একমাত্র মহিলা ওয়ার্ড। মহিলা বন্দীদের জীবন যাত্রার সকল ব্যবস্থাই রাখা হয়েছে ওয়ার্ড এলাকার ভিতরে। শৃঙ্খলার দায়িত্বে থাকে মহিলা জেল পুলিশ। তবে জেলার, ডেপুটি জেলার পর্যায়ের কর্মকর্তারা যে কোন সময়ই মহিলা ওয়ার্ডে যাতায়াত করতে পারেন। ওয়ার্ডের ভিতরেই আছে কারা হাসপাতালের একটি শাখা মহিলা ডাক্তার ও নার্স, দুটি ডিভিশন সেল এবং একটি ফাঁসির সেল। মহিলাদের জন্য ওয়ার্ড এলাকায় সব ব্যবস্থা আছে ঠিকই কিন্তু পুরুষের মতো জেল চত্বরে ঘুরে বেড়ানোর স্বাধীনতা এদের নেই। ছয় বছর বয়স পর্যন্ত সন্তানদেরকে কাছে রাখতে পারেন। বয়স ছয় বছরের বেশি হলে ছেলে সন্তানকে মেন্টাল এলাকায় পাঠিয়ে দেওয়া হয়। স্বামী-স্ত্রী দু’জনই জেলে থাকলে জেলের ভিতরে পনের দিন অন্তর দেখা করার সুযোগ দেয়া হয়।
মহিলা ওয়ার্ড সম্পর্কে একটা মজার কথা চালু আছে। সন্ধ্যায় লক-আপের পর সকল চাবি জেলারের কাছে জমা হয়ে যায়। কথিত আছে, মহিলা ওয়ার্ডের চাবি নাকি জেলারের বউয়ের কাছে জমা থাকে। কৌতুক হলেও মিনিংলেস নয়। তবে, মহিলা বন্দীদেরকে আদালতে আনানেওয়া করার জন্য আলাদা পরিবহন ব্যবস্থা না থাকাটা মানবেতর।
চৌদ্দ: Punishment Cell
সমাজের নিয়ম ভাঙলে আদালতের রায়ে যেমন জেলে যেতে হয়, তেমনি বন্দীদের কেউ জেলখানার অভ্যন্তরীণ নিয়ম ভাঙলে ‘কেইস টেবিল’ এর রায়ে তাকে সাজা হিসাবে পানিশমেন্ট সেলে অন্তরীণ হতে হয়। অপরাধের রকমভেদের মতো পানিশমেন্ট সেলেরও প্রকারভেদ রয়েছে। Punishment Cell-এর প্রসঙ্গ আসলে প্রথমেই বলতে হয় পনের সেলের কথা। পনের সেলে যারা থাকে জেলের ভাষায় তাদেরকে বলা হয় B Class। পনের সেল একটি একতলা ভবন। ভবন ঘেঁষেই দুই হাত ব্যবধানে উঁচু বাউন্ডারি ওয়াল। পাঁচটি করে কক্ষ নিয়ে একেকটি ব্লক। প্রতিটি ব্লকের একটি কমন বারান্দা। চব্বিশ ঘন্টার বিশ ঘন্টা আসামীদের তালাবদ্ধ করে রাখা হয়। শুধুমাত্র গোসল ও খাওয়ার সময় আনলক থাকে। এদের দেখা-সাক্ষাতও বন্ধ। এখানে যারা থাকে তাদের সকলেরই নাকি কম-বেশি মানসিক বৈকল্য ঘটে। কারণে-অকারণে প্রশাসনের কর্মকর্তা ও নিরাপত্তা সিপাইদের অকথ্য ভাষায় গালি-গালাজ করে এবং প্রশ্রাব-পায়খানা ছুঁড়ে মারে। মিয়াসাবরা ভয়ে এদের কাছেই যেতে চান না।
তবে, ইদানীং লালবাগ কেন্দ্রিক কিছু টেররের দাপটে পনের সেলের কঠিন জীবন কিছুটা সহজ হতে শুরু করেছে। ওদেরকে দেখার অনুমতি না দিলে এমন ঝামেলা শুরু করে দেয় যে শেষে জেল নিয়ন্ত্রণই কঠিন হয়ে পড়ে। আসলে কোন শাস্তি প্রদান
