জেলখানার দিনগুলি

« <
/ 81
> »

অথচ চেহারায় হতাশার লেশমাত্র নেই। মুখে নেই কোন দুঃশ্চিন্তা ও ক্লান্তির ছাপ। কথায় কথায় অনাবিল হাসির ছটা। থাক এই প্রসঙ্গ। কারণ সময়ই বলতে পারে বিপ্লবীদের জয় পরাজয়ের ঠিকানা।

শুনেছি, আদালতে স্বেচ্ছায় দোষ স্বীকার করে শাস্তি নিয়েছে; যাতে ভারত সরকারের কাছে হস্তান্তরিত না হতে হয়। অনুমতি ব্যতিরেকে সীমান্ত অতিক্রম ও ভিনদেশী মুদ্রা রাখার অপরাধ স্বীকার করায় আদালত ছয় বছরের সাজা দিয়েছে। আমার নারায়ণগঞ্জের সহকর্মী জাকির খানের সাথে ভাল পরিচয় ওদের। এই সুযোগ হাত ছাড়া করা চলে না। অনুপ চেটিয়া সুঠাম দেহের আত্মপ্রত্যয়ী মানুষ। শুনেছি, ইংরেজিতে এম.এ। জিজ্ঞেস করেছিলাম- কেমন চলছে ওদের দিনকাল। অত্যন্ত নিঃশঙ্কচিত্তে, দ্বিধাহীনভাবে বলে উঠল-

‘I think you have heard about my conviction. The situation complied me to confess my guilty before the respective court. Any way, I am hopefully waiting-one day the political situation will be changed and the doors will be opened.’

নিউ বিশের পার্শ্বে অবস্থিত দেওয়ানি, কালের সাক্ষী। পূর্ব-পশ্চিমে লম্বা একটি পুরনো লাল দালান। ব্রিটিশ সাম্রাজ্যে সামন্ত প্রভুদের মধ্যে জমি-জমা সংক্রান্ত দেওয়ানি মামলার সম্মানিত আসামীদের জন্য নির্মিত হয়েছিল বাংলো টাইপের এই ভবনটি। জমিদারে জমিদারে মর্যাদার লড়াই। একদিন হলেও প্রতিপক্ষকে জেলের ভাত খাওয়ানো চাই। শোনা যায়, কোন জমিদারকেই দেওয়ানিতে দু’একদিনের বেশি থাকতে হতো না। করোটিয়ার জমিদার ওয়াজেদ আলী খান পন্নী নাকি কোন এক সময় এই দেওয়ানিতে ছিলেন। পাকিস্তানী আমলে মৌলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী ও শেখ মুজিবুর রহমান সাহেবকে রাখা হয়েছিল দেওয়ানিতে। আজ অবধি আর কোন আসামীকে দেওয়ানিতে রাখা হয়নি। স্বাধীনতা উত্তরকালে মুজিব সরকারের আমলে দেওয়ানিকে মিউজিয়ামে রূপান্তরিত করার উদ্যোগ নেয়া হয়। আওয়ামী লীগের পতনের কারণে তখন সম্ভব হয়ে ওঠেনি। বর্তমান আওয়ামী সরকারের আমলে সেই উদ্যোগের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নের কাজ চলছে। ভিতরে স্থাপন করা হয়েছে পিতলের তৈরি মুজিবের আবক্ষ মূর্তি। বাইরে পানির নহরের মধ্যে উঠে আসা ছয় দফার ছয়টি প্রতীকী স্থাপত্য নির্মাণের চেষ্টা করা হয়েছে। পিছনে দাঁড়িয়ে আছে মুজিবের হাতে রোপণ করা একটি সফেদা ফলের গাছ। মুজিব-স্মৃতি ধরে রাখার জন্য সংরক্ষণ করা হয়েছে শেখ মুজিবের ব্যবহার্য আধা-ভাঙ্গা মিটশেফ, খাট, চেয়ার, টেবিল, ময়না পোষার খাঁচা, থালা-বাটি, ইজি চেয়ার, সেকেলে বৈদ্যুতিক পাখা ইত্যাদি। শোনা যাচ্ছে, পশ্চিম পার্শ্বের দেয়াল ভেঙে উর্দু

« <
/ 81
> »