অদৃশ্য সংস্কারের রেখা টানা আছে, যা কেউ লঙ্ঘন করেন না, করতে চান না। কিন্তু সংস্কারের মুক্তি তো আর যুক্তিতে হয় না। লেখায় হয় না। তাই অনুনয় রইল, লক্ষ্য না হোক, উপলক্ষ করে হলেও যেন মন্ত্রী-মিনিস্টার ও এমপি মহোদয়রা জেল দুর্গতদের নিয়ে দু’চারটি কথা বলেন। বিভিন্ন সরকারের আমলে বন্দীদের জীবন মানের উন্নয়নের জন্য বহুবার সংস্কার কমিশন গঠন করা হয়েছে। কমিশন উড়োজাহাজে উড়ে অসংখ্য দেশ ঘুরে পাঁচতারা হোটেলে থেকে রংবেরং এর জেলখানা দেখে এসেছেন। গাদা গাদা সুপারিশসহ প্রয়োজনীয় প্রতিবেদনও পেশ করা হয়েছে দফায় দফায়। কাজের কাজ হয়নি কিছুই। এই নির্মম পরিহাসে বিপর্যস্ত কয়েদিদের বলতে শুনেছি, “জেলখানার উন্নতির দরকার নেই। দুর্নীতি বন্ধের ব্যবস্থা করা হলে বন্দীদের জন্য যা আছে, তাতেই কোন রকমে বেঁচে থাকবার উপায় হবে”।
একুশ শতকের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় বিশ্বসমাজ যখন ভাবীকালের স্বপ্নে বিভোর, শতাব্দী ও সহস্রাব্দকে পিছনে ফেলে বিবর্তন ও পরিবর্তনের স্রোতধারায় সামনে চলাই যখন সার্বজনীন মোদ্দাকথা, তখন আমাদের কারাগারগুলো কেন যে প্রাগৈতিহাসিক জড়তাকে আঁকড়িয়ে ধরে পিছনে ফিরে চলার প্রত্যাখ্যাত পথকে পাথেয় করে নিয়েছে তা বলা মুশকিল। কালে কালে জেল বিধানের পরিবর্তন হয়নি এমন নয়; কিন্তু পরিবর্তনে অভাগা বন্দীদের ভাগ্যবিড়াম্বনার অবসান ঘটেনি। বৃটিশ গেল, ভারত ভাঙলো, উদ্ভব হলো স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের। মূলোৎপাটন হলো না শুধু বৃটিশদের রেখে যাওয়া জেল বিধানের। জেলখানাগুলোকে সংশোধনাগারে পরিণত না করা গেলে শুধুমাত্র গ্রেফতার ও সাজা প্রদান করে যে সমাজের অস্থিরতা নিরসনে ভূমিকা রাখা যায় না সে কথা অনুধাবনের জন্য বিশেষ কোন জ্ঞানের প্রয়োজন হয় না। বিশ্বব্যাপী যখন একবিংশ শতাব্দীর মহাজাগরণের প্রস্তুতি চলছে, তখন আমাদের জেলখানাগুলোর এই বেহাল অবস্থা পুরো সমাজ ব্যবস্থাকেই প্রশ্নের সম্মুখীন করে তোলে। সমাজের এই ক্ষত চিহ্নকে বেমালুম চেপে গিয়ে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের সুখী বাংলাদেশ গড়ার পলিটিক্যাল তুবড়িবাজি নিতান্তই পরিহাস মাত্র। আর যদি ক্ষমতাসীনরা ক্ষমতাহীনদের দুর্বিষহ জেলজীবন নিয়ে সুখ পেয়ে ভাবেন, থাকনা। তাহলে বলতে হয় “পরের অনিষ্টের চিন্তা করে যেইজন, নিজের অনিষ্টের বীজ করে সে বপন।” ক্ষমতা কারো জন্য চিরস্থায়ী নয়। আজ যারা রাজপ্রাসাদে রাজত্ব করছেন, কাল এরা রাজপথে সংগ্রাম-ক্লিষ্ট পথ চলবেন এইতো নিয়ম। রাজপথ ও মসনদের অদলবদলের পালায় কারাগার কারো জন্যই অসম্ভবপর বিষয় নয়। পরের সর্বনাশের কথা ভেবে আজ যারা কারা সংসকারের পথ মাড়ালেন
