জেলখানার দিনগুলি

« <
/ 81
> »

আসতে কখনো পকেট গেইটে মাথা নুয়ায়ে ভিতরে প্রবেশ করতে হতো না। প্রধান ফটক উন্মুক্ত করে কর্তৃপক্ষ সসম্মানে শেখ মুজিবকে গ্রহণ করতেন।

১৯৭৩ সাল। মাওলানা ভাসানী, আয়েন উদ্দিন, আব্বাস আলী খান, মাওলানা মান্নান, ফজলুল কাদের চৌধুরী, খানে সবুর, তসলিম উদ্দিন, শাহ আজিজ ও মোঃ ইফসুফসহ অনেকেই তখন মুজিব সরকারের কারাগারে আটক। হঠাৎ একবার এদের দৈনিক পত্রিকা বন্ধ করে দেয়া হয়। খবরের কাগজের বরাদ্দ পুনর্বহালের দাবিতে শেখ মুজিবকে লেখা খানে-এ-সবুরের চিঠিটি ছিল এই রকম- ‘আমরা কতিপয় ভাগ্যবিড়ম্বিত লোক ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে অন্ধকার কারা প্রকোষ্ঠে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়িতেছি। দেশ ও বহির্বিশ্বের খবর জানার মাধ্যম ছিল একমাত্র পত্রিকা। সেটাও তুমি বন্ধ করে দিলে। পুনরায় আমাদের জন্য পত্রিকা সরবরাহ করলে খুশি হব’। শুনেছি, চিঠি পাওয়ার পরদিন থেকেই শেখ মুজিব পত্রিকা পুনর্বহালের নির্দেশ দেন। তবে, একটা কথ্য সত্য যে, মুজিব আমলে জেলখানা হয়ে উঠে মুজিব আদর্শের সাথে ভিন্নমত পোষণকারী জাতীয় রাজনৈতিক নেতাদের মিলন মেলা। ভাষা সৈনিক আব্দুল মতিন, অলি আহাদ, টিপু বিশ্বাস, বিমল বিশ্বাস, শফিউল আলম প্রধান, আসম আবদুর রব, মেজর জলিল, নূরে আলম জিকুসহ অনেক প্রগতিমনা রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও একসময়কার আওয়ামী নেতাদেরও মুজিব আমলে কারাগারে দিন কাটাতে হয়েছে।

ইতিহাসের এতোসব অমোঘ পটপরিবর্তনের মধ্যে দিয়ে বন্দীদের জীবনমানের অধোগতি নিয়ে তাই কালে কালে যে বিদ্রোহ, আন্দোলন, সংগ্রাম হয়েছে তার কোনটাই বিফলে যায় নাই, পুরোপুরি সফল হয়েছে এমনও বলা যাবে না। জেল বিদ্রোহের বিপ্লব, আন্দোলন, সংগ্রামের ওপর রাজনীতিক অলি আহাদের মন্তব্য স্মরণ করা প্রাসঙ্গিক হবে, ‘কারাগার হচ্ছে সব দেশের সব জালিম সরকারের সুপ্রতিষ্ঠিত দুর্গ। দুর্গান্তরালে নিরস্ত্র বন্দীদের পক্ষে কোন প্রকার বিদ্রোহাত্মক ও সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপ আত্মঘাতী। জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন অবস্থায় কারান্তরালে ন্যূনতম সংগ্রামও সম্ভব নয়।’ কারা অধিকর্তাদের দায়বদ্ধতাহীন অসীম ক্ষমতা প্রসঙ্গে জাগপার আনিসুর রহমান বলেন, ‘কারাগারের বন্দীরা ভিন্ন প্রজাতির ভয়ংকর জীব; এদের বাগে রাখতে হলে কারাগারে একটা বিভীষিকার ভাব বহাল থাকা চাই- এই দৃষ্টিকোণ থেকেই কারাপ্রশাসন পরিচালিত।’

আঠারো

নেশার জগৎ ও কারা হাসপাতাল

জেলখানা এক আজব জায়গা। অনিয়মই এখানে নিয়মের বিধানে পরিণত হয়েছে। লম্বা কারাবাসের একঘেয়ে জীবন অনেক সময় বন্দীদের পথভ্রষ্ট করে ফেলে। জালেম হয়তো কামেল হয়ে যায়, আবার ভাল মানুষ নীতিভ্রষ্ট হয়ে নেশায় ধুঁকে। দুর্ভাগ্য, জেলের একমাত্র

« <
/ 81
> »