কামারুজ্জামান শহীদ ও তাঁর বই ‘ফাঁসির সেল থেকে দেখা বাংলাদেশ’
এক.
মুহাম্মদ কামারুজ্জামান রাজনীতিবিদ, সংগঠক ও সাংবাদিক। প্রথমে তিনি জাতীয় রাজনীতির পাদপ্রদীপে আসেন ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি হিসেবে। পরে জামায়াতে ইসলামীতে বুদ্ধিবৃত্তিক নেতা ও কূটনৈতিক যোগাযোগের প্রধান ব্যক্তি হিসেবে ভূমিকা রাখেন। জামায়াতের জ্যেষ্ঠ সহকারী সেক্রেটারি জেনারেলের দায়িত্ব পালনকালে শহীদ হন।
কামারুজ্জামানের জন্ম ১৯৫২ সালের ৪ জুলাই। শেরপুর সদরের বাজিতখিলা ইউনিয়নের মুদিপাড়া গ্রামে তার পৈত্রিক নিবাস। নিজ এলাকা শেরপুর থেকে সম্পন্ন করেন প্রাথমিক ও মাধ্যমিকের পাঠ। ১৯৭২ সালে এইচএসসি পাশ করেন মোমেনশাহী নাসিরাবাদ কলেজ থেকে। ঢাকা আইডিয়াল কলেজ থেকে বিএ পাস করেন। ১৯৭৬ সালে মাস্টার্স সম্পন্ন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ থেকে।
মাধ্যমিকে পড়াকালেই কামারুজ্জামান সক্রিয় হন ছাত্ররাজনীতিতে। ১৯৭৭সালে ছাত্রশিবির প্রতিষ্ঠাকালে তিনি ঢাকা মহানগরী সভাপতি মনোনীত হন। একই বছরের শেষ দিকে দায়িত্বপ্রাপ্ত হন শিবিরের সেক্রেটারি জেনারেলের। ১৯৭৮ ও ১৯৭৯ সালে পরপর দুই সেশন শিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নির্বাচিত হন। তার সভাপতিত্বকালে ছাত্রশিবির সারা দেশে ব্যাপকভাবে বিকাশ লাভকরে। চট্টগ্রাম ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রসংসদ নির্বাচনে শিবিরের বিজয় এবং অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয় ও বড়ো কলেজগুলোতে শিবিরের বিস্তার লাভ তখন জাতীয় রাজনীতিতে হইচই ফেলে দেয়। স্বাভাবিকভাবেই কেন্দ্রীয় সভাপতি হিসেবে রাজনীতির পাদপ্রদীপে উজ্জ্বল হয়ে ওঠেন কামারুজ্জামান।
শিবির থেকে বিদায় নেওয়ার অল্প কিছুদিনের মধ্যে কামারুজ্জামান জামায়াতের প্রচার সম্পাদক মনোনীত হন। এ সময়ে তিনি পেশাগত অঙ্গনেও রাখেন দক্ষতার স্বাক্ষর। ঢাকা ডাইজেস্ট-এর নির্বাহী সম্পাদক হিসেবে তিনি শুরু করেন পেশাগত জীবন। পরে সাপ্তাহিক সোনার বাংলা-র সম্পাদক নিযুক্ত হন। দৈনিক সংগ্রাম-এর নির্বাহী সম্পাদকের দায়িত্বও সুচারুরূপে পালন করেন। জাতীয় প্রেসক্লাবের সদস্য, বাংলা একাডেমীর আজীবন সদস্য ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের নির্বাচিত সদস্য হিসেবেও এ সময় ছিলেন সক্রিয়। আশির দশকের পুরো সময়টাতে তিনি একজন প্রতিশ্রুতিশীল সাংবাদিক ও সম্পাদক হিসেবে কর্মমুখর ছিলেন।
যোগদানের মাত্র এক যুগের ব্যবধানে ১৯৯২ সালে কামারুজ্জামান জামায়াতের অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি পদে উন্নীত হন। জামায়াতের তখনকার রাজনৈতিক কাঠামোতে কামারুজ্জামানের এ পদপ্রাপ্তি বেশ দ্রুততর বলেই মনে হয়। কামারুজ্জামানের পেশাগত যোগ্যতা, বুদ্ধিবৃত্তিক ভূমিকা ও কূটনীতিক মহলে যোগাযোগদক্ষতা এক্ষেত্রে নিয়ামক হয়েছিল বলে অনুমান করা যায়। অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারির দায়িত্ব পালনকালে কামারুজ্জামানকে আমরা প্রধানত কূটনীতিক যোগাযোগ, রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে লিয়াজোঁ, বুদ্ধিবৃত্তিক নীতিনির্ধারণ প্রভৃতিতেই বেশি সরব দেখি।
কামারুজ্জামানের এ বুদ্ধিবৃত্তিক
