জেলখানার দিনগুলি

« <
/ 81
> »

সিগারেটে একযোগে অগ্নিসংযোগ করে উদ্বোধন করল নতুন মিলেনিয়াম। সকাল বেলা ঘুম থেকে উঠেই আরেক বিস্ময়। ফুলের তোড়া হাতে গরাদের সামনে দাঁড়িয়ে আছে আমাদের বাগানী। দশ বছরের সাজাপ্রাপ্ত চৌদ্দ বছরের বালক রফিকুল।

আনন্দ-উচ্ছ্বাস, গান-বাজনা ও আতশবাজির বিমোহিত আলোক বিচ্ছুরণের মধ্য দিয়ে নতুন মিলিনিয়ামে প্রবেশের মুহূর্তেই বাংলাদেশে এসেছে ঈদ। খুশির দিন। নিরন্তর বহমান সময়ের স্রোতে, স্বপ্ন ভঙ্গের হিসাব-নিকাশ নিয়ে মুসলিম সমাজ যখন ব্যাকুল উদ্দীপনায় ভেসে গেল, আমি তখন কেন্দ্রীয় কারাগারের দশ সেলে দ্বিতীয় কারাবাসের তেইশতম দিবস অতিক্রম করছি।

বন্দীদশায় ঈদ মানেই অষ্টপ্রহর স্মৃতির সাগরে ভেসে বেড়ানোর কষ্টকর কিছু বাড়তি সময় মাত্র।

জেলখানার ঈদ এক ভিন্ন রকম বৈচিত্র্যে ভরপুর। শিশির ভেজা সকালে সুবেদার মহাশয় এসে জানান দিয়ে গেলেন, মেন্টাল এরিয়ায় আমাদের জন্য ঈদের জামাতের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে সকাল নয়টায়। প্রতিকূল সময়কে সঙ্গী করে, স্বজনের মুখচ্ছবি ভুলে থাকার ব্যর্থ প্রচেষ্টার মধ্যে দিয়ে নয়া পাঞ্জাবীটা গায়ে চড়িয়ে সহবন্দীদের সাথে পা চালালাম ঈদের জামাতের উদ্দেশ্যে। ইতিমধ্যে ম্যাডাম খালেদা জিয়ার পক্ষ থেকে জেলবন্দী নেতা-কর্মীদের জন্য গোটা পঞ্চাশেক পাঞ্জাবী পাঠানো হয়েছে। বিএনপি’র ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক ডাকসুর ভিপি আমান উল্লাহ আমান নেতৃস্থানীয়ের জন্য আড়ং থেকে পাঠিয়েছেন দশটি শোভন পাঞ্জাবী। মনে হলো, আমাদের সমাজে ঈদ যেমন বিত্ত-বৈভব ওয়ালাদের জন্য, তেমনি জেলখানায় ঈদ চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও মাস্তানদের জন্য। চোখের দেখা, ঈদ উপলক্ষে সপ্তাহখানেক ধরে জেলবন্দী টপটেরর ও ঊর্ধ্বতন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের সুবাদে জেলের ভিতর যে পাঞ্জাবী গ্রহণ-বিতরণের মহড়া চলল তার পরিমাণ অসংখ্য না হলেও সহস্রের কম নয় নিশ্চয়ই। এর কতাংশ নিরীহ বন্দীদের ভাগ্যে জুটেছে স্রষ্টাই তা ভাল জানেন। প্রাসাদবাসী, ভবনবাসী ও গাছতলার গরীব-কাঙ্গালকে একসারিতে একাকার করে নেয়ার স্রষ্টার ঈদ আহ্বানকে যে আমাদের সমাজ গ্রহণ করতে পারে নাই তার প্রতিচ্ছবি জেলখানাতে স্পষ্ট। ঈদের জামাতের প্রথম সারিতে চোখ পড়তেই বিস্ফারিত নয়নে অবলোকন করলাম খ্যাতি ও প্রতিষ্ঠার শীর্ষ শিখর ছোঁয়া প্রাজ্ঞ রাজনীতিক কে. এম. ওবায়দুর রহমান ও নুরুল ইসলাম মঞ্জু সাহেবকে। প্রত্যাশা ছিল, জেলাহত্যা মামলায় অভিযুক্ত শাহ মোয়াজ্জেম ও তাহের উদ্দিন ঠাকুরের দেখা মিলবে। শুনলাম, ওনারা ঈদের জামাতে আসবেন না বলে জানিয়ে দিয়েছেন। কেন, তার কারণ ওনারাই ভাল জানেন। এক সময়ের তুখোড় ছাত্রনেতা, জাতীয় রাজনীতির পিচ্ছিল পথ মাড়িয়ে, উত্থান-পতনের সিঁড়ি বেয়ে জীবন সায়াহ্নে এসে আবার

« <
/ 81
> »