মুসলিম ও পাশ্চাত্য সভ্যতা

« <
/ 16
> »

সেই অনুযায়ীই ন্যায়বিচার করে” (সূরা আল-আ’রাফ: ১৫৯)।

আর এটিই তো আমাদের চিরন্তন আদর্শ। বিশেষ করে পঞ্চম খলীফায়ে রাশেদ, ইসলামের অন্যতম সংস্কারক উমর বিন আবদুল আজিজ (রহ.) যখন থেকে জুমআর খুতবায় আল্লাহর এই বাণীটি স্মরণ করিয়ে দেওয়ার স্থায়ী প্রচলন করলেন: “নিশ্চয়ই আল্লাহ ন্যায়পরায়ণতা, সদাচরণ এবং নিকটাত্মীয়দের দান করার নির্দেশ দিচ্ছেন; আর তিনি অশ্লীলতা, অসৎ কাজ ও সীমা লঙ্ঘন থেকে নিষেধ করছেন। তিনি তোমাদের উপদেশ দিচ্ছেন যেন তোমরা শিক্ষা গ্রহণ করো” (সূরা আন-নহল: ৯০)। আল্লাহর মেহেরবানীতে আমাদের জুমআর খতিব সাহেবরা প্রতি সপ্তাহে খুতবার মঞ্চ থেকে আমাদের এই চিরন্তন সত্যটিই মনে করিয়ে দিয়ে যাচ্ছেন।

ন্যায়ের খাতিরে আমাদের এটি অকপটে স্বীকার করতেই হবে যে, পাশ্চাত্য কেবল শিল্প-কারখানা বা প্রযুক্তিতেই আমাদের চেয়ে এগিয়ে নেই, বরং নিয়মানুবর্তিতা, রাজনীতি, সুশাসন, জনগণের অধিকারের প্রতি শ্রদ্ধা এবং মজলুমের পাশে দাঁড়ানোর ক্ষেত্রেও তারা আমাদের চেয়ে অনেক উন্নত। কিন্তু তা সত্ত্বেও, কিছু বাস্তব ও প্রত্যক্ষ ঘটনার মধ্য দিয়ে ইসলামের প্রতি তাদের মজ্জাগত শত্রুতা বারবার উঁকে দিয়েছে, যা আমার মতো মানুষকে তাদের নিয়ে লিখতে বাধ্য করেছে। তার কয়েকটি কারণ হলো:

১. জায়নবাদীদের (ইসরায়েল) প্রতি তাদের অন্ধ ও চিরস্থায়ী পক্ষপাতিত্ব।

২. মুসলিম বিশ্বে গড়ে ওঠা যেকোনো সফল ও স্বাবলম্বী মডেলকে অঙ্কুরেই ধ্বংস করার অপচেষ্টা; যেমন, তুরস্কে সামরিক অভ্যুত্থানের চক্রান্ত এবং এশিয়ার উদীয়মান ‘এশিয়ান টাইগার’ খ্যাত মুসলিম অর্থনীতিগুলোকে পঙ্গু করে দেওয়া।

৩. মুসলমানদের এক অন্তহীন গোলকধাঁধায় বন্দি করে রাখা, যার নাম তারা দিয়েছে ‘সন্ত্রাসবাদ’। এই স্বরচিত জুজুটিকে তারা এতটাই ফুলিয়ে-ফাঁপিয়ে তুলেছে যে, এর আড়ালে তারা আমাদের বাকি সব জ্বলন্ত সমস্যাকে ভুলিয়ে দিয়েছে।

আমেরিকার এক সিনেটরকে আমি নিজে বলতে শুনেছি, “তুরস্কের জনগণ যদি এরদোগানের বিরুদ্ধে অভ্যুত্থান ঘটাত, তবে আমেরিকা সবচেয়ে বেশি খুশি হতো।” কিন্তু তাদের কপাল মন্দ যে, এরদোগানের একটি সাধারণ মোবাইল ফোনের ডাক শেষ পর্যন্ত অভ্যুত্থানকারীদের ট্যাংক আর যুদ্ধবিমানকে পরাস্ত করে দিল, যা পরবর্তী সময়ে খোদ তাদের দেশেরই সংবাদপত্রগুলো অকপটে স্বীকার করতে বাধ্য হয়েছে।

ব্রিটেনের বিখ্যাত সংবাদপত্র ‘দ্য গার্ডিয়ান’-এর তৎকালীন প্রধান সম্পাদক ডেভিড হার্স্ট খোদ এই অঞ্চলে থেকেই পুরো ঘটনাটি পর্যবেক্ষণ করেছিলেন এবং এটি প্রমাণ করে দিয়েছিলেন। আমার ঠিক মনে নেই, সেই সময় তিনি তুরস্কে ছিলেন নাকি বৈরুতের ‘সেন্ট জর্জ’ হোটেলে! এভাবেই পাশ্চাত্য ইসলামের

« <
/ 16
> »