জেলখানার দিনগুলি

« <
/ 81
> »

কিনা। কিছু খেতে ইচ্ছে করছে কিনা ইত্যাদি। সাধ্যাতীত না হলে কর্তৃপক্ষ আসামীর শেষ ইচ্ছাটি পূরণের সুযোগ করে দেন। ডঃ ইকবাল ফাঁসির মঞ্চে যাবার আগে তার শেষ ইচ্ছা পূরণের সুযোগে বলেছিলেন যে, তিনি নতুন ব্লেডে দাঁড়ি কামাতে চান। চাঞ্চল্যকর শারমীন রিমা হত্যার আসামী মুনির শেষ দিন আম খাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিল এবং ফাঁসির মঞ্চে যাওয়ার সময় একটি সিগারেট খেতে চেয়েছিল। সাম্প্রতিক সময়ে নিষ্ঠুর ধর্ষণ মামলার আসামী হাসান’ ফাঁসির আগে মদ খেতে চেয়েছিল। অবশ্য তার এই আবদারটি পূরণ করা হয়নি। কর্ণেল তাহেরের ফাঁসির দিনে তৎকালীন জেলার মিঃ মিনহাজুদ্দিন যখন বার বার জিজ্ঞেস করছিলেন তাঁর কিছু খেতে ইচ্ছা করছে কিনা- কর্ণেল নাকি রাগান্বিত হয়ে বলেছিলেন, ‘জেলার আপনি জীবনে যা দেখেন নাই এমন অনেক কিছুই আমার খাবার সৌভাগ্য হয়েছে। অতএব বিরক্ত করবেন না প্লিজ’। আদালতের রায়ের ফাঁসির আসামীদের দিনকাল আবেগ, কান্না, উৎকণ্ঠায় কাটলেও ক’দিনে সব কিছু মেনে নিয়ে স্বাভাবিক জীবনযাত্রার চেষ্টা করে। অনেকে সবকিছু ভুলে দিনরাত নামাজ কালামে ব্যস্ত থাকে। অসম্ভব ভয়ংকর ব্যক্তিও নাকি ফাঁসির সেলে নীরব-নিথর হয়ে যায়। মিয়াসাবদের দিকে ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে থাকে। এক নম্বর কক্ষটির পার্শ্বেই একটি কাঠের দরজা। এই দরজাকে বলে আখেরি দরজা। মিয়াসাবরা বলেন- এই দরজা দিয়ে কেউ ঢুকলে আর ফেরৎ আসে না। দরজাটি খুললেই সামনে চোখে পড়বে ফাঁসির চত্বর। একটু উঁচু প্ল্যাটফর্মে টিনশেডের নিচে স্থাপিত ফাঁসির মঞ্চটি। মেঝেতে নাটবলটু দিয়ে লাগানো দু’টি কাঠের খুঁটি। খুঁটি দুটির সাথে আড়াআড়িভাবে সংযুক্ত আছে একটি লোহার বার। এই বারের মাঝখানে ঝুলছে ফাঁসির দড়ি। ফাঁসির দড়িটি নিয়ে অনেক কাহিনী চালু আছে। অসম্ভব মোটা পাটের রশি। একমাথায় লাগানো আছে একটি বিদেশী পিতলের কড়া। ফাঁসির সাতদিন আগে থেকে রশিটির সেবা-যত্নের জন্য তিন-চারজন লোক নিয়োগ করা হয়। দড়িকে পিচ্ছিল করার জন্য শুরু হয় বিরতিহীনভাবে রশির গায়ে কলা, ডিম ও ঘি মদন, যাতে রশির ত্রুটিতে নিশ্চিত মৃত্যুর কোন ব্যাঘাত না ঘটে। ফাঁসি কাষ্ঠের নিচেই আছে মৃত্যুকূপ। মৃত্যুকূপের ওপরে বিশেষভাবে সেট করা আছে হ্যান্ডেল নিয়ন্ত্রিত দুই পাল্লার কাঠের পাটাতন। সময় হলেই জল্লাদ হ্যান্ডেল ধরে টান দিতেই পাটাতন দুটি খুলে দু দিকে ঝুলে পড়বে। ফাঁসির চূড়ান্ত মুহূর্ত উপস্থিত। যম টুপি পরায়ে, দুই হাতে হ্যান্ডকাপ লাগায়ে আখেরি দরজা দিয়ে

« <
/ 81
> »