করেই যাদের বাগে আনা যায় না তাদেরকে মানুষ করার জন্য আর কিইবা করার থাকে। ওরা একবার গেইটে গেলে লক-আপের আগে ফিরে না। মোটকথা, যতটা সময় বাইরে থাকা যায়। সিপাইরা এদের সাথে লাগালাগি করে ব্যক্তিগত শত্রুতে পরিণত হতে চায় না। ফলে, পনের সেল এখন নামে মাত্র পানিশমেন্ট সেল, কামে নয়। বরংচ B-class গুলো ভদ্র পরিবেশের চাইতে পনের সেলে থাকতেই স্বাচ্ছন্দ বোধ করে। মাসের পর মাস ডান্ডাবেরি টানছে, কোন বিকার নেই।
পুরনো বিশ সেলকেও Punishment Cell হিসাবেই গণ্য করা হয়। একতলা ভবন। চারটি করে কক্ষ নিয়ে একটি করে ব্লক। প্রতিটি ব্লকের জন্য একটি কমন বারান্দা। এই পর্যন্তই চলাচলের সীমানা। ঘরের মেঝের একাংশ ঘেরাও দিয়ে তৈরি করা হয়েছে ল্যাট্রিন। কক্ষগুলো এতই ছোট যে, বড়জোড় দু’জন করে আসামীর স্থান সংকুলান হয়। এইটুকু কক্ষে দশ-বারোজন পর্যন্ত আসামী রাখা হয়। বন্দীদের পালা করে ঘুমাতে হয়। ভেনটিলেটর টিন দিয়ে মুড়িয়ে দিয়ে সূর্যালোকের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে। এই সেলে সাধারণত নারী নির্যাতন, চিটিং, বাটপাড়ি, জালিয়াতি ও জেল পালানো মামলার আসামীদের রাখা হয়। ঢাকা শহরের গডফাদার হিসাবে পরিচিত সন্ত্রাসী, মাস্তান ও হোমরাচোমরাদের এই সেলে রাখার রেওয়াজ আছে। ঠেলার নাম বাবাজি। বাইরে একে অন্যের জানের শত্রু, এমন অনেক সন্ত্রাসী ঠেলায় পড়ে একই সেলে একই সাথে বন্ধুর মতো দিনাতিপাতি করছে। দেখতে মজাই লাগে। অবশ্য একেবারেই হাড়াহাড়ি হয় না, এমন নয়। বন্দিত্বের দুঃসহ যন্ত্রণা সইতে না পেরে আত্মহত্যা করেছে, পুরান বিশে এমন রেকর্ড অনেক। ‘৯৬-এর ঘটনা- মুজিব হত্যা মামলার আসামী খায়রুজ্জামান আছরের নামাজ পড়তে দাঁড়িয়েছে। হঠাৎ করে পিছন থেকে গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন দিয়ে খায়রুজ্জামানকে হত্যার চেষ্টা করেছিল ঢাকা মহানগর ছাত্রলীগের নেতা সুমন। বিষয়টি নিয়ে পুরো জেলখানায় তখন হৈচৈ পড়ে যায়।
Punishment Cell-এর বিবেচনায় পনের ও পুরানো বিশের পরেই ছয় সেলের অবস্থান। চব্বিশ ঘন্টা লকআপ। এই সেলের আসামীদের কারও সাথে কথা বলা নিষেধ। এদের সাথে কেউ যেচে কথা বললেও Putup | গ্রিলের গেটের ওপর টিন লাগিয়ে ঢেকে দেয়া হয়েছে। এই এলাকার একেবারে বহিঃপ্রাচীর ঘেঁষে সাত সেল। সাত সেলকে বলা হয় সেমি ডিভিশন। চলাফেরার পর্যাপ্ত জায়গা থাকলেও সেলের বাইরে পা ফেলা নিষেধ। সাত সেলকে বনেদী বন্দীদের পানিশমেন্ট সেল বলা যেতে পারে।
জেল এস্কেপিং
