জেলখানার দিনগুলি

« <
/ 81
> »

পিতা-পুত্রের প্রথম পরিচয় কেন্দ্রীয় কারাগারে একজন খুনী, আরেকজন ছিনতাইকারী।

কাউসার চাকুরি করতো টি.এস.সির সড়ক দ্বীপের খাবারের দোকান ডাসে। ভালই ছিল। হঠাৎ দুর্ভাগ্য এসে ভর করলো ওর উপর। চাকুরি গেল চলে। দু’চারদিন ফুটপাতের দোকানে ফুট-ফরমায়েশ খাটত। এরপর অপ্রতিহত অভাব বালক কাউসারের ক্ষুদে মানবিকতাকে বিভ্রান্ত করে ওকে বানিয়ে দিল ছিনতাইকারী। বন্ধুও জুটে গেল। চার বন্ধু মিলে যুক্তি হলো, মালিকসহ গাড়ি ছিনতাই করে জোরজবরদস্তি করে সই সাবুদ নিয়ে কার সেন্টারে বিক্রি করে দিবে। হাস্যকর! বালক ছিনতাইকারীর দল ঘুর্ণাক্ষরে বুঝতে পারে নাই, যে দেশে মালিক স্বয়ং গাড়ি বিক্রি করতে চাইলে বিআরটি এর চৌদ্দ ঘাটের অহেতুক যন্ত্রণার কারণে গাড়ি চালানোর খায়েশ আজন্মের তরে হিরোহিত হয়, সেই দেশে কাগজে সই নিলেই গাড়ি বিক্রি হয় না। হওয়া সম্ভবও নয়। পরিকল্পনা মতো, বিশ্ববিদ্যালয়ের মসজিদের গেইটে লম্বা বাঁশ হাতে রাস্তার দুধারে দু’জন করে দাঁড়িয়ে গেল। শীতের কুয়াশা ভরা রাত। টিএসি’র দিক থেকে সাদা রং এর একটি প্রাইভেট কার ঘন ঘন ওয়াইপার চালিয়ে ধীর গতিতে এগিয়ে আসছে। নিঝুম রাতের আলো-আঁধারীতে হঠাৎ বাঁশের ব্যারিকেড পেয়ে গাড়িটি আচমকা দাঁড়িয়ে গেল। সামনে ড্রাইভার, পিছনের আসনে একজন মাঝবয়েসী মহিলা। কাউসারের ভাষায়- “ড্রাইভারের গলায় একটা খুরের টান মারতেই মহিলা ডরে ব্যানিটি ব্যাগ আগাইয়া দিল। সাত হাজার ট্যাকা পাইলাম, নিলাম না। বোঝাবার পারি নাই। ট্যাকাও গেল। মাইরও খাইলাম, জেলও খাটলাম।” তিন দফায় জেল খেটেছে প্রায় তিন বছর। কিভাবে বিচার হয়- এনিয়ে ওর কোন ওজর আপত্তি নেই। বের হওয়া নিয়েও কেন মাথাব্যথা নেই। সুঠাম দেহ, যতোসব কষ্টের কামকাজগুলো ওর ভাগে জোটে। এ নিয়েও ওর কোন বালাই নেই। ঠাট্টা মশকারা করে বললাম, কিরে কাউসার, রোযার ঈদতো ধরতে পারলি না, ভাল আয় রোজগার হতো। ওর সোজাসাপটা উত্তর, “কোরবানীর ঈদ পাইলেই অয়। গরু কেনার মোটা পার্টি থাকে। কায়দা মতো একটা ধরতে পারলেই কাফি।” যাইহোক, আমার এই ইতিবৃত্ত হয়তো বালক কাউসারের জীবন-মানের কোন গুণগত পরিবর্তন আনবে না। পাঠকজনের মনে যদি এই অভাগা তরুণের জন্য এতটুকু করুণার উদ্রেগ হয়, সেই মঙ্গল, সেই ভাল।

মেন্টাল এরিয়ার উত্তর-পশ্চিম কোণে কেন্দ্রীয় কারাগারের একমাত্র লাইব্রেরী। বলা হয়-বই অলস সময়ের প্রকৃত বন্ধু। বন্দী জীবনে শিক্ষিত ও রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদের সময় কাটানোর একমাত্র উপায় লাইব্রেরী। রুচিশীল মানুষের বেঁচে থাকার

« <
/ 81
> »