জেলখানার দিনগুলি

« <
/ 81
> »

যেগুলোকে বলা যায় জেলের ভাষা। যেমন- পানি টানার লোককে বলে ‘জলভরি’ বা ‘জলপরি’। সুইপারের কাজকে বলে ‘বন্দুক দফা’। ম্যানুফ্যাকচারিং ডিপার্টমেন্টকে সংক্ষেপে বলে এম.ডি. দফা। বন্দীদের ব্যবহৃত থালা, বাটি, কম্বল থেকে শুরু করে কয়েদিদের পোষাক প্রতিটি জিনিসই জেলের ভিতরে তৈরি হয়। কয়েদিরা দিন রাত শিফ্টং ডিউটি করে নিজেদের জীবন ক্ষয় করে এম.ডি. দফার মিলের চলন শক্তি যুগিয়ে যাচ্ছে। শুনেছি, বিদেশ বিভুঁইয়ে কয়েদিদের কিছুটা শ্রমের মূল্য দেয়া হয়। ঢাকা জেলে শ্রমিকের শ্রমের মূল্য তো দূরের কথা, ঠিক মতো খাওনটাই দেওয়া হয় না। বয়সে বৃদ্ধ, চুল পাকা কয়েদিদের বানানো হয় মাছির কল বা মাছি দফা। এক বর্গফুট পরিমাণ ছালার ওপর এক চিমটি গুড় ছিটিয়ে ঝাড়ু হাতে বসে থাকে। ওদের কাজ মাছি মারা। শিক্ষা-দীক্ষা আছে, দেখতে ভাল এমন কয়েদিদের কাজ পাস হয় কেইস টেবিলে। কর্তৃপক্ষ, কয়েদি ও হাজতিদের মধ্যে ঘুষ দেয়া-নেয়ার সার্বিক বিষয় নিয়ন্ত্রিত হয় ঐ কেইস টেবিলকে ঘিরে।

কেইস টেবিলের চীফ রাইটারের কাজটি অত্যন্ত লোভনীয়। এক সময় ঢাকা কারাগারের চীফ রাইটারের মাসিক রোজগার ছিল পঞ্চাশ হাজার টাকার বেশি। জেলের চীফ রাইটারগিরি কাজ করে এয়ারপোর্টে দশ লাখ টাকায় দোকান কিনেছে এমনও দৃষ্টান্ত আছে। বর্তমানে চীফ রাইটারের দায়িত্ব বিকেন্দ্রীকরণ করা হয়েছে। চীফ রাইটার আনিসের কথা আগেও বলেছি। বেশ চৌকস ছেলে। ইচ্ছা করেই ঝুঁকিপূর্ণ কাজগুলি অন্যদের মধ্যে ভাগ করে দিয়েছে। বিভিন্ন ওয়ার্ড ও সেলের ম্যাট-পাহারাদের নিয়ন্ত্রণ শুধু ওর কাছে। এতে যা পায় হয়তো ওর নিজের ভালই চলে। কে কোথায় কাজ পাবে, সেই কামপাসের (work permit) দায়িত্বে আছে কালিগঞ্জের ইমদু হত্যা মামলার আসামী ইমরান। আঠার বছর হলো জেলে আছে। জুতসই জায়গায় কামপাসের জন্য কয়েদিদের দুই থেকে পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত ঘুষ দিতে হয়। শুনেছি, এর অংশ হিসাবে ইমরানের যা রোজগার হয়, তাও মাসে দশ হাজার টাকার কম নয়। আলাপচারিতায় ইমরানকে একজন পরিবর্তিত মানুষ বলেই মনে হয়েছে। ফাইল কাটার দায়িত্বে আছে আদমজীর শ্রমিক নেতা সিদ্দিক সরদারের ছেলে রহিম। বন্দীরা ইচ্ছামতো ওয়ার্ড বা সেলে যেতে চাইলে তিনশ থেকে পাঁচ-দশ হাজার টাকা ঘুষ প্রদানের রেওয়াজ আছে। যে কোন বন্দীর ওয়ার্ড পরিবর্তনের চার্জ ২০০ টাকা। উল্লেখিত দায়িত্বগুলো ঝুঁকিপূর্ণ এই জন্য যে, বন্দীদের কাছ থেকে টাকা আদায়ের পারঙ্গমতা না থাকলে কর্তৃপক্ষ তাকে

« <
/ 81
> »