বাজনা আরও ভয়ংকর হয়ে উঠে। মোটকথা, পাগলা ঘনিট বাজানোর সময় ভেদে যৌক্তিক হলেও শেষাশেষি সকল পাগলা গন্টিই জেল সিপাইদের অপ্রয়োজনীয় উৎপাত ও প্রতিহিংসা চরিতার্থের উন্মত্ত মানসিকতার ফলে অযৌক্তিক অনাচারে পর্যবসিত হয়। এই অন্যায়ের কোন প্রতিকার নেই। নেই কোন জবাবদিহিতাও। নির্যাতনের হুমকি দিয়ে উৎকোচ আদায়ের ফন্দি চলল আরও পনের দিন। বিচারের মালিক আদালত। জেলখানা বন্দীদের সাজা খাটিয়ে নেওয়ার আবাস মাত্র। কিন্তু কোন আইনের বিধানে জেল কর্তৃপক্ষ এহেন নির্যাতনের বর্বরতা অব্যাহত রেখেছে, সেটা আমার বোধগম্য হলো না।
মোটকথা, পাগলী বাজানোর প্রয়োজনীয়তা সময়ভেদে যৌক্তিক হলেও শেষাশেষি সকল পাগলা ঘন্টিই জেল সিপাইদের অপ্রয়োজনীয় উৎপাত ও প্রতিহিংসা চরিতার্থের উন্মত্ত মানসিকতার ফলে অন্যায়-অনাচারে পর্যবসিত হয়। এই অন্যায়ের কোন প্রতিকার নেই, নেই কোন জবাবদিহিতাও। এই স্বাধীন দেশে এহেন নির্যাতনে অতিষ্ঠ বন্দীদের খেদোক্তি অনেকটা এই রকম:
“ধরা যাবে না, ছুঁয়া যাবে না,
বলা যাবে না কথা,
রক্ত দিয়ে পেলাম শালার এমন স্বাধীনতা।”
সতেরো: কালান্তরের জেল বিদ্রোহ
জেল জীবনের অধোগতি ঠেকাতে কালেকালে বন্দীদের মধ্যে বিদ্রোহ হয়েছে, হচ্ছে, হয়তো হবেও। প্রাণেরও সংহার হয়েছে অনেক বিপ্লবীর। বন্দী জীবনে বিদ্রোহ, আন্দোলন, সংগ্রামের বড় হাতিয়ার অনশন। কালা পানির দেশ আন্দামান থেকে শুরু করে আজতক সময়ান্তরে অসংখ্য বিদ্রোহের নজির আছে। একথা বলা অত্যুক্তি হবে না যে, এসব বিদ্রোহ অন্যায় পথে হয়নি। শেরপুরের বিপ্লবী রবি নিয়োগী ৩৬টি বছর কাটিয়েছে কারান্তরালে। জেল জীবনের আদিলগ্নে পাঁচ বছর কাটিয়েছেন দ্বীপান্তরে। গহীন জঙ্গলে জীবন সংহারী মশার কামড়ে কতো যে বন্দীর তিরোধান ঘটেছে আন্দামান দ্বীপপুঞ্জে তার হিসাব নিকাশ নেই। তখন স্বদেশী আন্দোলনের দুর্দান্ত প্রতাপ। নামকরা স্বদেশী ধরা পড়লেই দ্বীপান্তরিত হতো আন্দামানে।
গেল শতাব্দীর ষাটের দশকের কথা। ১৯৫২ সাল। চল্লিশ-এর জেল কোডের বাতিলকৃত সুযোগ-সুবিধা পুনর্বহালের দাবিতে শুরু হলো অনশন। চললো এক নাগাড়ে বায়ান্ন দিন। একদিকে দিনের পর দিন না খেয়ে থাকা মৃতপ্রায় মানুষগুলোর অন্তিম করুণ অবস্থা। অন্যদিকে না খেয়ে মরতে না দেয়ার কর্তৃপক্ষের দানবীয় জবরদস্তি। গরু-ছাগলের মতো চার পা বেঁধে জোর করে নাক দিয়ে তরল খাদ্য ঢোকানোর প্রচেষ্টা চললো শেষ পর্যন্ত। এমনি একদিনের কথা। জোর করে নাক দিয়ে দুধ খাওয়াতে গেলে দুধ লাঞ্চে গিয়ে শুরু হলো রক্তক্ষরণ। ইহকাল ত্যাগ করলেন বিপ্লবী সিবেন রায়। বায়ান্নের জেল অনশন শুরু হয়েছিল জুম্মার নামাজে মতবিনিময়ের
