যাতে বন্দীরা না রাখতে পারে তার জন্য এই চিরুনি অভিযানের প্রহসন। অথচ সত্যি এই যে কাপড় চোপড়ের বাইরে যতসব জিনিসপত্র আছে প্রায় সবই নিষিদ্ধ তালিকায় পড়ে। মনে হলো, নিষিদ্ধ মালামাল না পেলে বরঞ্চ মিয়াসাবদের মেজাজ গরম হয় বেশি। শুরু হয় চেকিং এর নামে বিছানাপত্র ও ব্যাগ-বোঁচকা লণ্ডভণ্ডকরণ প্রক্রিয়া। বাথরুমের কাছে ডেকে নিয়ে নগদ বিশ টাকা ও একটা সিগারেট ধরিয়ে দিবেন মুহুর্তেই গরম মেজাজ নরম করে একটা লম্বা সালাম ঠুকে বেরিয়ে যাবে। উটকো ঝামেলা এড়ানোর লক্ষ্যে অনেকে বিশ টাকা ধরিয়ে দেয়াকেই শ্রেয় মনে করেন। সত্যি বলতে কি, আমাকেও তাই করতে হয়েছে।
কারাগারে ‘ফাইল’ শব্দটির বহুবিধ ব্যবহার রীতিমত হাসির উদ্রেক করে। শাহ মোয়াজ্জেমের ভাষায়, “ফাইল, ডাইল আর গাইল-এই তিনটি হলো জেলখানার বিশেষত্ব।” প্রয়োজনে, অপ্রয়োজনে সকল কার্যপ্রণালীর সাথে এই ফাইল শব্দটি জুড়ে না দিলেই নয়। জেল সুপার পালা করে একেক এলাকা পরিদর্শনে আসেন। জেলের ভাষায় একে বলা হয় সুপার ফাইল। সুপার ফাইলের দিন সকাল থেকেই ঈদ-ঈদ ভাব শুরু হয়ে যায়। দশটার মধ্যে সব ধুয়ে-মুছে তক্তকা, ঝক্ককা। কোথাও একটা গাছের পাতা পর্যন্ত পড়ে থাকতে দেখা যায় না। সুপারিনটেনডেন্ট এলাকায় পা রাখতেই ঘন্টা ধ্বনি বেজে উঠবে। সাথে সাথে সকল আসামীদের তালাবন্দী করে রাখা হবে। মহাশয় তার জেলার, ডেপুটি জেলার, সুবেদার ও অন্যান্য কর্মকর্তাসহ সদলবলে ঘুরে ঘুরে সকলের ভাল-মন্দ খোঁজ-খবর নেন। তবে খাতা এলাকায় ফাইলের দিন কষ্টের অন্ত নেই। এরপর তিন বেলা গুনতি ফাইল। সকালের গুনতি, বারো গুনতি ও লকআপ গুনতি। গুনতির সময় হতেই খাতায় পাহারার চিৎকার শোনা যায়, “ফাইল, ফাইল”। সেল এলাকায় সাধারণত গুনতি ফাইলের যন্ত্রণা নেই। একেক দিন একেক এলাকায় সাধারণ মেডিকেল চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়। একে বলে মেডিকেল ফাইল।
মোট কথা, জেলের সকল কিছুই বন্দীদের জন্য একরকমের পানিশমেন্ট বলা চলে।
বিচারপতির রায়ের সশ্রম ও বিনাশ্রম কারাদন্ডের কোন তফাৎ কারাগারে আছে বলে মনে হলো না। জেলখানার পৃথিবীটা কর্তৃপক্ষের সুবিধামতো তৈরী করা। ওখানটায় কয়েদ খাটা আর শাস্তিভোগের কোন তারতম্য নেই। তাছাড়া পানিশমেন্ট যাদের পাওয়ার কথা, টাকার জোরে তারা খোদ পানিশমেন্ট সেলটাকেই আনন্দ-আশ্রম বানিয়ে নিয়েছে। সাধারণ বন্দীদের সাথে যে জেলার ডেপুটি জেলাররা এতোটা কর্কশ ব্যবহারে অভ্যস্ত, সেই কর্মকর্তারাই পানিশমেন্ট সেলের গডফাদারদের সাথে কথা বলতে গেলে বিনয়ের
