যাদের সঙ্গতি আছে তারা হয়তো কোন না কোন উপায়ে ভিন্নতর খাবারের ব্যবস্থা করতে পারেন। কিন্তু নিরীহ বন্দীদের মরণ তিন বেলাতেই।
জেলে বন্দীদের খাবার চুরি হয়ে যায় ঘাটে ঘাটে। জেলের রন্ধনশালা (বড় চৌকা) হলো খাবার চুরির আখড়া। কি অদ্ভুত ব্যাপার আমার চুরি হয়ে যাওয়া খাবারের ক্রেতা আমি নিজেই। খাবার সরবরাহের দায়িত্বে নিয়োজিত ম্যাট-পাহারাকে দশ টাকা করে ধরিয়ে দিলে প্রতি বেলাতেই বরাদ্দের ডবল-খানা মিলবে। জেলখানায় সবচেয়ে চড়া দামে বিক্রি হয়-পিঁয়াজ, মরিচ ও ডিম। একটা পিয়াজ ও একটা মরিচের দাম পাঁচ টাকা। একটা ডিমের দাম দশ টাকা। মাছ-মাংস যেদিন থাকে সে দিনকে বলা হয় ডাইটের দিন। এক ডাইট মাছ পাঁচ টাকা এবং এক ডাইট মাংস দশ টাকা। বিদেশী ওয়ার্ডের খাবার খেতে চান, কোন অসুবিধা নেই। বিদেশী ওয়ার্ডের এক বক্স ভাজির দাম ৫০ টাকা। বিদেশী বন্দীদের উপর কৃতপক্ষের নজরদারি কম বিধায় কিছু আফ্রিকান নিগ্রো কয়েদিদেরকে দেখেছি সারা জেল ঘুরে খাবারের অর্ডার নিয়ে বেড়ায়। ওদের জন্য পাকঘর আলাদা। কড়াকড়িও কম। এই সুযোগে খাবার বিক্রি করে যে বাড়তি আয় হয় তাতে ওদের বিড়ি সিগারেটের খরচ চলে। বিদেশীদের জন্য বরাদ্দকৃত খাবারের মান অতোটা ভাল না হলেও খাবারের অযোগ্য নয়। তবে, সঙ্গতি আছে এমন বন্দিদের নজর ডিভিশন সেলের খাবারের উপর।
প্রয়োজনীয় রুট খরচ অগ্রিম দেয়া থাকলে নিয়মিত সরবরাহ পাওয়া যায়। বাকিতে খাবার সরবরাহেরও রেওয়াজ আছে। যারা ফাইলের খাওন মোটেই খেতে পারেন না, তারা মেডিকেলের ডাক্তারের আর্দালির সাথে কথা বলে ৫০ টাকা হপ্তা মেডিকেল ডাইটের ব্যবস্থা করে নিতে পারেন।
এই নিষ্করুন অনহার-অনাচার ও দুর্বিনীত পদাঘাতের দুর্বিষহ বেদনা সওয়ার পরও জেল ফেরত মানুষগুলো মোটা-তাজা থাকে কি করে তাই নিয়ে অনেক ভেবেছি। পরবর্তীতে নিজের বন্দী-ক্লিষ্ট জীবন নিয়ে অনুধাবন করেছি। এ কোন বিশেষ ভাইটামিন এর অনুদান নয়, দুইবেলা ভাতের ফেন মেশানো খেসারির ডালের শরীরের জল ধরিয়ে দেয়ার কেরামতি মাত্র। এতদিন জেনেছি। মোটা-তাজা করনের এই ফমূর্লা পোলট্রি ফার্মের জন্তু-জানোয়ারের উপর চলে থাকে। গরু মোটা-তাজা করনের এহেন ফর্মুলা বন্দীদের উপর যেমন করে প্রয়োগ হচ্ছে, নিজের চোখে না দেখলে তা বিশ্বাস করা কঠিন।
আরেকটু বাড়তি খরচ করলে চৌকাতে আপনার জন্য আলাদা রান্নার ব্যবস্থা হয়ে যাবে। তুলনামূলকভাবে ভাতের দাম সস্তা। যেদিন দুপুরে রুটি থাকে সেদিন ৫
