ফাঁসির সেল থেকে দেখা বাংলাদেশ

« <
/ 14
> »

ও চিন্তাশীল ভূমিকার একটি দুর্বলতর দিকও আছে। দেখা যায়, বাংলাদেশের যে রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে, সেখানে চিন্তাশীল ও বুদ্ধিবৃত্তিক নেতৃত্ব সাধারণত জননেতা হয়ে উঠতে পারেন না। আরও খোলাসা করে বললে, এ দেশের গণরাজনীতির যে চরিত্র বা সংস্কৃতি দাঁড়িয়েছে, সেখানে কোনো চিন্তাশীল ও বুদ্ধিবৃত্তিক মননসমৃদ্ধ মানুষ নিজেকে খুব একটা খাপ খাওয়াতে পারেন না। এ তিক্ত সত্যটি আমরা কামারুজ্জামানের গণরাজনীতির ময়দানের ভূমিকায় লক্ষ করি। তিনি জনদরদি নেতা ছিলেন এবং জনকল্যাণ ও সমাজকল্যাণমূলক ব্যাপক কাজ করেছেন বটে; কিন্তু ভোটের রাজনীতিতে বিজয়ী হতে পারেননি। তবে এ কথা স্বীকার করতেই হবে, তিনি ক্রমেই এ দুর্বলতা কাটিয়ে গণরাজনীতির মাঠেও পোক্ত হয়ে উঠেছিলেন। ২০০১ সালের নির্বাচনে তিনি সমানে সমানে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। আর ২০০৮ সালের নির্বাচনে তো তিনি বিজয়ীই ছিলেন, কিন্তু অপকৌশলে তার এ বিজয় ছিনিয়ে নেওয়া হয়। তিনি এ নির্বাচনে ১,১০,০৭০

ভোট পান। এ বিশালসংখ্যক ভোটপ্রাপ্তিকে কিন্তু জনগণের নিরেট ভালোবাসা ও আস্থার ভোটই বলতে হবে। কেননা, ভোটের রাজনীতিতে পেশিশক্তির ব্যবহার বা বিত্তের ব্যবহারের যে অপসংস্কৃতি গড়ে উঠেছে, এর কোনোটাই তিনি করতে পারেননি।

দুই.

কামারুজ্জামান ছাত্রজীবন থেকেই লিখেছেন। তবে সংখ্যার দিক দিয়ে তার রচনা বা বইয়ের সংখ্যা খুব বেশি বলা যাবে না; অবশ্য খুব কমও নয়। তার রচনায় আমরা লক্ষ করি, তিনি ইসলামী আন্দোলনের নেতা ও কর্মীদের প্রতি প্রতিভা বিকাশ ও দক্ষতা বৃদ্ধির আবেদন করেছেন। সদ্গুণাবলির অনুশীলন ও মেধার স্ফুরণের আকুতি জানিয়েছেন। আধুনিক যুগের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় যোগ্য হয়ে ওঠার প্রস্তাব করেছেন। আধুনিক বিশ্বের চ্যালেঞ্জ ও ইসলাম, আধুনিক যুগে ইসলামী বিপ্লব, ইসলামী নেতৃত্ব বইগুলোতে আমরা এ আকুতি ও আকাঙ্ক্ষার ছাপ দেখতে পাই।

কামারুজ্জামানের রচনা ও চিন্তাধারার আরেকটি দিক হচ্ছে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সার্বক্ষণিক দৃষ্টিপাত। বৈশ্বিক পরিমণ্ডল সবসময় তার সামনে খোলা খাতার মতো থাকত। তিনি ইসলামী আন্দোলনকে কেবল একটি স্থানীয় জাগরণ হিসেবে না দেখে বৈশ্বিক জাগরণ হিসেবে দেখতেন। ফলে তার আলোচনায়, লেখায় বা দৃষ্টিভঙ্গিতে উম্মাহ চেতনা বা আন্তর্জাতিক মানস পরিস্ফুটিত হতো। তার রচিত আধুনিক বিশ্বে ইসলাম, বদিউজ্জামান সাঈদ নুরসী এবং তুরস্ক, আধুনিক বিশ্বে ইসলামী জাগরণ ও মাওলানা মওদূদীর চিন্তাধারার প্রভাব ইত্যাদি বই তারই প্রমাণ।

মৌলিক লেখালিখির পাশাপাশি মুহাম্মদ কামারুজ্জামান অনুবাদক হিসেবেও ছিলেন দক্ষ। খুররম মুরাদের বিখ্যাত বই কুরআন অধ্যয়ন সহায়িকা তার

« <
/ 14
> »