মিয়াসাব যখন তৃপ্তির ঢেকুর তুলছে, তখনই চারদিক থেকে হৈ-হুল্লোড় আর দম ফাটানো হাসি। বিড়ালের চামড়ার ব্যাগটি সামনে এনে ধরতেই কুদ্দুস মিয়াসাবের অনর্গল বমি, মর মর অবস্থা। সেই থেকে কুদ্দুসকে দেখলেই আড়াল আবডাল হতে কেউ না কেউ ম্যাও শব্দে ডেকে উঠতো। আর কুদ্দুস তেলে-বেগুনে জ্বলে উঠতো। এইসব পল্টিবাজ মিয়াসাবদেরকে মুখ্যা ও কাউয়া বললে ভীষণ রকম ক্ষেপে যেতো।
দশ: কয়েদিদের জীবনকথা
জেলখানার বদ্ধভূমিতে যা দেখেছি সকলই আশ্চর্য ঠেকেছে। আগাগোড়া সকল কিছুতে দুর্নীতি আসন গেড়েছে শক্তভাবে। সবকিছুতেই দুর্নীতির মহামারী চলছে যেন। কম্বল থেকে পশম বাছাই করলে যেমন কম্বলের অস্তিত্ব থাকে না, তেমনি দুর্নীতির কথা বলতে গেলে জেলের ভিতর এমন কিছু পাওয়া যাবে না যাতে দুর্নীতির ভাইরাস ঢুকেনি। এতোসব দুর্নীতির প্রধান সহায়ক হলো বিভিন্ন মেয়াদে সাজাপ্রাপ্ত কয়েদিরা।
সীমাহীন অত্যাচার, নির্যাতনের পরও জেলখানা চলছে। কোথাও কোন স্থবিরতা নেই। করপোরেশন কিংবা সংস্থার মতো দুর্নীতির কারণে সার্বিক অবকাঠামো ভেঙ্গে পড়ার কোন সম্ভাবনা নেই। কারণ, জেলার থেকে শুরু করা জেল সিপাই পর্যন্ত সকলেই কয়েদিদের ঘাড়ের ওপর পা রেখে মজা লুটে যাচ্ছে। শাস্তি রেয়াতের প্রত্যাশায় দিন-রাত খেটেখুটে ওদের দুর্নীতির খেসারত দিয়ে যাচ্ছে অভাগা কয়েদিরা। ওদের সকলের চেয়ে বেশি পরিশ্রম, বেশি অসম্মান। ওরা বড়বাবুদের অপকর্মের বাহন। কর্তৃপক্ষের কেনা গোলাম। জেলখানা সংশোধনাগার হলেও কয়েদিদের মানুষ হবার কোন আয়োজন জেলে রাখা হয়নি। বড় সাহেবদের পদসেবা ও অর্থের যোগান দেয়ার জন্যই যেন আদালত ওদের শাস্তি দিয়েছে। শাস্তি মওকুফের বিষয়টিকে জেলের ভাষায় বলে মার্কা পাওয়া। মার্কা হারানোর ভয়ে কয়েদিরা এই দাসত্বকে আশীর্বাদ মনে করে মাথায় তুলে নিয়েছে।
জেল ট্রান্সফার বলে একটি বিষয় আছে। জেলের ভাষায় বলে চালান। কোন কয়েদি তার ব্যক্তিগত কারণে জেল ট্রান্সফার চাইতে পারেন। আবার কর্তৃপক্ষ যে কাউকে বাধ্যতামূলকভাবে চালান করে দিতে পারেন। এখানে সমস্যা উভয়মুখী। স্বেচ্ছায় জেল বদলের দরখাস্ত করবেন, টাকা না দিলে হাজার বছরেও পাস হবে না। আবার আপনার ইচ্ছার বিরুদ্ধে চালানের অর্ডার হয়েছে, টাকা না ঢাললে ফিরানোর কোনই বিকল্প পথ নেই। অর্থনৈতিকভাবে সচ্ছল কোন কয়েদি টাকার জোরে যদি কয়েদির পোষাক পড়তে না চান, তাও সম্ভব। যেমন- চৌদ্দ বছরের সাজাপ্রাপ্ত মি. খানকে কখনো কয়েদির পোষাক পরতে দেখিনি। যদি কেউ ভাল মানের কাপড় দিয়ে ইচ্ছামতো মাপ ও ডিজাইনের কয়েদি পোষাক বানিয়ে
