জেলখানার দিনগুলি

« <
/ 81
> »

ভেঙ্গে পড়ল পিন্টু ভাই। পিনপতন নীরবতা। মা লিখেছে, সাত বছরের পুত্র রাতুল ঈদের দিনে বাবাকে না পাওয়ার অভিমানে নতুন কাপড় পরতে চাইছে না। অবুঝ বালকের এই ছোট্ট অভিমান একজন বাবার মনের দুয়ারে কতটা নাড়া দিয়ে গেল আমরা ক’জন সহবন্দী তার সাক্ষী হয়ে রইলাম।

মুহূর্তের মধ্যে একটা অস্বাভাবিক বিষণ্ণতা আচমকা আমাকেও গ্রাস করে নিল। বেদনার বহমান স্রোতে প্রত্যাশার সমাধি ঘটতেই মানসপটে ভেসে উঠলো একটি ছোট্ট শিশুর মুখ। বড় আপন। আমার শিশুপুত্র জিদান। মাস তিনেক পর দুই বছরে পা রাখবে। দিনমান ঘরময় ছোটাছুটি করে, আচমকা দু’একটি কথা বলে সকলকে মাতিয়ে রাখে। আমার সন্তান, সন্তানের মা ও আমি, এই নিয়েই আমার ত্রিভুজ প্রেমের মায়ার সংসারে এবারকার ঈদটা নিরানন্দই কাটল। ভাবনায় ছেদ পড়ল। হঠাৎ ডাকাডাকি। দশ সেলের পাশেই জেলখানার বাউন্ডারি ওয়ালের গা ঘেঁষেই উর্দু রোড। ওপারে আবাসিক বাড়িঘর। কল্পনা ভাবী ও কবিতা এসেছে পার্শ্বের বাড়ির ছাদে। কথা বলার উপায়ন্তর না থাকলেও দূর থেকে আপনজনকে দেখতে পাওয়ার এইটুকু তৃপ্তিও আপদকালীন বিষ্ণণ্ণতা কাটিয়ে উঠার সৌভাগ্য বলতে হবে। এ আমার ব্যক্তিগত অভিব্যক্তি হলেও, জেল জীবনের সেল এলাকার ঈদ-চিত্র মোটামুটি এইরকমই। তবে, জেলখানায় যে দুর্ভাগারা খাতায় থাকে ওই অভাগাদের ঈদ যে খুশির অর্থে আসে না সেটা নিশ্চিত। ওদের কাছে ঈদ মানে বাড়তি দু’টুকরা গোমাংস ও সকালের দু’চামচ বিচ্ছিরি সেমাই ছাড়া অন্য কিছু নয়। কবির মতো করে বলতে-

‘জীবনে যাদের হররোজ রোযা ক্ষুধায় আসে না নিদ তাদের আবার কিসের খুশি, কিসের বলো ঈদ’।

তেরো: জেলখানার সেলচিত্র

জেলের ভিতরে জেল, তার নাম নব্বই সেল। কথাটি হাড়ে হাড়ে সত্য। কেন্দ্রীয় কারাগারের নাইনটি সেলকে বলা ডিটেনশন ওয়ার্ড। এখানে শুধুমাত্র ৭৪-এর বিশেষ ক্ষমতা আইনে গ্রেফতারকৃত ডিটেনশনের আসামীদের রাখা হয়। ডিটেন্যু মানে রাজনৈতিক কারণে নিরাপত্তা বন্দী অর্থাৎ রাজবন্দী। নব্বই সেলের আসামীদের খোঁজ-খবর নিলেই অনুমান করা যায়, কি পরিমাণ অপব্যবহার হচ্ছে এই আইনের। বিনা মামলায় আটক রাখার এ এক চমৎকার ব্যবস্থা। যতদিন সরকারের খায়েশ না মিটবে, দফায় দফায় মেয়াদ বাড়িয়ে ততদিন আটকিয়ে রাখবে। জেলের ভাষায় বলেন, ভিসা এক্সটেনশন। বিশেষ আইনের মেয়াদ এক্সটেনশন সংক্রান্ত বর্তমান বিরোধী দলীয় উপনেতা অধ্যাপক বদরুদ্দোজা চৌধুরীর বাবা বিক্রমপুরের মরহুম কফিল উদ্দিন চৌধুরীর মন্তব্য এখনো হাসির উদ্রেক করে, ‘ধরে এনেছ, দু’মাস খেটে

« <
/ 81
> »