জেলখানার দিনগুলি

« <
/ 81
> »

নিতে চান তারও ব্যবস্থা আছে। MD (ম্যানুফ্যাকচারিং ডিপার্টমেন্ট)-এ প্রতি সেট পোষাকের মূল্য ৩০০ টাকা।

জেলখানায় নিয়মের চাইতে জেলারের ইচ্ছা অনিচ্ছাটাই বড়। বৃটিশদের সময় বলা হতো জেল যত বড়, জেলারের বাড়ি হবে তত বড়। এখন সে রকম না থাকলেও জেলারই যে জেলের ঈশ্বর কথাটি মিথ্যা নয়। ফলে, নির্যাতিত কয়েদিদের আক্রোশের জের পড়ে হাজতিদের ওপর। এতে হাজতিদের হয়েছে মরণ-জ্বালা। কথায় কথায় মাইর-গুঁতা। নয় থেকে ছয় হলেই শারীরিক নির্যাতন, putup ভীতি ও ঘুষ প্রদানের অহেতুক যন্ত্রণা।

তখন বিশ্বকাপ ফুটবল খেলা চলছে। ঢাকা জেলের কেইস-টেবিলের সকল রাইটার ব্রাজিলের সমর্থক। ব্রাজিল হেরে যাওয়াতে শুরু হলো এক লঙ্কাকাণ্ড। বিভিন্ন সময়ে নানা অজুহাতে রিপোর্টেড সকল হাজতিকে স্লিপ করে এনে কেইস টেবিলের বারান্দার খুঁটির সাথে বেঁধে শুরু হলো গণধোলাই। মানুষ পিটানোর সেকি বিচিত্র খায়েশ! সমর্থিত দল হেরে যাওয়ার দুঃখ বেদনাকে প্রশমনে এই বর্বরতা দীর্ঘমেয়াদী সাজার কয়েদিদের মানসিক বিকলতাকেই প্রকাশ করে। বলা বাহুল্য, যে কোন নির্যাতনের ব্যাপারে কর্তৃপক্ষের শতভাগ ক্লিয়ারেন্স থাকে। ফলে ক্ষমা কয়েদিদের চরিত্রে পুরোপুরি অনুপস্থিত। অত্যাচারে, নির্যাতনে বন্দীদেরকে মৃত্যু অব্দি নিয়ে যাওয়া এদের কাছে স্বাভাবিক ব্যাপার। নির্যাতনের কায়দা-কানুনে এরা আধুনিক যন্ত্রপাতিতে বিশ্বাসী নয়। দুটো হাতই তারা মনে করে যথেষ্ট। আর এ দুটি হাতই ব্যবহারের ভিন্নতায় কর্তৃপক্ষের কাছে কি রকম মর্যাদায়ই না পায়। শুনেছি, নির্যাতনে কোন বন্দী মৃত্যুবরণ করলে, কর্তৃপক্ষ লাশ দেয়ালের বাইরে ফেলে দিয়ে পাগলা ঘন্টা বাজিয়ে সারা জেলে প্রচার করে দেয় যে, জেল এস্কেপ করতে গিয়ে মারা পড়েছে। আর সত্যি সত্যিই যদি কোন বন্দী জেল থেকে পালিয়ে যায় এবং প্রচার মাধ্যমে ধরা না পড়ে, তাহলে কর্তৃপক্ষ চাকরি বাঁচানোর তাগিদে বাইরে থেকে চুক্তিভিত্তিক একজনকে ধরে এনে হিসাব মিলিয়ে রাখেন। অতি তাড়াতাড়ি পালিয়ে যাওয়া লোকটির নামে স্বীয় উদ্যোগে কোর্ট থেকে জামিন করিয়ে নেন এবং কাগজেপত্রে খালাস দেখিয়ে দেন। বিষয়টির সত্যতা কত দূর জানিনে, তবে জেলখানায় এসব কাহিনী বন্দীদের মুখে মুখে। যা রটে, তার কিছুটা হলেও সত্যিতো বটেই।

জেলখানায় নিরাপত্তা প্রহরী ছাড়া অন্য কোন স্টাফ নেই বললেই চলে। সকল কাজই চলে কয়েদিদের দ্বারা। সশ্রম দণ্ডপ্রাপ্ত কয়েদিদের বিভিন্ন কাজে দফাওয়ারী ভাগ দেয়া হয়। মাইকেল মধুসূদনের নিজস্ব কিছু শব্দকে যেমন বলা হতো মাইকেলী শব্দ, তেমনি জেলখানায়ও কিছু বিশেষ শব্দ চালু আছে

« <
/ 81
> »