জেলখানার দিনগুলি

« <
/ 81
> »

সেই একমাত্র উপায়টিও জেলখানায় উপেক্ষিত। ভাতে মরা বন্দীদের মনের খোরাক যোগানোর এই কৃপণতা ঔপনিবেশিক মানসিকতাকে হার মানায়। স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় কারাগারের একমাত্র লাইব্রেরীর দৈন্যদশা না দেখলে বিশ্বাস করা যায় না। গোটা পাঁচেক আলমারি, বাংলা সাহিত্যের কিছু ওল্ড ক্লাসিক, ধর্মগ্রন্থ ও ধর্মীয় পুস্তক এবং হাল আমলের সস্তা দরের কিছু উপন্যাস-এই নিয়ে লাইব্রেরীর পুস্তক সম্ভার। বইগুলো কোন আমলে কেনা হয়েছিল জানি না। তবে যতদূর দেখেছি, কোন বইয়েরই সবগুলো পাতা আছে বলে মনো হলো না। মজার বিষয়, প্রায় প্রতিটি বইয়েরই প্রথম কিংবা শেষ পাতা নেই। লাইব্রেরীর ব্যবস্থাপনাও তথৈবচ। জেলখানার দুইজন প্রাইমারী স্কুল শিক্ষক শিক্ষকতা ছেড়ে লাইব্রেরিয়ান সেজে বসে আছেন। লেখাপড়া করাচ্ছেন গুটিকতক কয়েদি। লাইব্রেরিয়ান হলেও আদতে ওনাদের গ্রন্থাগার বিজ্ঞানের কোন জ্ঞান আছে বলে মনে হলো না, থাকার কথাও না। বই ইস্যু ও ফিরতি বইয়ের রেজিস্ট্রার মিলানোর সেকি হাহুতাশ। লাইব্রেরিতে বই তুলতে গেলে এমন অহেতুক ভোগান্তি যে, বই পড়ার তাবৎ সদিচ্ছারই অপমৃত্যু ঘটে। সকালে বই আনতে গেলে বলবে-বারো গুনতির পর আসেন। বার গুনতির পরে গেলে বলবে-কাল আসেন। কাল গেলে বলবে-মাস্টার সাহেবকে জেলার সাহেব ডেকেছেন, ব্যস্ত আছেন, আজ বই দেয়া সম্ভব না। বলা বাহুল্য, এই অদ্ভুত মানসিকতা বই হারানোর সতর্কতা নয়; দায়িত্ব পালনের অলসতা ও অজ্ঞতা মাত্র। বই পড়তে ঘুষ দিতে হয় ঢাকা জেল ছাড়া এমন ঘটনাস্থল পৃথিবীর ইতিহাসে বিরল।

জেলখানার লাইব্রেরিকেন্দ্রিক কিছু শাখার বিষয় আছে। লাইব্রেরির তত্ত্বাবধানে বিভিন্ন ওয়ার্ড ও মেন্টাল এলাকায় পরিচালিত হয় একটি পূর্ণাঙ্গ প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ ৪০টি ক্যাটাগরিভিত্তিক স্কুল। শিক্ষিত কয়েদিদের থেকে নির্বাচিত করা হয়েছে ১০০ জন শিক্ষক। শুনেছি, লাইব্রেরিয়ান প্রতি মাসে স্কুল পরিচালনার জন্য ৩০ হাজার টাকা পান। শতছিন্ন বই ও জোড়াতালি মার্কা শ্লেট দেখে টাকার সদ্ব্যবহার হচ্ছে বলে মনে হলো না। কথা হল জুনিয়র শিক্ষকের সাথে। দুঃখ করে বললেন, “এখানে অনেক বড় মাপের মানুষ আসেন। অনেকেই আশ্বাস ও কমিটমেন্ট দিয়ে যায়, অন্তত লাইব্রেরির জন্য কিছু করবেন। পরে যোগাযোগ করেছি অনেকের সাথে। কেউ কথা রাখেনি”।

বিশ: শেষ কথা

জেলখানা নিয়ে আমার কথাই যে ‘শেষ কথা’ নয় এইটুকু উপলব্ধি করার মতো জ্ঞান আমার আছে। কারণ, জাত যাবার ভয়ে জেলবন্দীদের দুর্গতির অবসানের লক্ষ্যে কেউ কথা বলতে চান না। জেলজীবনের উপর কি একটা

« <
/ 81
> »