করে ছেলেকে ছাড়িয়ে নিতে হবে। তিন মাস হলো, ওর দেয়া ঠিকানায় ওর বাবা-মায়ের সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না; ফলে ওর মুক্তি হচ্ছে না। কেন্টনমেন্ট এলাকার চৌদ্দ বছর বয়সের ফারুক ও ছোট ভাই তারেকের শাস্তি হয়েছে তিন বছর করে। ছিনতাইকালে হাতেনাতে ধরা পড়েছিল এই দুই সহোদর। সাধারণত এই জাতীয় মামলায় সাক্ষীর অভাবে সাজা হতে দেখা যায় না। বিনা উকিলে যা হওয়ার তাই হয়েছে। দশ সেলের ফুট-ফরমায়েশ খেটে ওদের দিন চলে। জেলখানায় ফারুককে সবাই মজা করে ‘ডাকাত’ ডাকে। এতেই ‘ও’ খুশি।
ছেলেটির নাম কাউসার। সবাই ডাকে ছিনতাইকারী কাউসার বলে। এতে ওর লজ্জায় আড়ষ্ট হওয়াতো দূরের কথা, উপরন্তু একটুখানি আত্ম-অহংকার নিয়েই চটজলদি প্রতিউত্তর- বলেন স্যার! বয়েস বিশের বেশি নয়। চলনে বলনে ভাল। উস্কে না দিলে চুপচাপ থাকতেই ভালবাসে। থাকে শাহবাগ পিজি স্টাফ কোয়ার্টার বস্তিতে। মা ও ছোট বোন থাকে মিরপুর বিএনপি বস্তিতে, জীবন চলে গার্মেন্টসে চাকুরি করে। বাবা খুনের দায়ে যাবজ্জীবন সাজা খাটছে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে। পথ বিভ্রান্ত এই তরুণ কষ্টের অনুভূতিতে নাড়া দেয় বটে, তবে ওর সাথে পরিচয় না হলে জীবনের এই নির্মম সত্যটি জানা হতো না যে কেমন করে জীবনের ঊষালগ্নে, অপ্রতিহত অভাব স্নিগ্ধ তারুণ্যকে টোকাই থেকে ছিনতাইকারীতে পরিণত করে। কেমন করে জীবনের মানে বুঝে উঠার আগেই গ্রেফতার ও নির্যাতনের বাস্তবতাকে অবলীলায় মেনে নিয়ে ছুরি হাতে রাজপথে দাঁড়িয়ে যায় পেটের তাগিদে।
গণপিটুনি ও বেহিসাবি পুলিশী মাইরে অভ্যস্ত কাউসারকে এ ব্যাপারে জিজ্ঞেস করতেই নির্দ্বিধায় বলে উঠলো, “ও কিছু না স্যার, এই লাইনে থাকলে মাইরতো কমবেশি খাওন লাগবই।” ওর ছিনতাই এর এলাকা দোয়েল চত্বর থেকে টি,এস,সি হয়ে শাহবাগ ও কাঁটাবন পর্যন্ত।
বাবাকে ওর মনে নেই। ছোট্টবেলা থেকেই মা বলেছে, বাবা ফিরে আসবে। তারপর একযুগ পার হলো বাবা ফিরে আসেনি। মাকে দেখেছে, মাঝে মধ্যে ঢাকা আসতে বাবার সাথে জেলে দেখা করতে কখনো সঙ্গে আসার সুযোগ হয়নি। সেই অভিমানে একবার মার পিছু নিয়ে সেই যে ভুল লঞ্চে চড়ে বসলো, আর ওর গ্রামে ফিরে যাওয়া হয়নি। এরপর অনেকদিন পার হয়েছে। অভাবের তাড়নায় মা ছোটবোনকে নিয়ে গ্রাম ছেড়েছে। শেষ অবধি মায়ের সন্ধান কাউসার পেয়েছিল বটে, কিন্তু মায়ের স্নেহ-সান্নিধ্যে থাকার নিরবচ্ছিন্ন মানসিকতা তদ্দিনে হারিয়ে ফেলেছে। নিয়তির কি নির্মম পরিহাস,
