মুসলিম ও পাশ্চাত্য সভ্যতা

« <
/ 16
> »

ঘটনা শুনেছিলেন, যেখানে এক অত্যাচারী পথচারী সেই নারীর মাথার বোঝা মাটিতে ফেলে দিয়েছিল। ঘটনাটি শুনে নবীজী বলেছিলেন, “সেই জাতিকে আল্লাহ কীভাবে পবিত্র করবেন, যেখানে কোনো দুর্বল মানুষ কোনো রকম তোতলামি বা ভয়ভীতি ছাড়াই তার চেয়ে শক্তিশালী মানুষের কাছ থেকে নিজের অধিকার আদায় করে নিতে পারে না!”

একটু ভেবে দেখুন, সাহাবায়ে কেরাম হাবশার মাটিতে কত শত প্রাকৃতিক বিস্ময়, জলজ ও বন্যপ্রাণীর বৈচিত্র্য এবং প্রাচীন নিদর্শন দেখেছিলেন; অথচ তাদের চোখে সেখানকার সবচেয়ে চমৎকার ও বিস্ময়কর ঘটনা ছিল অত্যাচারীর বিরুদ্ধে এক মজলুমের অধিকার আদায়ের এই ঘটনাটি। রাসূলুল্লাহ ﷺ সেই অমুসলিম নারীর প্রতি কেমন গভীর সহানুভূতি প্রকাশ করেছিলেন এবং যেকোনো জাতির ক্ষেত্রেই এই শাশ্বত সত্যটি উচ্চারণ করেছিলেন, হোক না তারা অবিশ্বাসী। এই সুমহান ন্যায়বিচার ও নৈতিক উচ্চতার পাশে এবার আজকের পাশ্চাত্য সভ্যতার দিকে তাকিয়ে দেখুন, তারা আজ শক্তিশালী রাষ্ট্র আর ক্ষমতাধর ব্যক্তিদের সাথে কেমন আচরণ করছে! আমেরিকানরা জার্মানির ‘ডুসেলডর্ফ’ শহর ধ্বংসস্তূপে পরিণত করেছে, হিরোশিমা আর নাগাসাকিতে পারমাণবিক বোমা ফেলেছে। তারা সোমালিয়া, ইরাক ও আফগানিস্তানে আগ্রাসন চালিয়ে লাখ লাখ নিরীহ মানুষকে হত্যা করেছে। খোদ হেনরি কিসিঞ্জার স্বীকার করেছেন, কেবল কোরীয় উপদ্বীপেই প্রায় সত্তর লাখ মানুষ মারা গিয়েছিল। এমনকি ইরাকের পরিবেশ মন্ত্রণালয় প্রমাণ করে দেখিয়েছে যে, আমেরিকার কাছে ‘পরিবেশগত ন্যায়বিচার’ বলতেও কিছু নেই। আমেরিকা যে কেবল রাজনৈতিক, সামাজিক আর বুদ্ধিবৃত্তিক ইনসাফহীন এক রাষ্ট্র তা নয়; বরং তারা পরিবেশগত ভারসাম্যের দিক থেকেও চরম অন্যায়কারী। অথচ খোদ আমেরিকার ভেতরেই এই ধ্বংসযজ্ঞের বিরুদ্ধে ওঠা প্রতিবাদী কণ্ঠস্বরগুলো কোনো সাড়া না পেয়ে স্রেফ অরণ্যে রোদনে পরিণত হয়।

আল্লামা ইবনুল কাইয়্যেম (রহ.)-এর একটি উদ্ধৃতি অনুযায়ী, জালিমের জুলুমের কারণে যদি গর্তে থাকা হুতুমপ্যাঁচাও আল্লাহর দরবারে নালিশ জানায়, তবে আমেরিকার ভেতরের ও বাইরের কত কোটি কোটি মানুষ যে আজ এই মার্কিন প্রশাসনের জুলুমের বিরুদ্ধে বুকফাটা আর্তনাদ করছে, তার হিসাব কে রাখবে?

প্রকৃতপক্ষে, মুসলমানরা—সুন্নী হোক কিংবা বিদআতী—বাইরের শত্রুদের মোকাবিলায় তারা সবাই এক ও অভিন্ন হস্তস্বরূপ। আর নিজেদের মধ্যকার অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্যগুলো তারা পারস্পরিক আলোচনা ও সত্যের অন্বেষণের মাধ্যমেই সমাধান করবে; এটাই তাদের জন্য শোভনীয়।

ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রহ.) অন্যান্য মাযহাবের ইমাম ও সুফী তরীকার শায়খদের সাথে নিয়ে তাতারী শাসক গাজান

« <
/ 16
> »