জানিয়ে গেল, সে অন্তঃসত্ত্বা। পাখি এখন পনের সেলে থাকে। দুঃখে, ক্ষোভে, ম্রিয়মান পাখি এই কষ্টের যন্ত্রণা সইতে না পেরে নিজের ওপর প্রতিশোধ নিল। একটি নতুন ব্লেড দিয়ে নিজের পুরুষাঙ্গ কেটে ফেলল। পরে ওকে চালান করে দেওয়া হয় অন্য জেলে। পিন্টু ভাইয়ের সাথে পাখির দেখা কুমিল্লা সেন্ট্রাল জেলে।
জেলখানায় আরেকটি মর্মান্তিক বিষয়- প্যারোলে মুক্তি। বড়ই বেদনাদায়ক, ভীষণ কষ্টের। বলা নেই, কওয়া নেই, হঠাৎ জেলের বাইরে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি। প্রথম দিকটায় বন্দীরা মুক্তির সনদ মনে করে আনন্দে নেচে ওঠে। খানিক পরেই অনুধাবিত হয়, এ মুক্তি চিরতরে হারিয়ে যাওয়া স্বজনকে শেষ দেখার সুযোগ মাত্র। পিতা-মাতা, স্বামী-স্ত্রী, সন্তান-সন্ততির মৃত্যুতে শেষ দেখার এই সুযোগটি প্রশংসনীয় অবশ্যই। কিন্তু ক্ষমতা ও অর্থের যোগান নেই এমন কাতারের নিরীহ বন্দীদের কেউ এই সুযোগ কখনো পেয়েছেন এমন ইতিহাস নেই বললেই চলে। বর্ষীয়ান নেতা অলি আহাদ সাহেবকে হতভাগ্যই বলতে হয়। জেলে বসে বাবা, মা দুজনেরই মৃত্যু সংবাদ শুনতে হয়েছে। শুনেছি, রাজনীতির কথিত আধ্যাত্মিক পুরুষ সিরাজুল আলম খানও প্যারোলে মুক্তি পেয়ে বাবাকে শেষ দেখার সুযোগ পেয়েছিলেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তরুণ রাজনৈতিক কর্মী পাভেল দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র। অনেক দিন জেলে ছিল। ওর বাবা ছিলেন সরকারি প্রকৌশলী। কম বয়সী সন্তানের চিন্তায় ভীষণ টেনশন করতো। আমার মনে আছে, মধুর কেন্টিনের সামনে আমাকে বলেছিল, “আপনারা কি আমার মৃত্যু চান, না আমার ছেলেকে এনে দিবেন।” আমি তখন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ইউনিট প্রধান। পাভেলের বাবার কথাগুলো এমন করে সত্য হবে, তরুণ পাভেলকে প্যারোলে মুক্তি নিয়ে বাবার লাশ দেখতে যেতে হবে, এমন কখনো ভাবিনি।
পাভেলের পিতার মৃত্যুর ক’দিন পর শুরু হয় আমার প্রথম কারাজীবন। তখন জেলে বসে বাবার কথা খুব মনে হতো। হার্টের রোগী, ক’বার মরতে মরতে বেঁচে থেকেছেন। জামিনের স্লিপ ডাকলেও মনে হতো, এই বুঝি প্যারোলে মুক্তির সনদ নিয়ে বাবার লাশ দেখার ডাক পড়লো। না, তেমন দুর্ভাগ্য না হলেও আমার দ্বিতীয় কারাবরণের কদ্দিন আগে নিজের হাতে বাবাকে কবরে শুইয়ে দিয়ে এসেছি। গুরুজনেরা বলতেন, পিতৃবিয়োগের পর চল্লিশ দিন পর্যন্ত সতর্কবস্থায় চলাফেরা করতে হয়। সংস্কারে আমি কখনো বিশ্বাস করিনা। যাই হোক, ভাগ্যের বাতাবরণে গ্রেফতার হয়ে দ্বিতীয়বার জেলে আসলাম। ফলে, বাবার মৃত্যু পরবর্তী আচার অনুষ্ঠানে থাকা হলো না। বাবা চাইতেন, আমি
