জেলখানার দিনগুলি

« <
/ 81
> »

গুলির নির্দেশ দিলেন, সাথে সাথেই শুরু হয়ে গেল জেল ইতিহাসের জগন্য ট্র্যাজেডী খাপড়া ওয়ার্ড হত্যাকান্ডের সাঁড়াশি আক্রমণ। দরজা বন্ধ থাকায় জানালার ফাঁক দিয়ে শুরু হলো অবিরাম গুলিবর্ষণ। থেমে গেল প্রাণের স্পন্দন। জমপুরীর নীরবতা গ্রাস করে নিল সব কিছুকে। খাপড়া ওয়ার্ডের ফ্লোর বেয়ে গড়িয়ে পড়তে লাগলো তাজা রক্তের স্রোত। এরপর দরজা খুলে নিহত আহতদের ওপর চললো দফায় দফায় লাঠিপেটা ও হান্টারের আক্রমণ। ঘটনাস্থলে প্রাণ হারালেন রাজশাহীর বিজনসেন, কুষ্টিয়ার হানিফ শেখ ও দেলোয়ার, খুলনার আনোয়ার, ময়মনসিংহের সুখেন ভট্টাচার্য, রংপুরের সুধীন ধর এবং দিনাজপুরের কম্পমান সিং। গুরুতর আহত ও পঙ্গুত্ব বরণ করে প্রাণে বেঁচে রইলেন, বর্ধমানের কমরেড মনময়, যশোরের আব্দুল হক। বগুড়ার শ্যামা প্রসাদ সেন, পাবনার আমিনুল ইসলাম বাদশা, পবিত্র প্রসাদ রায়, নন্দ স্যানাল, বরিশালের সদানন্দ ঘোষ, সিলেটের প্রিয়ব্রত দাশ ও অনন্ত দেবসহ অনেকে। এদের মধ্যে অনেকেই ইহলোক ত্যাগ করেছেন।

আমিনুল ইসলাম বাদশার স্মৃতিতে খাপড়া ওয়ার্ড ট্র্যাজেডীর বীভৎসতা এই রকম: “আমরা প্রস্তুত ছিলাম না। তারপরও আক্রমণ প্রতিহত করার চেষ্টা করলাম। থালা, বাটি, শিশি, ঘটি, দোয়াত, বদনা যা হাতের কাছে পেলাম তা নিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলার চেষ্টা করে ব্যর্থ হলাম। আমাদের পিটিয়ে চ্যাপ্টা করে দেয়া হলো। এ যেন এক নরক। কোন এক দানব এসে সব চুরমার করে ভেঙ্গে দিয়ে গেল।” প্রয়াত আব্দুস শহীদ ঘটনাটিকে চিত্রায়িত করেছেন এইভাবে, “কেউ যদি কোন কাল্পনিক নরকের ভয়াবহ চিত্র কোনদিন কল্পনা করে থাকে তার কল্পনার সাথে এই বাস্তব চিত্র সাদৃশ্য থাকবে নিশ্চয়ই”।

এযাবৎকাল জেল ইতিহাসের বিদ্রোহ-উপাখ্যানের সবচেয়ে ভয়ংকর ও লোমহর্ষক ঘটনা ঘটেছে আশির দশকে খুলনা কারাগারে। ১৯৮০ সালের ডিসেম্বর মাস। বিদ্রোহের সময় খুলনা জেলে কর্মরত ছিল, নম্বর প্রকাশে অনিচ্ছুক দেলোয়ার নামের এমন একজন কারারক্ষীর কাছ থেকে এই বীভৎস কাহিনীটি শোনা। খুলনা জেল ট্র্যাজেডীতে কর্তৃপক্ষের নরহত্যার চেয়ে বন্দীদের নারকীয় তাণ্ডবের প্রতি নাকি সমর্থনের চেয়ে ধিক্কারই হয়েছে বেশি। প্রায় চব্বিশজন কারারক্ষী ও একজন ডেপুটি জেলারকে জিম্মি করে বন্দীদের এই বিদ্রোহ চলে তেইশ দিন। বন্দীরা জেলের নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করে কারাগার থেকে বঙ্গভবন অব্দি আলোড়ন তোলে দেয়। সুবিধা আদায়ের নামে জিম্মিদের আটক অবস্থার সুযোগে ভাল উদ্যোগের পাশাপাশি যোগ হয় মন্দমাত্রা। যেমন, পনের দিন অন্তর একদিন স্ত্রী-সহবাসের সুযোগ দিতে হবে ইত্যাদি। ১২০০ বন্দীর মধ্যে

« <
/ 81
> »