অবতার বনে যান। কথায় বলে, জেলের বাইরে থাকলে সন্ত্রাসীরা থাকে একেকজন মন্ত্রী-মিনিষ্টার আর জেলে গেলে বনে যান প্রেসিডেন্ট। ওদের জন্য ফাইল ও ডাইলের যন্ত্রণা নেই। নারী সরবরাহ ছাড়া বিলাসের বাকি সকল কিছুই ওদের জন্য রেডি থাকে। অর্থাৎ, জেলকোডের নিয়ম-কানুন ও পানিশমেন্ট সকলই নিরীহ বন্দীদের জন্য।
পনের: ফাঁসির সেলের অজানা কথা
ফাঁসির সেল ও ফাঁসির মঞ্চকে ঘিরে মানুষের অন্তহীন কৌতূহল আজন্মকালের। কেমন দেখতে ফাঁসির কাষ্ঠটি, ফাঁসির মঞ্চে দাঁড়িয়ে কেমন হয় নিশ্চিত মৃত্যুপথযাত্রী লোকটির শেষ প্রতিক্রিয়া। কৌতূহলী পাঠকের এতোসব প্রশ্নোত্তর সন্ধানে আমি ঘুরে বেড়িয়েছি, জেলের প্রতিটি চত্বরে। কথা বলেছি মৃত্যুদশা প্রত্যক্ষকারী অনেক কর্মচারীর সাথে। ফাঁসির সেলে থেকেছেন এমন সহ-বন্দীদের অভিজ্ঞতার কাহিনী শুনেছি দিনের পর দিন। ফাঁসির আদেশ জেল গেইট আসা মাত্রই আসামীকে স্থানান্তরিত করা হয় আট নম্বর সেলে। আট নম্বর সেলকে বলা হয় কনডেমন্ সেল। কনডেমন্ সেলের অন্ধ কুঠুরিতে বসে শুরু হয় হাইকোর্ট, সুপ্রিম কোর্ট ও সর্বশেষ ধাপ রাষ্ট্রপতির বিশেষ ক্ষমার প্রত্যাশায় মুক্তির প্রহর গোনা। মানুষের পক্ষে সকলই সম্ভব। বধ্যভূমিতে এক ভয়ংকর ও ভীতিকর পরিবেশে, ফাঁসির সেলের অন্ধ প্রকোষ্ঠেও একদিন মানুষ নিজেকে খাপ খাইয়ে নেয়। প্রস্তুত হয়ে যায় নিশ্চিত মৃত্যুকে মোকাবেলার জন্য। মানুষ মরণশীল। কিন্তু দিনক্ষণ ধরে মরে যাবার এই ব্যবস্থাটি বড়ই নিদারুণ। ফাঁসির সেলের ফ্লোর একটুখানি উঁচু করে তৈরী। দু’ধাপ সিঁড়ি বেয়ে রুমে ঢুকতে হয়। রুমের ভিতরে এক পাশে ঘেরাও দিয়ে তৈরি করা হয়েছে ল্যাট্রিন। দরজা এতই নীচু যে, ল্যাট্রিন বসলে বাইরে থেকে মাথা দেখা যায়। আসামীকে সার্বক্ষণিক নজরে রাখার জন্য এই অদ্ভুত ব্যবস্থা। প্রত্যেকটি কক্ষের জন্য একজন করে নিরাপত্তা প্রহরী। মনিটরিং-এর জন্য থাকে একজন জমাদার। চব্বিশ ঘন্টার লকআপে বসে শুধু নিশ্চিত মৃত্যুর জন্য অপেক্ষা করা। ভাবপ্রবণ শিল্পীর অন্তহীন ভাবনায়-
দিন রাত এখানে থমকে গেছে
কনডেম সেলের পাথর দেয়ালে। প্রতি নিঃশ্বাসে মৃত্যুর দিন আমি গুনছি
শোন, জেল থেকে আমি বলছি।
ফাঁসির নির্দেশ কার্যকর করা হয় রাত্রির দ্বিপ্রহরের যে কোন সময়ে। দিনক্ষণ ঠিক হলে কর্তৃপক্ষ স্বীয় উদ্যোগে আসামীর আপনজনকে ডেকে এনে শেষ দেখার ব্যবস্থা করেন। প্রথা আছে, ফাঁসির দিন বিকেলে জেলার সাহেব এসে আসামীর সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় করে তাকে নিশ্চিত মৃত্যুপরোয়ানাটি পড়ে শোনান। জানতে চান মৃত্যুর পূর্বে তার কোন শেষ খায়েশ আছে
