১০ মিনিট, ১৭ই ডিসেম্বর ১৯৯৯। এমন একটা আগুনঝরা উত্তপ্ত মুহূর্তে দলীয় কার্যালয়ের উল্টোপার্শ্বে পুলিশ বেষ্টনীর মধ্যে ফুটপাতে দাঁড়িয়ে কেবলই মনে হচ্ছিল এবারের কারাবাসটা বুঝি নিঃসঙ্গ হবে। মিনিট পাঁচেক পর কোরবানীর হাটের ছাগলের মতো টানাহেঁচড়া করে পূর্ব পার্শ্বের গলির মধ্যে নিয়ে যাওয়া হলো। ওখানটায় যা দেখলাম, তা রীতিমতো অবিশ্বাস্য, বীভৎস ও ভয়ংকর। আমার হাত দুই সামনে দাঁড়িয়ে আছে ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক
নাসির উদ্দিন পিন্টু। আমার স্মৃতি যদি নিজের সাথে প্রতারণা না করে তা’হলে নিশ্চিত করে বলতে পারি, এ দৃশ্যটি ছিল বড়ই অমানবিক। নাক দিয়ে অঝোর ধারায় রক্ত ঝরছে। গতরের রক্তমাখা গেঞ্জিটি ছিঁড়ে খানিকটা বাঁ-দিকে ঝুলছে। আঘাতে সিনার একপাশ কাত হয়ে পড় পড় অবস্থায় দাঁড়িয়ে আছে। আপাদমস্তক থরথর করে কাঁপছে। একজন কর্মকর্তাকে দেখলাম ওয়ারলেস সেটের মাধ্যমে ব্যাপক যোগাযোগের চেষ্টা করছে তড়িঘড়ি করে প্রিজনভ্যান আনানোর জন্য। এরই মধ্যে পিছন থেকে হ্যাঁচকা টানে আমাকে নাসির উদ্দিন পিন্টুর কাছে নিয়ে দুজনকে যৌথ হ্যান্ডকাপে বেঁধে ফেলা হলো। আসলে পুলিশ কনস্টেবলদের লাথি-গুঁতা, লাঠিপেটা ও অশ্রাব্য গালাগালির চোটে নেতিয়ে গিয়েছিলাম বটে, তবে পিন্টু ভাইয়ের বেহাল অবস্থা দেখে নিজের হালহকিকত বুঝে উঠার ফুরসৎই পেলাম না। প্রিজনভ্যানে করে মিনেট পাঁচেক পর আমরা যেখানে উপস্থিত হলাম, বুঝতে অসুবিধা হলো না এর নাম মতিঝিল থানা। ডিউটি অফিসার পূর্ব পরিচিত থাকায় আদর নয়, কিছুটা অনাদারের হাত থেকে রক্ষা পেলাম। নামধাম লেখা শেষ করে লকআপের সামনে গিয়ে অবাক বিস্ময়ে তাকিয়ে দেখলাম, স্যাঁতস্যাতে পুঁতিগন্ধময় মেঝেতে খালি গায়ে নানা জায়গায় থেতলানো রক্তাক্ত দেহে পড়ে আছে ছাত্রদলের সভাপতি হাবিব-উন-নবী সোহেল। অতি কষ্টে মাথা উঁচু করে অমিত সাহসের সুরে বলে উঠলো-“আসো রানা, আসো। ভয় নাই, জয় আমাদের হবেই”।
তিন: আমদানির পয়লা রাত ও ঐতিহাসিক ইলিশ ফাইল
জেলের প্রধান ফটক পার হয়ে মূল ক্যাম্পসে পা রাখতেই হাতের ডানে চোখে পড়ল তাজমহলের মনোরম প্রতিকৃতি। কথিত আছে, ফাঁসির আদেশপ্রাপ্ত পিতা-পুত্র প্রথানুযায়ী মৃত্যুর পূর্বে তাদের শেষ ইচ্ছা পূরণের সুযোগে একরাতে এই শিল্পকর্মটি তৈরী করেন। মননশীল এই শিল্পকর্ম কর্তৃপক্ষকে অভিভূত করে। শুরু হয় শিল্পীকে বাঁচিয়ে রাখার শেষ উদ্যোগ। প্রেসিডেন্টের বিশেষ ক্ষমায় পিতা-পুত্রের মুক্তি ঘোষণা করা হলো। খুশির সংবাদে আত্মহারা বৃদ্ধ পিতা নিজের সৃষ্ট শিল্পকর্মের বেদিতেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন। মুক্তির সনদ ও পিতার
