জেলখানার দিনগুলি

« <
/ 81
> »

বাড়তি আয়ের যোগান দিতে, প্রতি ডাক্তারকে দিনে পনেরটি ডাইট পাশের ভাগ রাখা হয়েছে।

রোগী মরলো কি মরলো না, রোগ বাড়লো কি কমলো না, এ নিয়ে কারা ডাক্তার বাবুদের কোন বিকার নেই। ঠাট দেখলে মনে হয়, ওরা বন্দীদের রোগী ঠাওরানোতো দূরের কথা মানুষই মনে করে না। মিয়াসাবরা বলেন ভালো, জেলখানায় পোষ্টিং হলে নাকি ডাক্তাররা নিজেদেরকে একেক জন স্বাস্থ্যমন্ত্রী ভাবতে শুরু করেন। কারণ, বন্দীদের যে কোন কিছুতেই প্রতিবাদ করতে নেই। তবে ডাক্তার বাবুদের কিছু কিছু অবহেলা ক্ষমার অযোগ্য। ডেমরার বি.এন.পি নেতা জাকির হোসেন। দিন কতক হলো দশ সেলে ঘটা করে পঞ্চাশতম জন্মদিন পালন করলো। সতেজ মন ও সুঠাম দেহ। চোখে দেখে এতটা বয়স অনুমান করা কঠিন। হঠাৎ একরাতে পাশের কক্ষে থেকে ডাকাডাকি, কান্নাকাটি। এশার নামাজে দাঁড়ানো অবস্থায় জাকির ভাই-এর স্ট্রোক হয়েছে। সারারাত তালাবদ্ধ কক্ষে লোকটি অবচেতন হয়ে পড়ে রইলো। নিয়মের বেড়াজাল ডিঙ্গিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে হাসপাতালে পাঠানো গেল না। কি নির্মম ও বীভৎস। বারো ঘন্টা পর, পরদিন সকল ডাক্তার এলেন, জাকির ভাইকে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে পাঠনো হলো। শুনেছি, সময় মতো চিকিৎসা না পাবার কারণে দেহের এক সাইড প্যারালাইজড হয়ে গেছে।

হাসপাতালের অধীনে আছে পাগল সেল। এটকে পাগলের চিকিৎসা কেন্দ্র না বলে চিকিৎসকদের পাগলামি কেন্দ্র বলাই শ্রেয় হবে। যদ্দুর মনে পড়ে, ছেলেটির নাম রফিক। মামাতো বোনের সাথে গড়ে উঠা দীর্ঘদিনের প্রেম এক সময় দৈহিক সম্পর্ক পর্যন্ত গড়ায়। সবকিছু জানাজানি হওয়ার পর মেয়ের বাবা-মা মেয়েকে জোর করে অন্যত্র বিয়ে দিয়ে ওর নামে নারী নির্যাতনের বিশেষ বিধানে মামলা ঠুকে দেয়। প্রথম দুদিন ভালই ছিল। তিন দিনের মাথায় ওর মধ্যে একটা মানসিক বৈকল্য দেখা দিতে শুরু করলো। পাগলের সার্টিফিকেট দিয়ে ওকে মেন্টালে আটকে রাখা হল। কদিনেই রফিকের পাগলামির মাত্রা বেড়ে গেল। ফলে প্রথা অনুযায়ী শুরু হয়ে গেল কারা হাসপাতালের আদিম জলচিকিৎসা। চৌবাচ্চার পানিতে নাক-মুখ ডুবিয়ে শরীর নিস্তেজ না হওয়া পর্যন্ত জোর করে ধরে রাখা। লম্বাচৌড়া, সুঠাম দেহের অধিকারী রফিকের শরীরে ছিল অসুরের শক্তি। প্রতিদিন সকালে এক ঘন্টাব্যাপী চললো জলচিকিৎসা। ওকে চৌবাচ্চায় চুবানোর জন্য দশ-বারোজন লোকের দরকার হতো। অবশেষে সাতদিন পর চোখের সামনে রফিকের দানবীয় শক্তি ধীরে ধীরে নিস্তেজ হয়ে গেল। অবাক কাণ্ড! এমনতর অমানবিক, নির্মম ও নিষ্ঠুর চিকিৎসায় কাজ

« <
/ 81
> »