আসছে। দৌড় শুরু করেছিলাম। কিন্তু ‘৯০-এর গণআন্দোলনের সাহসী সন্তান সেলিম, দেলোয়ারের গাড়ির চাকায় পিষ্ট হওয়ার ঘটনা মনে হতেই লাফিয়ে পড়লাম রাস্তা ছেড়ে হাইকোর্ট ভবনের সিঁড়ির উপর। যখন গ্রেফতার হলাম তখন সকাল দশটা। আমার সাথে গ্রেফতার হলো ঢাকা জেলার ছাত্রদলের সভাপতি ছাত্রনেতা নাজিম উদ্দিন নাজিম। গ্রেফতারের সেই কঠিন দুঃসময়ের মুহূর্তেও ওসি রফিকের গায়ের বর্ম ও মাথার হেলমেট আমার হাসির উদ্রেক করেছে বলতে হবে। জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের সেকি প্রাণান্তকর চেষ্টা। যখন রমনা থানা হাজতে পৌছলাম তখন সকাল ১০টা ৪০ মিনিট।
রমনা থানা হাজত। যেখানে থাকা, সেখানেই প্রশ্রাব-পায়খানা, সেখানেই খাওয়া ও ঘুমানো। স্যাঁতস্যাতে, দুর্গন্ধময় আবছা আলো আঁধারির এই কক্ষটির দিকে হঠাৎ করে চোখ পড়লে মনে হবে ময়লা আবর্জনার স্তূপে কিছু শুকরছানা কিলবিল করছে। তারপরও একরাত দুইদিন ওখানটায় থাকতে হয়েছে। ডাস্টবিনে থাকা যায়। কিন্তু না খেয়ে থাকা যায় না। দু’দিন একরাতে একবারের জন্য খাবার সরবরাহ করা হলো না। অনেক বলে কয়ে খাবার পানি পাওয়া যেত। তাও দিনে এক ড্রাম। ক্ষুধার যন্ত্রণা সইতে না পেরে দ্বিতীয় দিনে মনির নামের ছেলেটি হঠাৎ করেই লোহার গেট ধরে ঝাঁকুনি দিয়ে চিৎকার শুরু করল। কিছুক্ষণ পরেই কর্তব্যরত কর্মকর্তা হাজত খুলে চোখ বেঁধে ছেলেটিকে নিয়ে গেল নির্যাতন কক্ষে। এরপরে মাইরের ডরে ক্ষুধার যন্ত্রণাকে সকলেই হজম করে গিয়েছে। এমন অমানবিক আচরণ বিশ্বাস করতেও কষ্ট হয়। ক্ষুধা, পিপাসা ও ক্লান্তি নামক অসুবিধাগুলো ঘুমের মধ্য দিয়ে পরাস্ত করব ভেবেছিলাম। অনেক চেষ্টা তদবির করেও মাথা রাখবার স্থান সংগ্রহ করা গেল না। রবিঠাকুর বলেছেন, “বহু দিন মনে ছিল আশা, রহিব আপন মনে, ধরণীর এক কোণে, ধন নয়, মান নয়, এতটুকু বাসা”। আমার মনে হয় কবিকে হয়তো এই বাংলার কোন থানা হাজতে আতিথ্য গ্রহণ করতে হয়েছিল।
নিত্যদিন ক্যাম্পাসে যে পুলিশ কর্মকর্তার সাথে দেখা হয়, গ্রেফতারের দিন সকাল অবধি যার সাথে মধুর ক্যান্টিনে স্বাভাবিক বাক্যালাপ হলো, সেই পুলিশ কর্মকর্তাই হাইকোর্ট চত্বর থেকে মুরগীর ছানার মতো খপ করে ধরে এনে হাজতে ফেলে রাখল। দু’দিনে একবার দেখা পর্যন্ত করার প্রয়োজন বোধ করল না। একই বস্তু কেমন করে শুধুমাত্র সময় ও পরিবেশ ভেদে শ্লীল ও অশ্লীল হয়ে উঠতে পারে-ওসি রফিক তার জ্বলন্ত দৃষ্টান্ত। এসব দিক সার্বিক বিচার-বিশ্লেষণ করলে ভাবতেও কষ্ট
