বরিশাল জেলে। একুশ বছরের ক্ষমতাহীন আওয়ামী লীগের কারান্তরীণ নেতা-কর্মীরা বিজয় দিবসকে সামনে রেখে মুজিব আমলের মতো গণমুক্তির প্রত্যাশায় ব্যাকুল। কিন্তু দিন বদলের পালায় বাকশালী আওয়ামী লীগের মতো আজকের আওয়ামী সরকার ইচ্ছে করলেই যে ক্ষমতার ততটা অপব্যবহার করতে পারে না, ওরা এটা বুঝতে পারে নাই। ডিসেম্বরের পনের তারিখ থেকেই চাপা উত্তেজনা। কর্তৃপক্ষ আঁচ করতে পেরে দিন তিনেক আগে থেকেই দেখা সাক্ষাৎ বন্ধ করে দিয়েছে। রেডিও ক্লোজ না করবার কারণে যশোরের কারা বিদ্রোহের খবর মুহূর্তের মধ্যে জেলাভ্যন্তরে ছড়িয়ে পড়ে। এরমধ্যেই ক্রমাগত বাঁশির হুইসেল। পাগলা ঘন্টি। শোনা গেল, ফেনডিসিল মামলায় সাত বছরের সাজাপ্রাপ্ত কয়েদি সোহেল কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে ইটের আঘাতে এক কারারক্ষীর মাথা ফাটিয়ে দিয়েছে। শুরু হলো নারকীয় তাণ্ডব। মারপিট, অত্যাচার, নির্যাতনের এক অমানবিক, অসভ্য, আদিম অধ্যায়। কর্তৃপক্ষ যে এহেন একটা পরিস্থিতি সৃষ্টির পাঁয়তারা করছিলেন সেটা বোঝা গেল তখন, যখন ঘন্টি পড়ার সাথে সাথেই সিপাইরা লাইন ধরে পুকুর ঘাটে জলের তল থেকে পাকা বাঁশের লাঠি তোলে আনতে শুরু করলো। ৯২৫ জন বন্দী। রক্ষী ২৫০। দশ জনের গ্রুপে বিভক্ত হয়ে, পাঁচ মিনিট অন্তর অন্তর লাঠিপেটা চলতে থাকল। মিনিট পাঁচেক পর একজনের ওপর ক্রমাগত দশ জনের লাঠির বাড়ি। রক্তের বন্যায় ভেসে গেল কারাগারের আঙ্গিনা। কারও মাথা থেঁতলে গেল, কারও হাত-পা ভেঙ্গে ঝুলতে থাকল। শরীরের মাংস অক্ষত আছে, এমন রইল না একজনও। হাজার মানুষের আহাজারি, গোঙ্গানী ও আর্তচিৎকারে বাতাস ভারী হয়ে উঠলো। ওদের মনে এতটুকু মায়ার উদ্রেক হলো না। সন্ধ্যা নাগাদ ডি.সি সাহেব আসলেন। ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি এসে রক্ত ধুয়ে মুছে দিয়ে গেল। পরদিনও আহতের কাউকে ওই জায়গায় পড়ে কাতরাতে দেখা গেছে। পালাক্রমে এই নির্যাতন চললো পক্ষকালব্যাপী। একমাসের জন্য দেখা সাক্ষাৎ বন্ধ। গোসল বন্ধ। আর খাবারের জন্য মাসব্যাপী বরাদ্দ ডাইলে-চাইলে খিচুড়ি, তিন বেলা। দুঃসহ যন্ত্রণার জেলবিদ্রোহের স্মৃতিচারণ করেছে নানু এই ভাবে, ‘আমি বেঁচে গেছি কারা হাসপাতালে ছিলাম বলে। না হলে নিশ্চিত মারা যেতাম। কায়দা করে আশ্রয় নিয়েছিলাম বাথরুমে। মনে করতেই কষ্ট হয়, তিন দিন তিন রাত কেটেছে ওখানেই। ওখানেই থাকা খাওয়া, ওখানেই নামাজ কালাম। আমার জন্য শাপেবর হয়েছে এই কারণে যে মাইরের চোটে মেডিকেলে বন্দীদের অবস্থা এতটাই কাহিল ছিল যে, মেঝ থেকে উঠে এসে বাথরুম
