করার অবস্থা ওদের ছিল না।’ একথা ঠিক, নানু কারাবরণ করুক এমনটা কেউই চাইনি। তবে, নানু থাকাতে আমার দ্বিতীয় কারাবাসের সময় কাটনো সহজ হয়েছে। জেলে আসার দিন কতক পর দেখা গেল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে ছাত্রদল-ছাত্রলীগের গুলাগুলিতে নিহত পার্থ প্রতিম আচার্যের পেন্ডিং হত্যা মামলা পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে নানুর নামে। কথায় বলে, নামে নামে যমে টানে। কোথাকার জল কোথায় গড়ায়। বরিশাল থেকে এসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের খুনের মামলা খেয়ে বসেছে। মজার ঘটনা। সূর্যসেন হলের ক্যাফেটরিয়ার সামনে যেদিন পার্থ নিহত হয় ওইদিন ফাকা গুলিতে জসিম উদ্দিন হলের মাঠে একটি গরু মারা পড়ে। সোহেল ভাই রসিকতা করে বলতো, ‘নানু বরিশালের ছেলে ওর নামেতো আর পার্থ মার্ডার কেইস হওয়ার কথা নয়। সম্ভবত ভুলে গরু মার্ডার কেইসটিই ওর নামে পাঠানো হয়েছে। সেই থেকে দশ সেলে নানুর নতুন নাম Cow Killer নানু। সোহেল ভাই
ডাকতো CK নানু।
‘৯৬-তে, জেল বিদ্রোহের নাম করে সেন্ট্রাল জেলে পাগলা ঘন্টি বাজিয়ে যখন বন্দীদের ওপর গণপিটুনি চলছিল, তখন আমার সহবন্দী নাসির উদ্দিন পিন্টু বিশ সেলে। উনিশে ডিসেম্বর ‘৯৬। সকাল ১১.৩০ মিঃ আচমকা বেজে উঠল পাগলা ঘন্টি। কোন কিছু বুঝে উঠার আগেই আদিম বর্বরতায় মেতে উঠল জেল সিপাইরা। পনের দিন ধরে তালাবন্দী করে রাখা হলো সকল বন্দীকে। দেখা সাক্ষাৎ বন্ধ। চারিদিকের আতংকের ছায়া। রাত নামতেই নিঝুম নীরবতা। মাঝরাতে হঠাৎ বীভৎস চিৎকারে জেগে উঠতো পুরো জেলখানা। গভীর রাতে কেইস টেবিলের বারান্দায় পিলারের সাথে বেঁধে হ্যান্ডকাপ লাগায়ে, ভোর রাত পর্যন্ত চলতো উন্মত্ত অত্যাচার, নির্যাতন। দীর্ঘদিন পর আওয়ামী ক্ষমতারোহণের সুবাদে গণমুক্তির প্রত্যাশায় দেশের সকল জেলখানাতেই তখন চলছে চাপা উত্তেজনা। শুনেছি, ঢাকা জেলে তিন খাতায় এক হাজতি কাইর্যার (বালতি) আঘাতে এক মিয়াসাবকে জখমকরণের মধ্য দিয়ে এই পাগলা ঘন্টির সূত্রপাত ঘটে। কথিত আছে, এর পুরোটাই ছিল making game হাজতি, কয়েদির এই মারামারি ছিল জেল বাবুদের সাজানো নাটকের অংশ বিশেষ। বাইরের জেলের বিদ্রোহের দাবানল ছড়িয়ে পড়ার আগেই এই ঘন্টি মাইরের আয়োজন ছিল আগাম প্রতিষেধক। বিদ্রোহের নাম করে, যখন যাকে ইচ্ছে তালা খুলে কেইস টেবিলে এনে নির্যাতনের পর্ব অব্যাহত রইল প্রায় এক মাস। কখনো কোন রক্ষী ও কর্মকর্তার সাথে কথা কাটাকাটি হয়েছে এমন অবনতিশীল সম্পর্কের জের ধরে প্রতিহিংসা মেটানোর কারণে ঘন্টি
