ (কিছুটা আক্ষেপ বা রাগের স্বরে) বলে ফেললেন, “ওর কী হলো! আল্লাহ তার হাত কেটে দিন।”
পরবর্তীতে সেই নারী যখন বিষয়টি জানতে পারলেন, তখন তিনি নিশ্চিত হয়ে গেলেন যে রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর বদদোয়ার কারণে তার হাত সত্যিই কেটে যাবে। ভয়ে ও আকুতিতে তিনি আকাশের দিকে হাত তুলে দোয়া করতে লাগলেন। বিষয়টি নবীজি ﷺ-এর কানে পৌঁছালে তিনি পরম মমতায় তাকে অভয় দিয়ে বললেন, “হে নারী, হাত নামিয়ে নাও। আল্লাহ তোমার হাত কাটবেন না।”
এরপর রাসুলুল্লাহ ﷺ আল্লাহর দরবারে কাতর হয়ে আরজ করলেন:
اللَّهُمَّ إِنَّمَا أَنَا عَبْدٌ، فَأَيُّمَا عَبْدٍ مُسْلِمٍ، أَوِ امْرَأَةٍ مَسْلَمَةٍ، دَعَوْتُ عَلَيْهِ بِدَعْوَةٍ، فَاجْعَلْهَا لَهُ صَلَاةً وَبَرَكَةً
বঙ্গানুবাদ: “হে আল্লাহ! আমি তো শুধুমাত্র একজন বান্দা। অতএব আমি কোনো মুসলিম বান্দা বা মুসলিম নারীর বিরুদ্ধে যে কোনো দোয়া (অভিশাপ) করে ফেলি, তুমি তা তার জন্য রহমত ও বরকতে পরিণত করে দাও।”
৪. বিচার দিবসের স্লোগান
মুগিরা ইবনে শুবা (রা.) থেকে বর্ণিত: রাসুলুল্লাহ ﷺ ইরশাদ করেছেন, “কিয়ামতের দিন পুলসিরাত পার হওয়ার সময় মুমিনদের একমাত্র স্লোগান ও প্রার্থনা হবে—
اللَّهُمَّ سَلِّمْ سَلِّمْ
‘আল্লাহুম্মা সাল্লিম, সাল্লিম।’
বঙ্গানুবাদ: হে আল্লাহ! আমাদের নিরাপদ রাখুন, আমাদের রক্ষা করুন।”
৫. আয়েশা (রা.)-এর বিশেষ দোয়া ও রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর দোয়া শিক্ষা
আবদুল্লাহ ইবনে উকাইম (রাহ.) থেকে বর্ণিত: আমি একবার আম্মাজান আয়েশা (রা.)-এর জন্য উপহার হিসেবে একটি সুগন্ধিভর্তি চামড়ার থলে নিয়ে গেলাম। আমি বললাম, “হে মা! আপনার জন্য এই সুগন্ধিটুকু হাদিয়া হিসেবে এনেছি।” তিনি খুশি হয়ে তার দাসীকে সেটি গ্রহণ করতে বললেন এবং বিনিময়ে আমাকে একটি সুন্দর লাল চাদর উপহার দিলেন। আমি বললাম, “আমি যা এনেছি, তার চেয়ে আপনার দেওয়া উপহারটি অনেক বেশি মূল্যবান।” তিনি অত্যন্ত স্নেহের সাথে বললেন, “তুমি এর যোগ্য।”
সুযোগ বুঝে আমি তাকে অনুরোধ করলাম, “নবীজি ﷺ-এর কাছ থেকে আপনি শুনেছেন এমন একটি দোয়া আমাকে শিখিয়ে দিন।” তিনি বললেন, “অবশ্যই। একদিন রাসুলুল্লাহ ﷺ আমার ঘরে এসে বললেন, ‘আয়েশা! তুমি কি জানো? সুলাইমান (আ.)-এর সেই সঙ্গীর (আসিফ ইবনে বারখিয়া) জানা সেই
