রোডের সাথে এটিকে সংযুক্ত করে জনসাধারণের জন্য খুলে দেয়া হবে।
ছাব্বিশ সেল। ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের একমাত্র ডিভিশন। দূর থেকে জমিদার বাড়ির মতো দেখতে। সামনে মনোরম ফুলের বাগান। বিশাল খোলা চত্বর। প্রথম শ্রেণীর বন্দীদের রাখা হয় ডিভিশনে। ডিভিশনের সৌভাগ্যবান বন্দীদেরকে বলা হয় সরকারের ঘরজামাই। ডিভিশন সেল বরাদ্দের ক্ষেত্রে জেল কর্তৃপক্ষকে মনে হলো বড়ই অসহায়। বিষয়টি সম্পূর্ণরূপেই সরকারি সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভরশীল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতি বিজ্ঞানের শিক্ষক, শিক্ষক সমিতির জেনারেল সেক্রেটারী অধ্যাপক ফেরদৌস দীর্ঘদিন আমাদের সাথে একই কক্ষে কাটিয়েছেন। ডিভিশন চেয়ে দেন দরবার করেছেন, কাজ হয়নি। শেষে আইনি লড়াইয়ের মাধ্যমে হাইকোর্ট হয়ে যখন ডিভিশন মিলল তখন অধ্যাপক ফেরদৌসের মুক্তির সময় সমাগত প্রায়। সাংসারিক জটিলতায় স্ত্রীর দায়ের করা মামলায় জেলে আছে। অথচ ভাগ্যের কি নির্মম পরিহাস, সেই স্ত্রী-কন্যার কথা বলতে বলতে কতবার যে কান্নায় ভেঙ্গে পড়তে দেখেছি তার ইয়ত্তা নেই। নিশ্চয়ই ফেরদৌস স্যার একদিন মুক্তি পাবেন। হয়তো পুরনো ঘর করবেন, না হয় ঘর ছেড়ে নতুন করে ঘর বাঁধবেন। কিন্তু পাঁচ বছরের শিশু কন্যা প্রণমীর কি হবে তা কেবল ভবিষ্যৎই বলতে পারে।
ডিভিশনে বাড়তি সুযোগ-সুবিধার মধ্যে আছে একটি খাট, এক সেট চেয়ার-টেবিল, একটি টেবিল ফ্যান এবং ঘড়ি ব্যবহারের অনুমতি। ডিভিশন প্রিজনাররা খাবারের ক্ষেত্রে বিশেষ সুবিধা পেয়ে থাকেন। সেল কম্পাউন্ডের ভিতরে আলাদা রান্নাঘর। প্রতিদিনের বরাদ্দকৃত বাজেটের মধ্যে এরা পছন্দসই খাবার গ্রহণ করতে পারেন। মেস পদ্ধতিতে পরিচালিত ডাইনিং এর নিয়ন্ত্রণও থাকে বন্দীদের হাতে। চা-চিনি ও দুধের মাসিক বরাদ্দ থাকে পর্যাপ্ত।
খেলাধুলার প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম এবং সিজন্যাল বাডমিন্টন, ভলিবল খেলারও সুব্যবস্থা আছে। মৌলিক সুযোগ-সুবিধা যাই থাক না কেন, আরদালি-খানসামার কোন কমতি নেই। কয়েদিদের ভাবনা এমন, ডিভিশন প্রিজনারদের পদধূলি পেলেই বুঝি জীবন ধন্য হলো। এই সেলের প্রতি জেলার সাহেবের দৃষ্টির কিয়দংশ যদি অন্যত্র পড়তো তাহলে পুরো জেলখানাটাই স্বর্গবাস হয়ে উঠতে পারতো।
ডিভিশনের পার্শ্বে সাতাইশ সেলটি বড়ই বেমানান। জেলখানার সুইপার, রাস্তা থেকে ধরে আনা হিজরা ও বার্মিজ মৎস্য চোরদেরকে রাখা হয় এই সেলে। তবে সাতাইশ সেলের বিশেষত্ব হলো আয়না শাহর মাজার। একেবারের পূর্ব-দক্ষিণ কোণার কক্ষটিতে থাকতেন ফকির আয়না শাহ্। ঐ কক্ষেই তিনি মৃত্যুবরণ করেন। আয়না শাহর মৃত্যুর পর কক্ষটিতে যত আসামী রাখা হয়েছে, কোনো না কোনো কারণে সকলেরই জেলের ভিতরে মৃত্যু
