খানের দরবারে গিয়েছিলেন। অথচ এই শায়খদের সাথেই কিন্তু তাঁর বিভিন্ন বিষয়ে দীর্ঘ দ্বিমত, আলোচনা ও খণ্ডনমূলক লেখালেখি ছিল, বিশেষ করে সুফী শায়খদের সাথে। এর কারণ, এই ভিন্নমতাবলম্বীরাও কিন্তু দ্বীনকে ভালোবাসতেন এবং দ্বীনের সুরক্ষাই ছিল তাদের উদ্দেশ্য। শায়খের সাথে তাদের এই ঐক্যবদ্ধ যাত্রার সবচেয়ে ন্যূনতম সুফল ছিল এই যে, তারা অন্তত ইসলামের শত্রুদের সামনে নিজেদের সহজ শিকার হতে দেননি। কারণ শত্রুরা তো সবসময় মুসলমানদের ভেতরের এই মতভেদগুলোকে উসকে দিয়ে ফিতনা ছড়াতে আর ফাটল ধরাতে চায়। অবশ্য এই একাত্মতার পেছনে আরও অনেক গভীর হিকমত ছিল, যা বিস্তারিত আলোচনার স্থান এটি নয়।
সত্যের মুখোমুখি হতে আমাদের মনে কোনো ধরনের ভীতি বা ‘ফোবিয়া’ নেই। বরং আমরা তো পূর্ব-পশ্চিমের গোটা বিশ্বকে আমাদের পিতা ইব্রাহীম (আ.)-এর মিল্লাত বা আদর্শ অনুসরণের আহ্বান জানাই। ইহুদিদের চেয়ে মূসা (আ.)-এর ওপর আমাদের অধিকার বেশি, আর খ্রিষ্টানদের চেয়ে ঈসা (আ.)-এর ওপর আমাদের দাবি অনেক বেশি সত্য ও সুদৃঢ়।
পাশ্চাত্যের এই মানসিকতা আমেরিকার সেই অন্যায় ব্লু-প্রিন্টেরই অংশ, যার নির্মম শিকার হয়েছে ইরাক। বর্বরোচিত আগ্রাসন চালিয়ে বাগদাদের পতনকে নিশ্চিত করতে আমেরিকা সেদিন সাদ্দাম হোসেনের মূর্তি ভাঙার এক সুপরিকল্পিত নাটকের অবতারণা করেছিল; আর তখন তাদের পেছনের সারির সৈন্যদের পাহারা দিচ্ছিল ‘বদর বাহিনী’। এক দীর্ঘ ও শ্বাসরোধকারী অর্থনৈতিক অবরোধের মাধ্যমে ইরাককে পঙ্গু করে দেওয়ার পরই কেবল আমেরিকা এই দুঃসাহস দেখাতে পেরেছিল। শেষ পর্যন্ত তারা আহমেদ চালাবির বিকল্প হিসেবে হায়দার আল-আবাদি, নূরি আল-মালিকি এবং তাদের তথাকথিত ‘সাহওয়া’ (জাগরণ) বাহিনীকে খুঁজে নেয়। আরব উপদ্বীপের সুন্নী জনপদের সাথে আনবারের সুন্নী ভাইদের চিরদিনের জন্য বিচ্ছিন্ন করতে তারা আনবারের দক্ষিণাঞ্চলীয় জেলাগুলোকে অন্যায়ভাবে নাজাফ প্রদেশের অন্তর্ভুক্ত করে দেয়!
আমেরিকার তৈরি করা সেই রক্তক্ষয়ী জলাভূমি থেকে ওবামা যখন তাদের উদ্ধার করলেন, ততক্ষণে মার্কিন বাহিনী পরাজয়ের গ্লানি নিয়ে লেজ গুটিয়ে পালাতে বাধ্য হয়েছে। সে যাত্রায় অক্ষত শরীরে প্রাণ নিয়ে ফিরতে পারাটাই আমেরিকার জন্য ছিল মস্ত বড় যুদ্ধজয়। আমেরিকার সাথে তাদের সেই তথাকথিত তিরিশোর্ধ্ব দেশের জোটও সেদিন পিছু হটেছিল। বাগদাদে পা রাখা মার্কিন অফিসাররা অবশ্য তাদের লালসা মেটানোর জন্য বহু খোঁজাখুঁজি করেও সেখানে কায়রো শহর কিংবা সেখানকার ‘হারাম স্ট্রিট’ (আমোদ-প্রমোদের রাস্তা)-এর দেখা পায়নি, যদিও তারা এই নিয়ে দোভাষীদের বিস্তর জিজ্ঞাসাবাদ করেছিল।
সেদিন ইরাক আক্রমণকারী
