উঠতে পারে।
জীবনের পরিসর তো আর হাজার বছর নয়। কাজেই এই অল্প পরিসর জীবনের গণ্ডিকে নিয়মের-ও পরিকল্পনার বেড়াজালে আটকিয়ে রেখে কি লাভ। আমি যুদ্ধ পছন্দ করি না, মুক্তিযুদ্ধ পছন্দ করি। মৃত্যুকে স্বেচ্ছায় আমন্ত্রণ না জানালেও সার্বভৌমত্বের জন্য জীবন বিসর্জনকে স্বাগত জানাই। সেই অর্থে, রাজনৈতিক কর্মীর জন্য জেলজীবন অসহনীয় হলেও অস্বাভাবিক নয়। শুনেছি, জেল না খাটলে বড় নেতা হওয়া যায় না। জেলখানা ঘুরে এসে এখন মনে হচ্ছে, জেলজীবনের এই বিচিত্র রূপ স্বচক্ষে অবলোকন না করলে পৃথিবীই দেখা হতো না। প্রকৃত অর্থেই একবার জেলখানায় পা রাখলে রাজপথে ক্লান্তিহীন পথ চলায় আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয় না।
দুই: রাজপথ থেকে থানাহাজত: ডেস্টিনেশন কেন্দ্রীয় কারাগার
রমনা থানায় হাজতবাস করে থাকলে কাউকে বোধ হয় আর নরক বাসের অভিজ্ঞতা অর্জনের প্রয়োজন হবে না। এ এক আজব জায়গা। প্রশ্রাব-পায়খানা, ময়লা-আবর্জনা ও মানুষের এক বিচিত্র সহাবস্থান। দশ-বারো হাত জায়গার অর্ধেকটা পরিণত হয়েছে পুঁতিগন্ধময় ডাস্টবিনে। বাকি অর্ধেক জায়গায় ঠাসাঠাসি করে ৩৩ জন হাজতির অবস্থান। এক কোণে টয়লেট। জন্মের পর থেকে উহা অদ্যাবধি সুইপারের চেহারা দেখেছে বলে মনে হলো না। পয়ঃনিষ্কাশন পথ বন্ধ থাকার কারণে প্রশ্রাব-পায়খানার স্তূপ টয়লেটের সীমানা পেরিয়ে কক্ষের অর্ধেকটা দখল করে নিয়েছে। মল-কীট, তেলাপোকা ও মাকড়সা মিলে অন্ধকার ভিতরটায় একটা ভুতুরে পরিবেশ তৈরী করে রেখেছে। প্রকৃতির ডাকে সাড়া না দিয়ে পারা যায় না ঠিকই, তাই বলে জীবনের চেয়ে মলত্যাগ ও শৌচকর্মতো আর বড় নয়। হাজতে জুতা পায়ে রাখার নিয়ম নেই। তাই টয়লেটে যেতে প্রতিবারই ঈষদুষ্ণ ইঞ্চি দুই প্রশ্রাবের মধ্যে পদযুগলকে বার তিনেকের জন্য তলিয়ে যেতে হতো।
ফেব্রুয়ারীর ৯ তারিখ। ১৯৯৯ সাল। চার দফার সমর্থনে, আওয়ামী সরকারের বিরুদ্ধে বিরোধীদলীয় ঐক্যজোটের হরতাল চলছে। ছাত্রনেতা হাবিব-উন-নবী সোহেল, আবুল হাশেম রাজু, নাজিম উদ্দিন নাজিম ও কমিশনার চৌধুরী আলমসহ শ’তিনেক লোকের একটি মিছিল নিয়ে প্রেসক্লাব হয়ে মৎস্য ভবনের দিকে যাচ্ছিলাম। জাতীয় ঈদগাহ্ ময়দানের সামনের গোলচক্কর পেরিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সামনে পৌঁছেছি মাত্র। শুরু হলো সামনে পিছনে দু’দিক থেকে পুলিশের সাঁড়াশি আক্রমণ। আশ্রয় নিলাম হাইকোর্ট চত্বরে। সরকারের নির্দেশ চলে না যেই চত্বরে, সেই চত্বরে একজন পুলিশ কর্মকর্তার আদেশ চলবে তা ভাবিনি। যখন টের পেলাম তখন রমনা থানার ওসি রফিকের জীপ শত মাইল বেগে ধেয়ে
