নতুন দালান। ওখানে থাকতো আমার কেইস পার্টনার বিশ্ববিদ্যালয়ের জুনিয়র সহকর্মী জুয়েল, সালাম, সংগ্রাম, বাবলু, আজিজ, কবির ও গাইবান্ধা জেলা ছাত্রদলের সভাপতি সোহেল। তিন তলার জানালা হতে ওদের দম ফাটানো ডাকাডাকি উপেক্ষা করতে না পেলে সন্তর্পনে হাজির হলাম নতুন দালানের ফটকে। জেলখানায় নিজের ভবন ছাড়া অন্যত্র চলাচলের বিধান নেই। নিয়মের এই বিধান পালিত হয়েছে, এমন দৃষ্টান্তও বোধ করি নেই।
শিশির স্নিগ্ধ শীতের সকাল। বাতাসে বসন্তের আগমনী গান। পূর্ব দিগন্তের লালাভ সূর্যরশ্মি সবেমাত্র দিগন্ত বিস্তৃত করে একটি চমৎকার দিনের সূচনা করেছে। ফটকের সামনে দাঁড়িয়ে দূরের নিরাপত্তা চৌকির দিকে তাকিয়ে অবচেতন মনে কি যেন ভাবছিলাম। চৈতন্য ঘটলো তখন, যখন নতুন দালানের ইনচার্জ মিয়াসাব হারুন মিয়া হাতের বেত্র দণ্ড আমার পৃষ্ঠদেশে ঠেকায়ে হালকা গুঁতো মেরে উচ্চস্বরে বলে উঠলো, ‘এই তুই কেরে?’ কথাটা এমন বেয়াড়া ও বিশ্রী শুনালো যে, উপস্থিত সহকর্মীরা লজ্জায় মুখ নত করে ছি ছি করতে লাগলো। আর বাকিরা চোখ টিপে দাঁত বের করে হো হো হাসতে লাগলো। আর আমি লজ্জা শরমের অপ্রতিভ ভাবটা কাটিয়ে উঠে হাসি মুখে বললাম, “তা ভাই এই তুই তোকারী করার বদ-অভ্যাসটা কি জেল কোডেই লেখা আছে? অবস্থা বেগতিক দেখে, মিয়াসাব মিহি সুরে বললো, “এইড্যা কিছু না। দেখেন না, ইংরাজীতে তুই, তুমি আপনি সব কয়টার জন্য ‘ইউ’ বললেই চলে। জাতি ও ভাষাভেদে সম্বোধন সংস্কৃতিরও যে ভিন্নতা আছে, বয়স, শিক্ষা ও বিত্ত-বৈভব যে কখনো কখনো সম্বোধনে ভিন্নতা আনে সেটা বোঝার মতো শিক্ষা ওদের নেই। একথা মনে করে, বসমুতি যেমন তার অন্তরের দুর্জয় অগ্নুৎপাত সহ্য করে, ঠিক তেমনি অবিচলিত মুখে সমস্ত সহ্য করে সন্তর্পনে দশ সেলে ফিরে এলাম।
মিয়াসাব বাহাদুরের নাম কুদ্দুস। সবাই ডাকতো ব্রিগেডিয়ার কুদ্দুস বলে। অকারণ হুমকি-ধমকি ও অনিয়ন্ত্রিত চলন-বলনের জন্যই নাকি ওর এর এই অদ্ভুত নামকরণ হয়েছিল। ভারী ভোজন বিলাসী। মুখরোচক খাবার দেখলে ওর মাথা ঠিক থাকে না। ওর আরজি আবদারে সকলে ত্যক্ত-বিরক্ত। সেল এলাকায় বন্দীদের একটা ঐকমত্য হলো, কুদ্দুসকে কি করে হেনস্তা করা যায়। মিরপুরের ডাকাতি মামলার আসামী আক্তার তখন থাকে বিশ সেলে। সিদ্ধান্ত মতো, আক্তার বিড়াল জবাই করে রান্নাবান্না করে চামড়া রেখে দিল পলিথিনের ব্যাগে। ব্রিগেডিয়ার কুদ্দসের ডিউটি। নীরব হোটেলের পরাটা-মাংস মনে করে, পেট পুরে খেয়ে
