জেলখানার দিনগুলি

« <
/ 81
> »

চলে আসবে। কষ্ট লেগেছে, স্কুল সেকশনের বারো বছরের ইদ্রিসকে হিরোইন খেতে দেখে। শিশু ওয়ার্ডে ছয়/সাত বছরের বাচ্চাদের গাঞ্জা টানার দৃশ্য নিজের চোখে না দেখলে বিশ্বাস করা কঠিন। হায় সেলুকাস! কি বিচিত্র এই জগৎ।

চলুন দেখে আসি কারা হাসপাতালের কি হালচাল। সেও এক ভয়াবহ চিত্র। জেলখানা সুস্থ মানুষকে অসুস্থ করে কিন্তু মেরে ফেলে না। কারা হাসপাতাল অসুস্থ মানুষটির মৃত্যু নিশ্চিত করে। এটাকে হসপিটাল না বলে হোস্টেল বলাই শ্রেয়। বড় লোকের নার্সিং হোম। টাকাওয়লাদের আনন্দ-আশ্রম। আপনি যদি জেলের ভিতর বিজলি পাখার বাতাস চান, তক্তপোশে শুয়ে শতছিন্ন মশারীর আবরণ চান, তাহলে কারা হাসপাতালে ভর্তি ছাড়া অন্য কোন বিকল্প নেই। হাসপাতালে ভর্তির ক্ষেত্রে উপযুক্ত টাকার সংস্থান হলে, রোগবালাই এর কোন প্রয়োজন হবে না। দুইশ সীটের হাসপাতাল। গাদাগাদি করে ভরা। তবে এদের মধ্যে সত্যিকার রোগীর সংখ্যা তিরিশের বেশি হবে কিনা সন্দেহ। সত্যিকার অর্থে যারা রোগে শোকে ভুগছে তাদের যত্ন-আত্তির কোন ব্যবস্থাই লক্ষ্য করা গেল না। কর্মকর্তা, কর্মচারী ও বন্দীসহ দশ হাজার লোকের নিয়মিত চিকিৎসা ব্যবস্থায় কোন প্যাথলজিক্যাল এক্সপেরিমেন্ট-এর ব্যবস্থা ও এক্সরে মেশিন নেই। সর্বরোগের একই চিকিৎসা-এন্টিবায়োটিক, প্যারাসিটামল ও হিস্টাসিন। অবশ্য উপযুক্ত টাকা দিলে প্রয়োজনীয় সকল ঔষধ আপনি এখানেই পাবেন। সিরিয়াস রোগীদের টাকা ছাড়া প্রেসক্রিপশন হবে, ঔষধ হবে না। হাসপাতাল নামের এই নার্সিং হোমে থাকতে হলে মাসে আট হাজার টাকা গুনতে হবে। প্রথম কিস্তি থেকে সুবেদার পান পাঁচশ টাকা। বাকি টাকা ডাক্তার বাবুর। উপরস্থ বড় কর্মকর্তার সফরের দিন আগে থেকেই পেইড বোর্ডারদেরকে অন্যত্র সরিয়ে রাখা হয়। বড় বাবুরা জানেন না এমন নয়, তবে চোখের সামনে যাতে না পড়ে এই জন্য এই ওপেন-সিক্রেট লুকোচুরি। বাইরের হাসপাতালে চিকিৎসা করানোর অনুমতিকে জেলের ভাষায় বলে মিনিট করা। আপনি যদি মারাত্মক রোগে আক্রান্ত হয়ে থাকেন এবং আপনি দু’একদিনের মধ্যে মরছেন এ ব্যাপারে নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত ডাক্তার সাহেবরা আপনাকে ছাড়ছেন না। যদি যথাসময়ে সুচিকিৎসা করিয়ে বাঁচার খায়েশ থাকে তাহলে পাঁচ-দশ হাজার টাকা ঢালুন। সকাল বেলা ঘুম থেকে উঠেই দেখবেন আপনি পি.জি হাসপাতালে পৌঁছে গেছেন। হাসপাতালে ভর্তি না হয়েও অবজারভেশন থেকে আপনি হাসপাতালের উন্নত খাবার পেতে পারেন। ডাক্তার বাবুর আরদালিকে একশ টাকা ধরিয়ে দিবেন, পনের দিনের জন্য মেডিকেল ডাইটের বরাদ্দ পেয়ে যাবেন।

« <
/ 81
> »