নিরাময় কেন্দ্র কারা হাসপাতালে নীতিভ্রষ্ট মানুষের মন ও শরীর কোনটারই চিকিৎসার ব্যবস্থা নেই। জানি, এতোসব অসঙ্গতির বিবরণ হয়তো অনেককেই অসুখী করবে। তাই বলে যদি ভাবেন, এটা নিছক কোন রাজনৈকি কর্মীর পক্ষপাতদুষ্ট লেখা, তাহলে বলব যারা তলোয়ার চালাতে জানে তাদের দু’একজন তুলিও চালাতে জানেন।
জেল-জগৎ হলো অবাধ নেশার অবাক পৃথিবী। এখানে গাঞ্জা-ভাং থেকে শুরু করে ফেনসিডিল ও হিরোইনের অফুরন্ত সরবরাহ। এসবি, ডিবি ও নারকোটিক্স ডিপার্টমেন্টের কোন বালাই নেই। ঝামেলাবিহীন রমরমা বাজার। নেশার বাজারে একচ্ছত্র আধিপত্য জেলখানার সুইপারদের। সুইপারদের প্রধানকে বলে ওস্তাগার। ওস্তাগার ছিলেন এমন একজন কয়েদির সাথে কথা হলো। প্রতিদিন গড়ে জেলখানায় লাখ টাকার মাদকদ্রব্য বেচাকেনা হয়। লভ্যাংশের মোটা অংক দিতে হয় কর্তৃপক্ষকে। বাইরের তুলনায় ভিতরের বাজার চড়া। সিগারেটের প্যাকেটের ভিতরের রাংতা করা কাগজে মোড়ানো একপাতা হিরোইনের দাম একশ টাকা। চার ইঞ্চি লম্বা কাগজে রোল করা গাঞ্জার স্টিককে বলে একেকটি বালিশ। এক বালিশ গাঞ্জার দাম আশি টাকা। জেলের ভাষায় গাঞ্জাকে বলে শাকসবজি, ফেনসিডিলকে বলে বাঘের দুধ। এক পাতা ইনোকটিন ট্যাবলেটের মূল্য একশ টাকা। ওয়ার্ডে কামপাসওয়ালা যে কোন কয়েদির মাধ্যমে খবর দিবেন। দশ মিনিটের মধ্যে আপনার নেশার সামগ্রী হাজির। ধূমপানের অভ্যাস ছিল না এমন অনেক ছেলেকে দেখেছি জেলে এসে হিরোইনখোর-এ পরিণত হয়েছে। যুবক ও তারুণ্যের জন্য জেলখানা বড়ই পিচ্ছিল পথ। গরীবকে খাটিয়ে মারা ও ধনীকে নেশায় মারার সকল পাকাপোক্ত ব্যবস্থা এখানে করা আছে। এক পাতা হিরোইনের পয়সা পাবে, এই আশায় অনেক ভদ্রঘরের সন্তানকে অপরের হাত-পা টিপতে দেখেছি। পরের কাপড় চোপড় ধুইয়ে দেয়া থেকে শুরু করে পায়খানার বদনা নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেছি। যারা ভাবেন, জেলখানা সংশোধনাগার ও আত্মশুদ্ধির জায়গা, তাদের প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই বলি আত্মশুদ্ধি নয়, আজকের জেলখানা আত্মধ্বংসের সনাতনী কারখানা। ভাসমান মানুষকে অতলে তলিয়ে দেবার সকল আয়োজন এখানে সম্পন্ন আছে। জেলের ভিতরে নেশার সামগ্রী আসে সাধারণত খাবারের ভিতরে করে। তবে প্রধান বাহন ‘কারেন্ট’। না, ডেসার লোডশেডিং-এর বিদ্যুৎ নয়। নেশাখোরদের অসভ্য পরিবহন ব্যবস্থা। পলিথিনে মুড়ায়ে পায়খানার রাস্তায় ভরে মাল আনা নেওয়ার এই ব্যবস্থাকে জেলের ভাষায় বলে ‘কারেন্ট’। মাল হাতে পৌছানো মাত্র এক মুহূর্তে কিভাবে হাওয়া গেল গেল টেরই পাবেন না। সময় মতো এক গ্লাস পানি ও বাথরুমে এক মিনিট সময় হলেই হলো। মাল
