লাগে যে, পুলিশ কোন বাবা-মায়ের সন্তান বা নিজেরাই কোন সন্তান-সন্ততির মা-বাপ। মানুষই পুলিশ হয় বটে, কিন্তু পুলিশ হলে তারা বোধ হয় আর মানুষ থাকে না। রমনা থানা হাজতের টয়লেটর দরজার উপরে মাটির আঁচড়ে লেখা রয়েছে, “আমার ছেলেকে মানুষ নয়, পুলিশ বানাইব”। ক্ষোভে-দুঃখে ম্রিয়মান, নির্যাতন, অত্যাচারে অতিষ্ঠ কোন হাজতি বাবা তার সন্তানকে মানুষ না বানাইয়া পুলিশ বানানোর এহেন আক্রোশ পুলিশের অধঃপতিত অবস্থানেরই ইঙ্গিত বহন করে। মওলভী ফরিদ আহমদ তাঁর ‘কারাগারের সাতাইশ দিন’ বইতে পুলিশের এহেন আচরণ সম্পর্কে বলেছেন, “পুলিশ হচ্ছে ঘটিয়া ডিপার্টমেন্ট। এরা সবকিছুতেই দোষ দেখতে পায়। তাছাড়া নিজের কর্তব্যের সীমা কত খানি বুঝতে না পেরে প্রায়ই সীমা লঙ্ঘন করে।”
মেয়েটির নাম বিউটি। অষ্টাদশী এবং রূপসী। শুনেছি, ছয়দিন থেকে থানা হাজতে আছে। ভালই ছিল কিন্তু হরতালের সুবাদে হাজত কক্ষ ভরে উঠায় ওর স্থান হয়েছে লকআপের সামনের খালি জায়গাটিতে। তরুণীটি চলনে বলনে স্মার্ট। বেশভূষায়ও মন্দ নয়। কি কর্ম করে থানায় এলো কেবল সেটাই বুঝতে পারলাম না। কিন্তু একটা কথা আজ স্বীকার করতে হবে, মেয়েটি না থাকলে আমাদের আরও অসুবিধা হতে পারত। ওর বেলায় পুলিশী নজরদারী কম ছিল। কাজেই ওর মাধ্যমে সিগারেট ও খাবার জলের কিছুটা হলেও একটা গতি করা সম্ভব হয়েছিল। প্রথম থেকেই লক্ষ্য করেছিলাম-মেয়েটি আমাদের সেবাযত্নের প্রাণান্তকর চেষ্টা করে যাচ্ছে। ভাগ্যের নির্মম পরিহাস, বিউটির দেয়া কলা আর পাউরুটি অমৃতজ্ঞান করে ভক্ষণ করতে হয়েছিল। কামনা করি, মহান সৃষ্টিকর্তা ওর মঙ্গল করুক। তবে আরেকটা কথা না বললেই নয়, হাজতের কঠিন দুঃসময়েও ওই অষ্টাদশীর উপস্থিতি ক্ষণিকের জন্য হলেও হাজতী তরুণদের মাঝে খানিকটা রোমান্টিক অনুভূতির সৃষ্টি করতে পেরেছিল। কারণে-অকারণে বহুবার বলতে শুনেছি “এই বিউটি আপা শোনেন”। একগাল মিষ্টি হেসে লকআপের সামনে দাঁড়িয়ে বিউটির প্রতি উত্তর-“কিছু লাগব?”। আইনের জ্ঞান আমার নেই। তাই বিউটিরা কোন আইনে দিনের পর দিন থানা হাজতে বিহার করছে তার ব্যাখ্যা দেয়া আমার সাধ্যাতীত। সামাজিক নিয়ম ধরে রাখার দায়িত্ব যেই পুলিশের তাদের কারণে সমাজের স্বাস্থ্য দূষিত হলে পুরো সামাজিক অবকাঠামোই ভেঙ্গে পড়তে পারে। কোর্টের বারান্দার ধর্ষিতা ৫ বছরের তানিয়া জাতির ললাটে সেই কলংকের তিলকই এঁকে দিয়ে গেছে।
দু’দিন জীবনপণ সংগ্রাম শেষে ১০ই ফেব্রুয়ারী বিকাল ৫টায় যখন কোর্টের উদ্দেশ্যে প্রিজনভ্যানে উঠলাম, তখন হাজতবাস শেষ
