করিলেন– সর্বত্র ভারতীয় বিদ্যা ছড়াইয়া পড়িল। কিন্তু সেকথা আজ থাক। অনুসন্ধিৎসু এই লোমহর্ষক লুপ্তগৌরব প্রত্যর্পণকারিণী কাহিনী জর্মন পণ্ডিত বিন্টারনিৎস (Winternitz) ও শ্রীযুক্ত রাধাকৃষ্ণণের ঈস্টার্ন আইডিয়ালিজম্ ও বেস্টার্ন থট পুস্তকে পাইবেন।
দারাশিকুহ’র দ্বিসিঙ্কুমিলনে তিনি ইসলামের সাধনামণি সুফিতত্ত্ব ও হিন্দু দর্শনের চিন্তামণি বেদান্ত তাহার জ্ঞানকাঞ্চনাঙ্গুরীয়তে একাসনে বসিয়া যে রশ্মিধারার সম্মেলন করিলেন, হায়, তাহা দেশের তমসান্ধকারকে বিদ্ধ করিতে সমর্থ হইল না।
কিয়ৎকাল পরেই প্রলয় প্রদোষে মোগলের উষ্ণীষশীর্ষ প্রস্ফুরিত হইতে লাগিল, শবলুব্ধ গৃধীদের বীভৎস চিল্কারের মধ্যে যোগাঙ্গুরীয় কোন অন্ধকারে বিস্মৃত বিলুপ্ত হইল।
পুনর্বার ক্ষীণচেষ্টা দেখা গেল– সুভাষচন্দ্র তাহার পুস্তকে সে প্রচেষ্টার উল্লেখ
করিয়াছেন কিন্তু তখন বিদেশি আসিয়াছে। সেই কথার উল্লেখ করিয়া একদিন লিখিয়াছিলাম।
তার পর? তার পর লজ্জা ঘৃণা পাপ
অপমান; প্রকাশিল অন্তহীন শাপ
হিন্দু-মুসলমান ক্ষত্রিয়েরা যখন ১৮৫৭ সালে পুনরায় সম্মিলিত হইয়া সফল হইলেন না তখন তাহাই উদ্দেশ করিয়া লিখিয়াছিলাম।
যুগ ক্ষাত্রতেজে তার পাপ প্রক্ষালন
চেষ্টা হল ব্যর্থ যবে। করিল বরণ
ভেদমন্ত্র ছিদ্রান্বেষী পরম্পরাঘাত
হইল বিজয়টিকা সে অভিসম্পাত।
