ভাল, এই খারাপ। এরা না থাকলেও চলে না, থাকলেও উৎপাত। কারাগারে এমন কোন অনিয়ম, দুর্নীতি নেই যার সাথে মিয়াসাবদের যোগসূত্র খুঁজে পাওয়া যাবে না। ওদেরও কিছু সুখ-দুঃখের বিষয় আছে। মিয়াসাবদের চাকুরিকে বলা হয় কচু পাতার পানি। এই আছে, এই নাই। উপরওয়ালার রিপোর্ট হলেই চাকুরি নিয়ে টানাটানি। অবশ্য যতো কঠিন নিয়ম-কানুন ওদের পয়সার আমদানি ততো বেশি। ডিটেনশন, দেখাসাক্ষাৎ বন্ধ, যোগাযোগের উপযুক্ত বাহক পাওয়া যাচ্ছে না-ডাক গাড়ির সাহায্য নিন। মুশকিল আসান। বিশ টাকা ধরিয়ে দিয়ে টেলিফোন নম্বর দিয়ে দিবেন। যথাযথ ম্যাসেজটি পৌঁছে দিয়ে পরদিন ফলোআপ সংবাদটা আপনাকে জানিয়ে যাবে। ঢাকা শহরে কাউকে চিঠি দেওয়ার দরকার হলে ভাড়ার সাথে বাড়তি একশ টাকা দিবেন, চিঠি নির্ভুল জায়গায় সঠিক ব্যক্তির হাতে পৌছে যাবে। অন্ততঃ আমাদের জিপিওওয়ালাদের লক্করঝক্কর মার্কা গ্যারান্টেড মাধ্যমের চাইতে এই ডাকগাড়ির গতি ও নিশ্চয়তা যে বেশি, এতে জেল খাটিয়ে যে কেউ আমার সাথে দ্বিমত পোষণ করবেন না। মুশকিলও আছে। ছাড়া পাওয়ার পর দেখবেন কদ্দিন বাদে বাদেই মিয়াসাব যেয়ে আপনার বাসা বাড়িতে হাজির; বকশিশ চাই। নগদ টাকা-পয়সা রাখা সমস্যা, মিয়া ব্যাংকের সাহায্য নিন। সার্ভিস চার্জ দিলে মিয়াসাবরা সযতনে আপনার অর্থ গচ্ছিত রাখার নিরাপদ ব্যাংক হিসাবে ব্যবহৃত হবে। জেলখানার ছোটখাটো সকল অনিয়মের সাথে সম্পৃক্ত থাকে এই জেল সিপাইরা। প্রত্যেক ভবনের গেইটে গেইটে ডিউটিরত মিয়াসাবকে একশলা করে সিগারেট ধরিয়ে দিলে নিয়মের তোয়াক্কা না করে আপনি পুরা জেল চত্বর ঘুরে বেড়াতে পারবেন। জেল কোডের বিধান মতে, তিনটির বেশি মামলা থাকলে ডান্ডাবেড়ি পরতে হবে। ওখানেও দুর্নীতি। পর্যাপ্ত টাকা ঢাললে ডাণ্ডাবেড়ির বালাই নেই। মওলভী ফরিদ আহমদ তার ‘কারাগারের সাতাইশ দিন’ বইয়ে মিয়াসাবদের কথা লিখতে গিয়ে বলেছেন, “ওরা সবকিছুতেই দোষ দেখতে পায়। তা ছাড়া নিজের কর্তব্যের সীমা কতখানি বুঝতে না পেরে প্রায়ই সীমা লঙ্ঘন করে থাকে”। বর্ষিয়ান নেতা পংকজ ভট্টাচার্য তার কারা স্মৃতিতে বলেছেন, “কারাগারে কাউকে চারটি কলা দেয়া হলে পুলিশ তিনটে খেয়ে একটি পৌছে দিবে”।
সকল সিপাই একই ধাঁচের, এমন কথাও ঠিক নয়। রাজনৈতিক কর্মী বলে, ভালবেসে আমাদের জন্য নিজ বাড়ি থেকে পিঠা চিড়া তৈরী করে এনেছেন এবং চাকুরি হারানোর ভয়কে উপেক্ষা করে বিনা লাভে আমাদের কাজকর্ম করে দিয়েছেন এমন মিয়াসাবের নজিরও আছে। শহীদ মিয়াসাবের ডিউটি পড়লে তো ঐ
