জেলখানার দিনগুলি

« <
/ 81
> »

যতোধিক অবৈধ মালামাল ওরা ততোধিক মাত্রায় খুশি। নিষিদ্ধ মালপত্রের উপর নজর পড়া মাত্রই ওদের দৃষ্টি নিবদ্ধ হবে মালওয়ালার পকেটের উপরে। সে কি স্থির চাওয়া, যেন হাজার বছরের কোন অনাহারী কামুকের ঈন্সিত চাওনি পড়েছে পূর্ণ যৌবনা কোন ষোড়শীর উপর। প্রত্যাশার সাথে প্রাপ্তির মিল ঘটলে, অপ্রয়োজনীয় সালাম ও মাত্রাতিরিক্ত আদব-কায়দা ও তোয়াজের অন্ত থাকবে না। অবৈধ মাল না এনেছেন তো আরেক যন্ত্রণা। শুরু হবে, ভদ্র-অভদ্র শ্রেণী নির্বিশেষে অন্তর্বাস হাতানোর একটা বেকায়দা রকম উৎপাত। কথিত আছে, আদালতে ফাঁসির আদেশ শুনে উন্মত্ত কান্নায় ভেঙে পড়া বিষণ্ণ কোন আসামীও গেইট মিয়াসাবের বিশ টাকা না দিয়ে ঢুকতে পারেনি।

স্থান ভেদে জেলে প্রহরীদের আচরণের ভিন্নতা লক্ষণীয়। খাতায় মিয়াসাবদের সে কি ভয়ংকর দৌরাত্ম্য। গড়পড়তা বন্দীদের আবাস খাতা এলাকায় মিয়াসাবদের হুমকি-ধমকি দেখলে মনে হবে, ওরা একেকজন মেজর জেনারেল। অল্প শিক্ষিত এসব মিয়াসাবরা অজ্ঞানতাবশতঃ প্রায়শই নিজের কর্তব্যের সীমানা লংঘন করে। এদের মেজাজ মর্জিও কাজ করে উল্টো পথে। সেল এলাকায় মিয়াসাবরা দরজার সামনে দাঁড়ালেই চা-সিগারেট ও ফলফলারী দিয়ে আপ্যায়নের রেওয়াজ আছে। ফলে, খাতার এলাকায় ডিউটি পড়লে এমনিতেই ওদের মেজাজ থাকে চড়া। পান থেকে চুন খসলেই নগদে মাইর ও putup ভীতি। খাতার ম্যাট-পাহারার সাথে মিয়াসাবদের একটা হটলাইন থাকে। কর্তব্য পালন কালে, সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে এদের মেজাজ থাকে বেঠিক। গাঞ্জা-ভাং, হিরোইন, মারামারি, কাটাকাটির কেইস ধরতে না পারলে উৎকোচ জুটে না। ফলে, মর্জি থাকে সারাক্ষণ তিরিক্ষি। উচ্ছন্নে যাওয়া বখাটে কিশোর যেমন রাস্তায় চলতে অকারণে বাঁশের কঞ্চি হাতে রাস্তার দুধারের লতাপাতা মাড়িয়ে চলতে পছন্দ করে তেমনি খাতা এলাকায় মিয়াসাবদের দুই হাত লম্বা বেতের লাঠি বিনাকারণেই নিরীহ বন্দীদের পিঠের চামড়া দুমড়িয়ে মুচড়িয়ে চলে। সেল এলাকায় অনিচ্ছায় আচরণ সংযত রাখলেও জিহ্বাটা থাকে একটু বেশি মাত্রায় বাড়তি। ডিউটি শেষে নগদ প্রাপ্তির রেওয়াজ আছে বলে অনুশাসনের চাইতে আনুগত্য প্রদর্শনেই ব্যস্ত থাকে বেশি। এরা বড়লোকের বাহন, নিরীহের দুশমন। সন্ধ্যায় লকআপের সময় বদলি আসতেই বিদায়ী মিয়াসাবের লম্বা সালাম। বিশ টাকা রেডি চাই। মধ্যাহ্ন-অব্দি যদি স্বজনের সাথে দেখাসাক্ষাৎ করতে দেখার গেইটে গিয়ে থাকেন তা হলে দুপুরে বদলিওয়ালার পাওনা হল বিশ টাকা। তবে দিনের বেলায় এদের উৎপাত কম থাকে। রাতে মনে হয়, মিয়াসাবদের চা-সিগারেটের যোগান দেয়ার জন্যই যেন আমরা জেলে আছি। দিনের ডিউটি

« <
/ 81
> »