দিয়েছি। আর কেন? এটা শ্রেফ অসভ্যতা।’ এই সেলে আসামীরা পনের দিন অন্তর অন্তর একবার পরিবার পরিজনের সাথে দেখা করতে পারেন, তাও স্পেশাল ব্রাঞ্চের অনুমতি সাপেক্ষ। এদের চলাচলও ভীষণভাবে নিয়নন্ত্রিত। সেল এলাকার বাইরে এক পা চলারও অনুমতি নেই। জেলখানায় ডিটেনশনকে বলা হয় ফাঁপর। ডিটেনশনের বন্দীদের সাথে কুশল বিনিময় করলে কমন উত্তর, ‘ভাই, ফাঁপরে আছি’। শ্রেণীবিভেদ অনুসারে কিছু কিছু ডিটেনশনের আসামীদের অবশ্য অন্যান্য সেলেও রাখা হয়। তার ফাঁক-ফোকরে সেলের বাইরে ঘুরে আসতে পারেন। নিজের দেখার অনুমতি না থাকলেও ডিটেনশন নেই এমন সহবন্দীদের মাধ্যমে তাঁরা বাইরের সাথে সকল যোগাযোগ রক্ষা করতে পারেন। মালামাল আনিয়ে নিতে পারেন। কিন্তু নব্বই সেলে এটা একেবারেই অসম্ভব। ক্ষুধার যন্ত্রণা, অভাব-অনটন ও হাহাকারের মধ্য দিয়েই ওদের দিন কাটে। পরের উচ্ছিষ্টে বেঁচে থাকা, সে সুযোগও নেই। মাসের পর মাস বিনা বিচারে তারা কালা-কানুনের ঘানি টানছে। সাড়ে চার মাসেও রীট করা না হয়ে থাকলে তাদের হাইকোর্টে হাজির করা হয় বিনা রীটে বিচারপতিদের অনুকম্পার সুযোগ গ্রহণের জন্য। সরাসরি সওয়াল জবাবে বিচারপতি মহোদয় সন্তুষ্ট হলে মাফ। অন্যথায় আরও ছয় মাসের ফাঁপর। সরকার বাহাদুরের এই দয়ার দানকে বলা হয় বোর্ড কল।
কেইস টেবিল থেকে পশ্চিম দিকে তাকালে যে লোহার ফটক চোখে পড়ে এরই ভিতর বিশাল কম্পাউন্ডে পাশাপাশি অবস্থিত নিউ বিশসেল, দেওয়ানি, পুরানো বিশসেল, ছয়সেল ও সাতসেল। অবশ্য প্রতিটি ভবনই আলাদা পাঁচিল দিয়ে ঘেরা। সেলগুলোর মধ্যে সবচেয়ে দেখতে সুন্দর নতুন বিশসেল। এটি একটি দোতলা ভবন। সামনে বিশাল ফুলের বাগান ও সবজি ক্ষেত। অফুরন্ত পানির ব্যবস্থা। লোকও থাকে তুলনামূলকভাবে কম। নিউ বিশসেলকে বলা হতো স্টুডেন্টস সেল। এক সময় ছাত্র রাজবন্দীদের সাধারণত এখানে রাখা হত। ডিভিশন পান না এমন প্রথম শ্রেণীর আসামীদেরকেও মাঝে মধ্যে এখানে রাখা হয়। বর্তমানে উলফা নেতা অনুপ চেটিয়াকে নিউ বিশ-এ রাখা হয়েছে।
নিউ বিশ সেলের দোতলায় সার্বক্ষণিক তালা বন্ধ করে রাখা হয় আসামের স্বাধীনতাকামী বিপ্লবী অনুপ চেটিয়া ও তার সহকর্মী লক্ষী প্রসাদ ও বাবুল শর্মাকে। অনুপ চেটিয়াকে বিদেশী ওয়ার্ডে না রেখে নিউ বিশে কেন রাখা হল এই প্রশ্নটা আমার মনের মধ্যে সুড়সুড় করছে বহুদিন। অবশ্য জেলজীবনে এর কোন উত্তর আমি খুঁজে পাইনি। অদ্ভুত মানুষ এই অনুপ চেটিয়া। বিদেশ বিভুঁইয়ে জেল হাজতে পড়ে আছে
