প্রত্যেক মুসলমানের অধিকার রয়েছে এই বইটির সম্পূর্ণ অনুবাদ করার কিংবা নিজের পছন্দমতো অংশ উদ্ধৃত করার; তবে এতে কোনো ধরনের পরিবর্তন বা নিজস্ব টিকা-ভাষ্য যোগ করার অনুমতি নেই। মুদ্রণ ও প্রকাশের অধিকারও প্রতিটি মুসলিমের জন্য উন্মুক্ত। একইভাবে অনুবাদ ও উদ্ধৃতির অধিকারও থাকবে, তবে শর্ত হলো মূল পাঠ যেন হুবহু বজায় থাকে। যেকোনো মানুষের অধিকার রয়েছে লিখিতভাবে লেখকের কাছে তার পর্যবেক্ষণ, জবাব, সংশোধনী বা সংযোজন পাঠানোর। তবে বইটির সংক্ষিপ্ত রূপ প্রকাশ করা, এর ওপর টিকা লেখা কিংবা এর কোনো অধ্যায়কে বিচ্ছিন্নভাবে কেটে নিয়ে প্রকাশ করার অনুমতি দেওয়া হলো না।
(প্রাক-প্রকাশিত সংস্করণ)
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَٰنِ الرَّحِيمِ
ثُمَّ جَعَلْنَاكَ عَلَىٰ شَرِيعَةٍ مِّنَ الْأَمْرِ فَاتَّبِعْهَا وَلَا تَتَّبِعْ أَهْوَاءَ الَّذِينَ لَا يَعْلَمُونَ
অতঃপর, আমরা আপনাকে প্রতিষ্ঠিত করেছি দ্বীনের বিশেষ বিধানের উপর; কাজেই আপনি তার অনুসরণ করুন। আর যারা জানে না তাদের খেয়াল-খুশীর অনুসরণ করবেন না।
সূরাহ আল-জাসিয়াহ: ১৮
ভূমিকা
الحمد الله، والصلاة والسلام على رسول االله، أما بعد.
এই পুরো বইটির সারকথাকে যদি সংক্ষেপে বলতে হয়, তবে বলা যায়, এটি বিশ্বকে দেখার এক নতুন দৃষ্টিভঙ্গি। কিংবা বলা যায়, এটি এমন এক নতুন চশমা, যা চোখে দিয়ে আমরা নিজেদের এবং আমাদের প্রতিপক্ষ বা সমকক্ষ সভ্যতা অর্থাৎ পাশ্চাত্য সভ্যতাকে নতুন করে দেখব। আমরা যদি চাই, তবে এক চশমা খুলে অন্য চশমা চোখে দেওয়া মোটেও কোনো কঠিন কাজ নয়।
এই বইটি কোনো ভাসাভাসা বা তাড়াহুড়ো করে করা ভাবনার ফসল নয়; কিংবা কেউ যেমনটা মনে করতে পারেন যে, এটি কোনো অন্ধ গোঁড়ামি বা উগ্রতার ফলও নয়। বরং এটি দীর্ঘদিনের চিন্তাভাবনা, গভীর অনুধাবন এবং পৃথিবীর সভ্যতার ইতিহাসের ওপর অতি যত্ন সহকারে করা পড়াশোনার এক পরিপক্ব ফসল। এর সাথে জড়িয়ে আছে আল্লাহর কিতাব নিয়ে গভীর ধ্যান, তাঁর নবীর জীবনী নিয়ে সূক্ষ্ম পর্যালোচনা এবং প্রাচ্য ও প্রতীচ্যের বিভিন্ন ধর্ম ও পাশ্চাত্য চিন্তাধারার ওপর দীর্ঘদিনের পঠন-পাঠন। এই সাধনা বছরের পর বছর, এমনকি দশকের পর দশক ধরে চলেছে।
আমার প্রত্যাশা, এই বইটির হাত ধরে একজন মুসলমানের বিশ্বাসের পরিধি ‘ইলমুল ইয়াকীন’ (জানার মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া) থেকে ‘হাক্কুল ইয়াকীন’ (উপলব্ধির মাধ্যমে চরম সত্যে পৌঁছানো)-এর স্তরে উন্নীত হবে। আর তা হবে এই বিশ্বাসের মাধ্যমে যে, এই দুর্গত ও
