জেলখানার দিনগুলি

« <
/ 81
> »

হয়েছে ভেবেই চিত্ত উদ্বেলিত। ঘন্টাখানেক পরে পুরান ঢাকার কোর্ট গারদে পৌছলাম। সে আরেক বিচ্ছিরি জায়গা। নিকৃষ্ট জায়গা হলেও থানা হাজতের চেয়ে উৎকৃষ্ট বলতে হবে। ভেড়ার পালের মতো ঠাসাঠাসি করে স্থান সংকুলান করা হলো। পাঁচশত টাকা সেলামির জোরে ১০ মিনিটের মধ্যে আমার ও নাজিমের ভি.আই.পি কক্ষে থাকার ব্যবস্থা হলো। আত্মীয়-স্বজন আগে থেকেই অপেক্ষা করছিল। ভিতরে আসতে পারছিল না। আরও শ’তিনেক টাকা নজরানা ধরিয়ে দিতেই মুহূর্তের মধ্যে আমার আত্মীয়রা পুলিশের পরমাত্মীয়ে পরিণত হয়ে গেল। শুনেছি, মানুষের মন ও আকাশের রঙ ক্ষণে ক্ষণে বদলায়, কারণে-অকারণে বদলায়। কিন্তু উপযুক্ত বকশিশে পুলিশের রঙ ও মন পরিবর্তনের এহেন দ্রুততর প্রক্রিয়া চোখে না দেখলে বিশ্বাস করা যায় না।

রাত ১২টায় জেলখানার উদ্দেশ্যে আবার প্রিজনভ্যানে আরোহণ। এতোটুকু ভ্যানে ৫০ জন আসামী। নর্থ বেঙ্গলের গরুর পাইকারদের ট্রাকে গরু ভরার সময় যতটুকু গরুপ্রীতি থাকে, প্রিজনভ্যানে আসামী ভরার ক্ষেত্রে ততটুকু মানবপ্রীতিও লক্ষ্য করা গেল না। অর্ধবৃত্তকারে পিতলের অক্ষরে লেখা “ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার”-এর সদর দরজায় যখন পৌঁছলাম তখন রাত্রির প্রথম প্রহর।

আমার দ্বিতীয় কারাবাসের কালে থানা হাজতের দুর্গতি কিছুটা সহনীয় হলেও আওয়ামী পুলিশের অবর্ণনীয় দুঃসহ নির্যাতনের কথা মনে হলে এখনও শরীর শিউরে উঠে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কনভোকেশন। মনীষী অমর্ত্য সেনকে ডক্টর অব সায়েন্স ডিগ্রী দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। কদিন বাদে শোনা গেল সরকার প্রধান শেখ হাসিনাকেও ওই দিনে ডক্টরেট উপাধি দেয়ার আয়োজন চলছে। আমাদের আপত্তিটা ছিল ওখানেই। সুশীল সমাজ স্পষ্টতঃই বিতর্কে জড়িয়ে পড়লেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের একটা বড় অংশ এহেন সিদ্ধান্তকে মেনে নিতে পারলেন না। প্রতিষ্ঠানের সাবেক ছাত্র হিসাবে সরকার প্রধানকে সম্মান প্রদানের রেওয়াজ হয়তো আছে। কিন্তু শেখ হাসিনাকে যে বিষয়ের উপর ডক্টরেট ডিগ্রী দেয়ার আয়োজন হলো তা ছিল নিতান্তই অর্বাচীন ও তোষামোদী সিদ্ধান্ত। আওয়ামী শিক্ষক ও ছাত্রলীগের নেতা-কর্মী ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবারের প্রায় সকলেই এই কনভোকেশন বয়কট করলেন। আমাদের সংগঠন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল সিদ্ধান্ত নিল প্রতিহতকরণের। কনভোকেশনের দিন হরতাল ডাকা হলো। হরতাল সফল করার লক্ষ্যে আগের দিন বিকেলে ৪টায় শুরু হলো বিএনপি অফিস থেকে প্রচার মিছিল।

ঝাঁঝালো টিয়ার গ্যাসের তীব্র যন্ত্রণা, রাবার বুলেট, রায়টকারের বীভৎস সাইরেন এবং অহরহ বোমা বিস্ফোরণের ধোঁয়াটে পরিবেশের মধ্য দিয়ে জীবনে দ্বিতীয়বারের মতো যখন পুলিশের হাতে ধরা পড়লাম তখন বিকেল ৪টা

« <
/ 81
> »