জেলখানার দিনগুলি

« <
/ 81
> »

টাকা খরচ করলেই ভাত কিনে নিতে পারেন। মোট কথা, কিছুই নেই আবার কোন কিছুর অভাবও নেই। জেলখানার খাবার দাবার নিয়ে মওলভী ফরিদ আহমদ লিখেছেন, “জেলে যে খাবার দেয়া হয় তা মানুষের খাওয়ার উপযুক্ত নয়। মানুষ তা খেয়ে মরতে পারে না তাই বেঁচে থাকে। আইনতঃ এদের ভাগ্যে আছে অনেক কিছু কিন্তু কার্যতঃ পাওয়া যায় কোথায়? যেখানে মুক্ত আযাদ মানুষ নিজেদের অধিকার থেকে বঞ্চিত, সেখানে বন্দী মানুষ যাদের সমাজের গণ্ডির বাইরে এনে রাখা হয়েছে, তাদের অধিকারের নিরাপত্তা কোথায়?”

বড় চৌকার বাবুর্চিদের প্রতিদিন রোজগার প্রায় ৪০০ টাকা। সোলেমান নামে যাবজ্জীবন সাজার এক আসামী পানি টানার কাজ করতো ১০ নং সেলে। জেলে পানি টানাওয়ালাদের বলে জলভরি। জলভরি সোলেমান আগে বড় চৌকার বাবুর্চি ছিল। কথায় কথায় বলল-এক লাখ টাকা বাড়িতে পাঠিয়েছে বউয়ের কাছে। বাকি টাকা জুয়া খেলে ও নেশা করে উড়িয়েছে। ভাগাভাগির গণ্ডগোলে চৌকার ইনচার্জ মিয়াসাহেবের রিপোর্টে সোলেমান বাবুর্চিগিরির কাজ হারিয়েছে। বউয়ের কাছে ৫ হাজার টাকা চেয়ে পাঠিয়েছে। ঘুষ দিয়ে আবার চৌকায় কাজ নেবে।

নয়: মিয়াসাব উপাখ্যান

জেলখানার কথকতা লিখতে গেলে, মিয়াসাব নামের জেল সিপাইদের কথা না বললে অনেক কিছুই না বলা থেকে যায়। কারাগারের নিরাপত্তা প্রহরীদের এই অদ্ভুত নামকরণ কবে প্রথম চালু হয়েছিল তার সঠিক ধারণা পাওয়া মুশকিল। তবে মিয়াসাবদের অদ্ভুত ও কিম্ভুতকিমাকার কর্মকাণ্ড উপভোগ করার দুর্ভাগ্য যাদের হয়েছে, তারা বিনা বিতর্কে বলবেন-নামকরণটি যখনই হোক, যেভাবেই হোক-যথার্থ হয়েছে। কথিত আছে, পাক আমলে শেখ মুজিবর রহমান নাকি রসিকতা করে সিপাইদেরকে এই নামে ডাকতে শুরু করেন। সেই থেকে জেল প্রহরীরা তাদের নতুন নামকরণের যথার্থতার প্রমাণ রেখে যুগ যুগ ধরে বন্দীদের বারোটা বাজানোর কর্মটি সুনিপুণভাবেই সেরে যাচ্ছে। জেল গেইটে পা দিয়েছেন তো মরেছেন। একে তো বন্দীদশা, উপরন্তু এইসব মিয়াসাবদের উৎপীড়ন, নিপীড়ন, নির্যাতনে জীবন প্রদীপ নির্বাপিত না হলেও প্রদীপালোকের উজ্জ্বল আলোকমালা ক’দিনের মধ্যেই নিবু নিবু মাটির পিদিম শিখায় পরিণত হতে বাধ্য। এ আমার ঔৎসুক নয়নের সৃষ্টি ছাড়া অতিকথা নয়। হতভাগ্য বন্দীদের জীবনমানের ইতিকথা মাত্র। তবে সৌভাগ্য এই, ওদের চাহিদা কম, ওরা অল্পেতে তুষ্ট, দশ টাকায় সন্তুষ্ট।

সাক্ষাৎকার গেইটে বন্দীদের ব্যক্তিগত মালামাল গ্রহণ ও নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বে নিয়োজিত প্রহরীদের যতোসব আজগুবি কাজকারবার। বৈধ মালামাল দেখলেই ওদের গা জ্বালা ধরে যায়।

« <
/ 81
> »